মহিলাদের ক্ষমতায়ন নিয়ে আরবানার মঞ্চে জমজমাট আলোচনা

চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়

যাত্রা শুরু করল শিখা সিং মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন। অ্যানেক্স কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শিখা সিং এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণে বরণে হয়ে গেল একটি অনুষ্ঠান।অকালপ্রয়াত শিখা সিং এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে আলোচনাসভা এবং সমাজসেবার লক্ষ্যে শিখা সিং ফাউন্ডেশনের উদ্বোধন। আরবানায় বসেছিল চাঁদের হাট। কে ছিলেন না, অগ্নিমিত্রা পাল, দেবযানী মুখোপাধ্যায়,

অলকানন্দা রায়, বিকাশ কুমার সিং, কে জে রাও, কুণাল ঘোষ, ছিলেন মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার এবং অন্যরাও। সবমিলিয়ে এদিনের অনুষ্ঠান ছিল জমজমাট। বিকাশ সিং এর উদ্যোগে শুরু হল ফাউন্ডেশনের কাজ। করা হল বৃদ্ধাশ্রম ও অনাথ আশ্রমের ঘোষণা। স্কুল যাতায়াতের জন্য ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল দান। আরও বেশ কিছু কর্মসূচি।
শিখা সিং যেভাবে, যে কঠিন সাধনায় একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন, সেই কর্মযজ্ঞকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান তাঁরা।

আলোচনার বিষয় ছিল ‘একজন মহিলা যদি সাফল্য পান তবে সবাই সাফল্য পাবেন’। নৃত্যশিল্পী অলকানন্দা রায় প্রথমেই মনে করিয়ে দিলেন তৃতীয় ট্রান্সজেন্ডারদের কথা।তিনি বলেন, আমাদের একটাই পরিচয়, আমরা মানুষ। সেখানে প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় এভাবে কোনও জেন্ডার ভাগ করাকে তিনি মান্যতা দেন না। তাঁর কথায়, মায়েরাই অনুপ্রেরণা। মায়েরা যা পারে, যা সাফল্য মায়েদের হাত ধরে আসে, সে সাফল্য সবার হাত ধরে আসতে বাধ্য। তাই মনে করিয়ে দেন যে, আমরা ভারতমাতা বলি, বলি না ভারত পিতা।

বিশিষ্ট অভিনেতা তথা পরিচালক অরিন্দম শীল এই আলোচনায় অংশ নেন।তিনি স্মৃতি রোমন্থন করে ফিরে গেলেন তার ফেলে আসা দিনগুলিতে। তাঁর স্পষ্ট কথা, মায়ের কাছে তিনি প্রথম শিখেছিলেন কিভাবে সাফল্য পেতে হয়। সেই চেনা ছকে আজও তিনি এগিয়ে চলেছেন। তিনি বলেন, একজন পুরুষ বাড়ি ফেরার পর যেভাবে সময় কাটান, নিজের জন্য সময় দেন, সত্যিই কি কোনও মহিলা সেই সুযোগ পান? তাহলে কেন আমরা বলব না একজন মহিলা যদি সাফল্য পান তাহলে সবাই সাফল্য পাবে।

প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, আজ যে সাফল্যের শিখরে তিনি পৌঁছেছেন তার নেপথ্যে আছেন তার মা। মা কখনও ভাবেননি, তিনি সেসময় যা বলেছেন সেটাই আগামী দিনের সাফল্যের চাবিকাঠি হবে। সেই চেনা দেখানো পথে হেঁটেই আজ তিনি প্রতিষ্ঠিত।তাঁর মা কখনও আমেরিকা যাননি, কিন্তু আমেরিকা পৌঁছে গেলে কিভাবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর পথকে মসৃণ করা যায় তা তিনি শিখেছেন তাঁর মায়ের কাছে।

কর্পোরেট দুনিয়ার শীর্ষ পদে থাকা আরবানা-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দেবযানী মুখোপাধ্যায়ও স্বীকার করে নেন, তাঁর সাফল্যের নেপথ্যে আছেন মা। যদিও তার চলার পথটা যতটা মসৃণ মনে হচ্ছে তা ছিল না। তবুও আজ তিনি সাফল্য পেয়েছেন সেটা প্রতি মূহুর্তে মালুম পান, যখন নিজের দফতরে কাজের মধ্যে থাকেন।

অ্যানেক্স কলেজের এমডি বিকাশ কুমার সিং এই আলোচনায় বারবার ফিরে যান তার মায়ের কথায়। স্মৃতি রোমন্থনে জানান, কিভাবে তার মা 28 বছর আগে একটি প্রতিষ্ঠানের সূচনা করেছিলেন। তাঁর মা একটি শ্রদ্ধার জায়গা মানুষের মনে তৈরি করেছেন সে কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ফের বলেন, যেভাবে আমার মা মানুষের পাশে ছিল, আমরাও সেই পথেই মানুষের পাশে থাকতে চাই। মায়ের সাফল্য আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। তাই আমরা আজ শপথ নিচ্ছি, মায়ের দেখানো স্বপ্নকে সফল করার জন্য যা যা করা দরকার আমরা চেষ্টা করব।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন উপদেষ্টা কে জে রাও বলেন, প্রয়াত শিখা সিং ছিলেন তাঁর দিদির মতো। এই প্রবীণ মানুষটি এই আলোচনায় অংশ নিয়ে স্মরণ করিয়ে দিলেন, প্রত্যেক বছর রাখি বাঁধতে ভুলতেন শিখা সিং। তাঁর দেখানো পথ, তাঁর পরিশ্রম, তাঁর মেধা তাঁকে সাফল্য পেতে সাহায্য করেছিল।

ছাত্রীদের সংস্থার পক্ষ থেকে সাইকেল দেওয়ার পাশাপাশি একটি দু:স্থ মেধাবী ছাত্রকে পড়াশোনার জন্য, তার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে চেক। এছাড়াও অ্যনেক্স কলেজের এমডি বিকাশ কুমার সিং বলেন, পরিস্রুত পানীয় জলের অভাব একটা বড় সমস্যা আমাদের কাছে। তাই তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় সার্ভে করে দেখে আপাতত তিনটি জেলা পরিস্রুত পানীয় জলের মেশিন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে যেমন স্থান পেয়েছে সোনারপুর আবার স্থান পেয়েছে মুর্শিদাবাদ বহরমপুরের বিস্তীর্ণ এলাকা।

এদিন শিখা সিং ফাউন্ডেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রাক্তন জাঁদরেল পর্যবেক্ষক কে জে রাও-এর বায়োগ্রাফি- “দ্য কোবরা ডান্সার” লেখক স্বযং তুলে দেন সাংবাদিক কুণাল ঘোষের হাতে।সবমিলিয়ে আগামী দিনে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গিকার নিয়েই শেষ হয় এই মনোজ্ঞ অনুষ্ঠান।