বাঙালিরা কি আবারও “ঐতিহাসিক ভুলে”র শিকার হতে পারেন? মনোজ ঘোষের কলম

মনোজ ঘোষ

এক নতুন ভয় বা আতঙ্ক কয়েকদিন ধরে আমাকে গ্রাস করছে। পশ্চিমবঙ্গ তথা “বঙ্গবাসী” হিসাবে আমরা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট সচেতন।

সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই “বাংলা” র বৃহত্তম শক্তি তৃণমূল কংগ্রেস, একুশে জুলাই শহিদ দিবস উদযাপন করেছে। আর সেই দিনটির দিকেই রাজনীতি সচেতন মানুষরা গভীর আগ্রহে তাকিয়ে ছিলেন। কারণ, লোকসভা নির্বাচনের আগে বৃহত্তম শক্তির সুপ্রিমো মাননীয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ভাষণে বললেন, বাংলায় 42 টি লোকসভা আসনের মধ্যে 42টিই চাই। এতে একটা বার্তা স্পষ্ট, ফেডারেল ফ্রন্ট নামক যে ফ্রন্ট তিনি তৈরি করতে চেয়েছেন, তাতে যে “বাংলা”র কংগ্রেস বা বামফ্রন্ট নেই তা স্পষ্ট। আর ভয়টা ঠিক এখানেই।

তৃণমূল কংগ্রেস 42 এ 42 হবে কিনা সেটাতো ভবিষ্যতই বলবে। ধরে নেওয়া যাক 42 এর কাছাকাছি লোকসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেস জয়লাভ করল, তাতে কোনও কারণে এনডিএ-কে পিছনে ফেলে নেত্রীর তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা ফেডারেল ফ্রন্ট কান ঘেঁষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জায়গায় পৌঁছাল। এবং ওই ফেডারেল ফ্রন্ট সরকার গঠনের জায়গায় পৌঁছে গেল। তখনই গোলটা বাঁধবে। প্রধানমন্ত্রীর আসনটি কে পাবে।

যদি এই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী পদের দাবিদার, অনেকেই মেনে নিচ্ছেন কিন্তু কয়েকজন তার মধ্যে বাংলার কংগ্রেসের বা সিপিএমের প্রতিনিধি তারা কোনও মতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মানতে রাজি নয়‌। শেষে দেখা গেল, সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যা ঘটেছিল জীবিতবস্থায় কমরেড জ্যোতি বসুর সময়কালে। অর্থাৎ তখনকার জ্যোতি বসুর কথা অনুযায়ী ঐতিহাসিক ভুল, যা আজও বাংলার মানুষকে তাড়িয়ে বেড়ায়। তাই আতঙ্ক এটাই যদি সুযোগ হয় বা আসে এই প্রথম কোনও বাঙালি প্রধানমন্ত্রী হচ্ছে, তাহলে কি বাঙালিরা আবারও একবার সেই ঐতিহাসিক ভুলের শিকার হবে?