জনতার ঢল, প্রথম মনোনয়ন দিয়ে মোহনবাগানে ভোট জমিয়ে দিলেন কুণালরা

এসবিবি: মঙ্গলবার দুপুর। মোহনবাগান নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। টানটান অপেক্ষা, মনোনয়ন জমা দিতে আসবেন প্রার্থীরা। মেঘলা আকাশ। বৃষ্টি একটু কমেছে।

দুপুর সওয়া দুটো। ক্লাবের সামনে দাঁড়ালো বিশাল কনভয়। পরপর গাড়ি, ম্যাটাডোর। ভোটের ঢাকে কাঠি দিয়ে প্রবল শ্লোগানের মধ্যে কয়েকশ সমর্থক নিয়ে ঢুকলেন প্রাক্তন সাংসদ কুণাল ঘোষ। সঙ্গে আরও পাঁচ প্রার্থী। হইহই করে মাতোয়ারা সঙ্গী সদস্য সমর্থকরা।

প্রথম মনোনয়নটি দিলেন কুণাল। তারপর অম্লানজ্যোতি মুখার্জি, অলোকেশ গাঙ্গুলি, সঞ্জয় মিশ্র, নিশীথ পাত্র, দেবাশিস চ্যাটার্জি। তাঁবু তখন তাঁদের সমর্থকদের ভিড় আর শ্লোগানে কাঁপছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কুণাল বলেন,” আমরা টুটুদা-অঞ্জনদা ঐক্যের পক্ষে। মনোনয়ন প্রত্যাহার পর্যন্ত সময় আছে। তাঁরা বসে মেটান। আমরা প্রতিবন্ধক হবো না। কিন্তু ভোট যদি হয়, আমরা লড়ব এবং জিতব।”
কুণাল বলেন,” আমরা 22 জনই আছি। 6 জন এখানে দিলাম। আর 16 জন আছেন বাকিদের প্যানেলের মধ্যে। ভোটের পর দেখবেন কী হয়। হয় টুটুদা-অঞ্জনদারা মেটান। নইলে ভোট হবে। আমরা যেদিকে, তারাই জিতবে।”
কুণাল বলেন,” ক্যান্টিন সারাবো বা বাথরুম সারাবো, এটা কোনো প্রতিশ্রুতি হতে পারে না। এটা তো কর্তব্য। আমরা মোহনবাগানকে শুধু ভারত নয়, বিশ্বজুড়ে নবআঙ্গিকে তুলে ধরার পরিকল্পনা নিচ্ছি।”

সৌরভ গাঙ্গুলি যে টুটু বোসের পক্ষে ভোটপ্রচারে নেমেছেন, সে সম্পর্কে কুণাল বলেন,” উনি শ্রেষ্ঠ ক্রিকেটার। আমরা ওঁর ভক্ত। কিন্তু যে বা যারা মোহনবাগানের দরকারে থাকেন নি, আইএসএলে এটিকে নিয়ে মেতে থাকেন, মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের আইএসএলে খেলার সমর্থনে আওয়াজ তোলেন না, তেমন কোনো ব্যক্তি মোহনবাগানের গোষ্ঠীবিন্যাসেনা ঢোকাই ভালো। আমরা এখনও টুটুদা-অঞ্জনদার ঐক্য চাই। কেন সেসবের পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে? এটিকে মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা যখন বলেছিলেন কলকাতার একমাত্র ক্লাব এটিকে, তখন কেন প্রতিবাদ করেননি সৌরভ? আজ মোহনবাগানের ভোটে কেন ঢুকলেন? এঁদের অগ্রাধিকার মোহনবাগান নয়। সদস্যরা বিচার করবেন।”

সমর্থকদের নিয়ে নিজেই শ্লোগান তোলেন কুণাল: আমরা কারা? মোহনবাগান। বিশ্বজুড়ে: মোহনবাগান।”
এদিন সকালেই ফেস বুকে ছবি পোস্ট করেন কুণাল। 1987। মোহনবাগান মাঠে পালতোলা নৌকো হাতে সবান্ধব কুণাল। তিনি লিখেছেন,” এদের মধ্যে থেকে আজ মনোনয়ন দেব আমরা।শুধু দুই পরিবার নয়, তার বাইরেও মোহনবাগান সমর্থকরা আছেন।”

অপ্রত্যাশিত চমক দিয়ে ভোটবাজার উত্তাপ ছড়িয়ে কুণালরা বেরিয়ে যাওয়ার পর টুটু বোস, অঞ্জন মিত্র শিবিরও প্রচুর সমর্থক এসে মনোনয়ন জমা করেন। আগামী 30 সেপ্টেম্বর স্ক্রুটিনি হবে। ভোট 28 অক্টোবর। টুটু বোস ও অঞ্জন মিত্র শিবিরও বলেন তাঁদের প্যানেল জিততে চলেছে। তবে, এঁদের প্রত্যাশিত লড়াইয়ের মধ্যে “মোহনবাগান ঐক্য মঞ্চে”র তরফে কুণাল ঘোষরা আসরে নামায় পরিস্থিতি নাটকীয় মোড় নিয়েছে। কার বিরুদ্ধে কে প্রার্থী হলেন, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।