পরকীয়া রায়, পরিবারের প্রতি আমাদের দায়িত্ব বাড়িয়ে দিল

পার্থ প্রতিম বিশ্বাস

পরকীয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর আমার মনে হয়, পরিবারের প্রতি আমাদের দায়িত্বটা আরও বেড়ে গেল। এবার থেকে প্রতিনিয়ত আমাদের প্রমাণ করতে হবে, স্বাধীনতা থাকা স্বত্তেও আমরা কখনই শৃঙ্খলহীন হইনা বা হব না। আমরা শৃঙ্খলাবদ্ধ হয়েই আগের মতো জীবন কাটাব।

আসলে পরকীয়া একধরনের মানসিক অসুস্থতা। কারও কারও ক্ষেত্রে হয়ত এর প্রয়োজনও আছে কিন্তু সে সংখ্যা নগন্য। অধিকাংশের ক্ষেত্রেই এর কোনও দরকার বা প্রয়োজনীয়তা নেই। ভুললে চলবে না যে, আমরা প্রাচ্য সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। গান্ধীজী বলেছিলেন, ‘তোমার ঘরের পশ্চিমের জানালাটা খোলা রাখো। সে জানালা দিয়ে হাওয়া বাতাস আসুক কিন্তু লক্ষ্য রেখো, কখনই যেন খড়কুটো ভেসে এসে গায়ে না লাগে।’

আমাদের পশ্চিমের জানালা দিয়ে আসা আলো বাতাস আমরা কতটা গ্রহণ করতে পেরেছি সেটা অবশ্যই তর্কের বিষয় কিন্তু সে জানালা দিয়ে ভেসে আসা খড়কুটো যে আমাদের গায়ে এমনকি মনের সাথেও ভীষণভাবে মাখামাখি হয়ে গেছে, আশা করি তার প্রমাণ নতুন করে কাউকে দিতে হবে না।

জানি না সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের কোনও রেট্রোস্পেক্টিভ এফেক্ট দেওয়া হয়েছে কিনা! ওরকম কিছু বলা থাকলে মহাভারতের কর্ণ এবার থেকে আর কখনই সূতপুত্র হিসাবে গণ্য হবেন না। রামায়ন বা মহাভারতে এমন অসংখ্য চরিত্র আছে যাঁরা পরকীয়ার শিকার। আজ থেকে তাহলে তাদের সকলের মুক্তি।

এবারে ভারতীয় দণ্ডবিধির 394 ধারার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। আইন বদল হলে ওই ধারাটি রিপিলড অর্থাৎ বন্ধ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে অন্য অনেক ধারার ওপরও এই রায়ের প্রভাব পড়বে।

যাই হোক, আমি একটু অর্থোডক্স বা পুরানোপন্থী। আমি পরম্পরায় বিশ্বাস করি। তাই আজকের এই রায় আমার ওপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। আমি আজ থেকে আমার স্ত্রীর প্রতি, আমার ওপর তাঁর এত বছরের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতি, সর্বোপরি আমাদের সন্তানের প্রতি আরও বেশি দায়বদ্ধ হব। আমি আমার বাকি জীবন দিয়ে প্রমাণ করব, আমার পূর্বপুরুষদের যে রক্ত আজও আমার শরীরে প্রবাহমান তার মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার প্রশ্নে আমি একচুলও বিপথগামী হব না, দ্বিচারিতা করব না।