সিপিআইএমের স্টলে লিবারেশন নেতৃত্ব

সুদীপ সেনগুপ্ত

এইমাত্র বাড়ি ফিরলাম।
ইংরেজি নিয়মে আর একটা নতুন দিন শুরু হয়ে গিয়েছে।
সে যাক গিয়ে, আমাদের বাংলা নিয়মে এটা আজকেরই রাত।
নতুন দিন আসবে সকাল ৬ টার পর।
ইচ্ছে হচ্ছে,
এই রাত টাকে ধরে রেখে দেই।
আজকের দিনট যেন
শেষ না হয়ে যায়।

সকালেও ভাবিনি,
এত ঘটানাবহুল হবে আজকের দিনটি।
সকালে লক্ষ্য ছিল,
বুক স্টলের বই বিক্রীর ক্ষেত্রে
১ লাখের লক্ষ্যমাত্রা
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পার হয়ে যাওয়ার।
বিকালে কমরেড Nilotpal Basu আসবেন,
আড্ডার আসর বসবে বুক স্টলের সামনেই,
গত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি,
অসাধারণ জীবন্ত হয় এই আলোচনা।
দু, তিন ঘন্টা ধরে নিলুদার ধৈর্য ধরে
আমাদের সব প্রশ্নের জবাব দেওয়া,
জাতীয় রাজনীতির খুঁটিনাটি নিয়ে
তার চুলচেরা বিশ্লেষন,
সহজ স্বাভাবিক ভাষায়,
একের পর এক প্রশ্নের
বাউন্সারকে ফেস করা,
সত্যিই শিক্ষণীয়।

আজকেও নির্ধারিত সময়ের একটু আগেই
নীলুদা চলে এসেছিল স্টলে,
সকালে স্টল খোলার প্রায় সাথে সাথেই
লাখের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম হয়ে যায়,
বিকালেও প্রচুর মানুষের ভীড়,
বিশেষত Minhaz, Jayoti, Partha দা,
Russel, Debraya, সৌগত দা- সুকন্যাদি সহ বাকীদের উপস্থিতি বুঝিয়ে দিচ্ছিল,
আজকের বই বিক্রীর পরিমাণ
অন্যান্য দিনকেও ছাপিয়ে যাবে।

তাই বেশ ফুরফুরে মেজাজে শুরু হলো
আমাদের আড্ডার আসর,
চা আর চানাচুর সহযোগে,
নিলুদার সাথে।

আলোচনার মাঝপর্বে,
Sakyajit, Arka, Barnab, Utsav রা খবর দেয়,
আমাদের স্টলের সামনে করা AISA র স্টলে কমরেড দীপঙ্কর ভট্টাচার্য এসেছেন।

দেশব্যাপী বি জে পি বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন,
বামঐক্য গড়ে তোলা,
আগামী নির্বাচনে
এমন রণকৌশল গ্রহণ করা,
যাতে বি জে পি পরাজিত হয়,
বামেদের শক্তি বৃদ্ধি করা যায়,
এসব নিয়ে আলোচনার মাঝেই
শাক্য, উৎসব দের আমন্ত্রণে
কমরেড দীপঙ্কর ভট্টাচার্য,
কমরেড বাসুদেব বসু রা
এসে যোগ দিলেন আমাদের সাথে।

আর তারপর,
স্বভাবতই…
এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির
সাক্ষী থাকলাম আমরা সবাই।
নিলুদার পাশাপাশি, কমরেড দীপঙ্কর ভট্টাচার্য আলোচনায় অংশ নিলেন।
নতুন করে আবার কি করে
পথ চলা শুরু করা যায়,
যেখানে বামপন্থী পার্টি গুলো
একসাথে থাকতে পারে,
তার সাথেসাথেই,
দলিতদের ওপর, মহিলাদের ওপর আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই সংগঠিত করে,
আরো নতুন নতুন কত শক্তিকে
ঐক্যবদ্ধ করা যায়,
দেশজুড়ে স্বৈরাচার, মানুষ মারা অর্থনীতির বিরুদ্ধে লড়াই আরো কি করে জোরদার করা যায়,
একের পর এক ইস্যু
আলোচনায় উঠে এল অবলীলাক্রমে।
কখন যে প্রায় ৩ ঘন্টা সময় চলে গেলো
বোঝাই গেলো না।

বই এর স্টলে ঘুরতে ঘুরতে,
যখন আমরা সকলে
একফ্রেমে বন্দী হয়ে পড়লাম,
সত্যি সত্যিই এক আশ্চর্য অনুভূতির
জন্ম নিচ্ছিল আমাদের মন জুড়ে,
এভাবে, ঠিক এভাবেই যদি
হাতের পাঁচ আঙুল কে একজোট করে
মুঠি তৈরী করা যায়,
তবে যে কোন আক্রমণ রুখে দেওয়া সম্ভব!
শাসক শ্রেণী গুলোর বিরুদ্ধে,
জাত,ধর্ম,বর্ণে আমাদের ভাগ করে
মুনাফা লোটবার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে
একযোগে, একসাথে রুখে দাঁড়াক
ঐক্যবদ্ধ বামশক্তি।
এ লড়াই কঠিন লড়াই,
তবু এ লড়াই জিততে হবে।

আজ আমাদের যাদবপুর
হয়তবা খানিকটা বিনা প্রস্তুতিতে,
আচম্বিতেই এ লড়াই এর ক্ষেত্রভূমিতে প্রবেশ করলো মাথা উঁচু করেই।