সততার এই নজির আলিপুরদুয়ারই দেখাতে পারে…

রাতুল বিশ্বাস

রাতুল বিশ্বাস

হারাধন সূত্রধর ও তার স্ত্রী বন্ধন ব্যাঙ্ক থেকে নগদ কিছু অর্থ তুলে টোটোতে চাপেন। মোটা অঙ্কের সেই অর্থ ব্যাগে পোরেন, সাথে ব্যাগে রয়েছে দুজনের ভোটার,প্যান,আধার, এটিএম কার্ড। অসাবধানতাবশত দুজনই ব্যাগ রেখে নেমে পড়েন। ব্যাগ ছেড়ে নেমেছেন বুঝতে বুঝতেই টোটো চলে গিয়েছে। এত জরুরি সব নথি ও টাকা হারিয়ে দম্পতি দিশেহারা। হন্যে হয়ে ঘুরেও পাওয়া যায়নি টোটোকে। দিশেহারা হয়ে ছুটে আসেন আমাদের কাছে। পুলিশকে জানাই। ফেসবুকে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে টোটোচালক শৈলেশ সাহা হতদরিদ্র, এ যুগে মোবাইল ফোনটিও নেই(বুঝুন তাহলে)! ব্যাগটি খুলে সেও দিশেহারা হয়ে সবাইকে জানিয়েছেন ব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি নিয়ে। ব্যাগমালিককে পাওয়া যাক বা না যাক লোভ সম্বরন করে সেই ব্যাগ ফিরিয়ে দিতে তিনি সটান থানায় চলে গিয়ে আইসি জয়দেব ঘোষের হাতে তুলে দেন। জয়দেববাবু নিজেও এই সততা দেখে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যান। তিনি সেই টোটোচালককে পুলিশের পক্ষ থেকে সম্বর্ধনার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

এরই মধ্যে থানা থেকে ফোন পাই ব্যাগমালিকের সন্ধান চেয়ে। ফেসবুকের শেয়ার পোস্ট দেখে ব্যাগ ফিরে পান হারাধন বাবু। গুরুত্বপূর্ণ সব নথি ও টাকার আশা প্রায় ছেড়ে দেওয়া হারাধন বাবু শৈলেশবাবুর সততা ও কর্মকাণ্ডে কীভাবে তাকে ধন্যবাদ জানাবেন বা কী করবেন বুঝে পাচ্ছিলেন না। সামাজিক এই অবক্ষয়ের যুগেও যে সৎ ও বিবেকবান শৈলেশবাবুরা জীবিত আছেন বলেই হয়ত সমাজে আমরা ভাল আছি।

স্যালুট শৈলেশবাবু। কুর্নিশ আপনাকে!