পোশাক নয়,‌ ভাবনায় বদল আনুক বিজেপি

 অনন্ত রায়

অনন্ত রায়

শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় যে দলটার জন্ম দিয়েছিল,সেই দলটা আজও বাংলায় মাথা তুলতে না পারায় প্রশ্ন রয়েই গেছে। প্রশ্ন রয়েছে বিজেপির অন্দরেও। বাংলার মাটিতে পদ্ম ফুল ফোটাতে বাজপেয়ী আদবানি জোটের ফর্মূলা কাজে লাগাতে চান। তৎকালীন বাম সরকারের বিরোধী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গী করে বাংলার মাটিতে পা রাখতে চান বাজপেয়ী আদবানিরা। কিছুটা হলেও সেসময় উদ্দেশ্য পূরণ হয়। এরাজ্য থেকে বিজেপি হাতেগোনা দুটো আসন ও পায়। তারপর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী এনডিএ জোট ছাড়ার পর ছবিটা বদলায়। জনভিত্তি না থাকায় বাংলায় পদ্ম আর বিকশিত হয়নি ‌। 2014র লোকসভা  নির্বাচনে আচ্ছে দিনের স্বপ্ন ফেরি করে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি এরাজ্যেও ভালো ফল করে‌। বাড়ে বিজেপির ভোটের হার‌। কেউ বলছেন এটা বামেদের রক্ত রণের প্রভাব, কেউ বা বলছেন মেরুকরণের হালকা প্রভাব।

অমিত শাহের বিজেপি মনে করছে, তৃণমূলের দুঃশাসন থেকে মুক্তি চেয়ে বাংলার মানুষ বদল চাইছে। বিজেপিই ত্রিপুরা, অসমের মতো বাংলায় পরিবর্তনের সরকারের পরিবর্তন করতে পারে। রাজনীতিতে কোনও কিছু ই অসম্ভব নয়‌। অনুপ্রবেশ আর এনরসি কে হাতিয়ার করে বিজেপি ভাবছে উনিশে বিপুল জয় পাবে । বাংলায় হিন্দুত্বের হাওয়া তুলতে না পেরে নেতাজীর আবেগকে কাজে লাগাতেও পিছপা হচ্ছে না। বিজেপির বুদ্ধিজীবী সেল আবার বাঙালি পোশাক ও খাবারে জোর দিচ্ছে। মূল উদ্দেশ্য বাঙালির  হদয়পুরে প্রবেশ করা।

অভিজ্ঞতা বলছে অন্য কথা। বাঙালি বরাবরই সম্প্রতির আবহে বাস করতে ভালবাসে‌, বামপন্থী আন্দোলনর উবরভূমি। এখানে অসম তিপুরার লাইন কাজ করা মুশকিল আছে। তাই বাংলায় সঙ্ঘের গেরুয়াকরণের পথ ছেড়ে স্বামীজি, নেতাজি রবীন্দ্রনাথের মানবতার পথ ধরা ভাল ‌। গেরুয়া বসনধারী স্বামীজির সেবার আদর্শ বিজেপি কার্যকর করতে বরং তাদের বিকাশ ঘটাতে পারে বলে মনে করছে পর্যবেক্ষকরা।