বাজকুলে নন্দীগ্রামের স্মৃতিচারণায় ভাসলেন মুখ্যমন্ত্রী

এসবিবি: তিন দিনের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সফরে আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় বাজকুলে এক প্রকাশ্য জনসভায় অংশ গ্রহণ করেন।মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের সিংহভাগ জুড়েই থাকল নন্দীগ্রামের স্মৃতিচারণা।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন সেভেন।আমি চন্ডিপুর, নন্দকুমার,কোলাঘাট, হেঁড়িয়া, নন্দীগ্রাম, ভুলিনি আমাকে নন্দীগ্রামে ঢুকতে দেয়নি। কোলাঘাটে আমাকে অ্যাসিড বালব মারার জন্য কিছু দুষ্কৃতী দাঁড়িয়েছিল। বড় বড় বাস দাঁড় করিয়ে আমাকে নন্দীগ্রামে আমাকে ঢুকতে দেয়নি। রাতের অন্ধকারে রেলিং টপকে নন্দীগ্রামে ঢুকেছিলাম। হলদি নদীতে অনেক লাশ ফেলে দিয়েছি।
অনেকে এখনও নিখোঁজ। গোপালকৃষ্ণ গান্ধী আমায় অন্য লোকের থেকে মেসেজ পাঠিয়েছিল তোমায় মারার চেষ্টা করছে তাতেও আমি ভয় পাইনি। নন্দীগ্রামের হার্মাদরা এখন বিজেপিতে।নাম না করে প্রাক্তন সাংসদ লক্ষ্মণ শেঠ কে বলেন, সেদিনের নন্দীগ্রামের হার্মাদদের তৃণমূলে কোনও জায়গা হবে না। কোনও হার্মাদকে এখানে থাকতে দেব না,
ওরা মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায়। গুজরাটে বাঙালি খেদানো চলছে। দিল্লির কংগ্রেস বিজেপির বিরোধিতা করছে আর রাজ্যে বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএম হাত মেলাচ্ছে বলে বাজকুল এর সভার থেকে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।

এল নেতাই থেকে ছোট আঙারিয়া। সোমবার বাজকুলের সভায় বারবার এই প্রসঙ্গ উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রীর কথায়।  এদিন আবারও একবার সিপিএমের বিরুদ্ধে অত্যাচারের কথা শোনা গেল মমতার গলায়।

স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাকে চমকালে, আমি গর্জাই।” সিপিএমের পাশাপাশি বিজেপিকেও এদিন কাঠগড়ায় দাঁড় করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপিতে এসে ভিড়েছে। বাংলাতে হার্মাদদের কোনও জায়গা নেই। সিপিএমকে তাড়িয়েছি। এবার যেসব হার্মাদরা বিজেপিতে যোগ দিয়েছে, তাদেরও তাড়িয়ে ছাড়ব। ” পূর্ব মেদিনীপুরের বাজকুলের সভা থেকে বিজেপিকে এই ভাষাতেই আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন রাজ্য কংগ্রেসের বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রাজ্যের কংগ্রেস বিজেপির সঙ্গে রয়েছে।”