সুপারহিরো রোবোচিড্ডি 2.0 এর রিভিউ

রূপসা চট্টোপাধ্যায় (উত্তরণ)

দুর্দান্ত গ্রাফিক্স আর স্পেশাল এফেক্ট চোখ ধাঁধানো, ভিলেন হয়েও হিরোর আসনে অক্ষয় কুমার।আসুন দেখে নিই প্রথম দিনে 100 কোটির ও বেশি ব্যাবসা করা ‘সুপারহিরো রোবোচিড্ডি 2.0’ এর রিভিউ।

‘টু পয়েন্ট ও’ সিনেমা ঘিরে উন্মাদনা ছিল আগে থেকেই। ছবির ট্রেলারেই বাজিমাত করেছিলেন দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত এবং অক্ষয়কুমার। ফলে প্রত্যাশামতো প্রেক্ষাগৃহ থেকে হাসিমুখেই বাড়িমুখো হলেন দর্শকরা। আত্মহননের দৃশ্য দিয়ে ছবির শুরু। পক্ষীপ্রেমী অধ্যাপক পক্ষীরাজনের (অক্ষয়কুমার) দাবি, মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমাতে হবে। কারণ তা না হলে বিপন্ন হবে পাখিদের জীবন। এরজন্য রাস্তায় রাস্তায় প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে ঘোরেন তিনি। বিষয়টি সম্বন্ধে মানুষকে সচেতন করেন। কিন্তু যখন কাজ হয় না, তখন ক্ষেপে ওঠেন তিনি। পাখিদের জীবন বাঁচাতে মারমুখী হয়ে পড়েন। বিজ্ঞানকে হাতিয়ার করে ইকোসিস্টেমের পক্ষে লড়াই দিতে চান। এমতাবস্থায় একদিন শহরের সমস্ত লোকের মোবাইল এক্কেবারে গায়েব হয়ে যায়। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ভেবে যখন শহরের সবাই দিশেহারা। তখন বিখ্যাত বিজ্ঞানী বসিগরন (রজনীকান্ত) এর সত্যতা খুঁজে বার করতে চেষ্টা করেন। সাহায্য নেন চিট্টি (রজনীকান্ত) এবং নীলা (অ্যামি জ্যাকসন) নামে দুই রোবটের। তাঁরা বুঝতে পারেন সমস্ত কার্যকলাপের নেপথ্যে রয়েছে পক্ষীরাজন। এরপর রোবট চিট্টির সঙ্গে তাঁর লড়াইকে ঘিরেই জমে ওঠে গল্প।

এস শঙ্কর পরিচালিত এই ছবি পুরোপুরি স্কাইফাই। কিন্তু যদি বিজ্ঞানমনষ্ক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সিনেমা দেখতে যান তাহলে বেশ খানিকটা হতাশ হতে হবে। বিনোদনের প্রয়োজনে গাণিতিক ছকের বাইরে হেঁটেছেন পরিচালক। রজনীকান্ত থুড়ি থালাইভার অভিনয় ক্ষমতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তিনি অনবদ্য। চিট্টির চরিত্রে হাঁটুর বয়সী অ্যামি জ্যাকসনের সঙ্গে রোমান্সের দৃশ্যেও নজর কেড়েছেন তিনি। কিন্তু পক্ষীরাজন তথা বৈজ্ঞানিক এই দুই অবতারেই অক্ষয়কুমার টেক্কা দিয়েছেন রজনীকান্তকে। ভিলেন হিসাবে তাঁকে দেখানে হলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি কিন্তু পরিবেশের পক্ষেই কাজ করছিলেন। যদিও তাঁর পন্থা ভুল ছিল। ক্রমবর্ধমান মোবাইল নেটওয়ার্কের ট্রান্সফর্মেশন ফ্রিকোয়েন্সি এবং ইকোসিস্টেম নিয়ে যে সচেতন বার্তা ছবিতে দেওয়া হয়েছে সেটিও তারিফযোগ্য। এই সিনেমার চিত্রনাট্য অনেকটাই প্রেডিক্টেবল। কিন্তু দুর্দান্ত ভিস্যুয়াল এফেক্টস ছবির আকর্ষণ দর্শকদের কাছে শতগুনে বাড়িয়ে তুলেছে। অত্যাধুনিক গ্রাফিক্স ও ভিস্যুয়ালের পাশাপাশি এডিটিং এবং ছবির সাউন্ড যে কোনও হলিউডি ছবিকে পিছনে ফেলবে। ছবিতে রয়েছে মাত্র দুটি গান। কিন্তু ছবিটির সাউন্ড এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের দায়িত্বভার সামলেছেন অস্কারবিজয়ী রসুল পুকুট্টি এবং এ আর রহমান। এই সিনেমার হিরো রজনীকান্ত একথা অনস্বীকার্য। কিন্তু শত প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও ছবির শেষাংশে দর্শকদের মনে পক্ষীপ্রেমী অক্ষয়কুমার ভিলেনের মুখোশ ছেড়ে অজান্তেই হিরোর আসনে বসে পড়বেন।