ইস্টবেঙ্গলে বিড়ম্বনার কারণ কি তবে ‘কোয়েস’!

এসবিবি স্পোর্টস: সাত কিংবা আটের দশক হলে কী কী হত তা ইতিহাস ঘাঁটলেই জানা যাবে। যদিও সেগুলি কাম্য নয় প্রথমেই জানিয়ে রাখা উচিত। তবে ইস্টবেঙ্গল কর্তারা বুক চিতিয়ে যে লাল-হলুদ জার্সির বড়াই করেন, তার সম্মান ঠিক কোন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে সে সব নতুন করে মনে করানো বাতুলতা।

একরাশ যন্ত্রণা আর অভিমান নিয়ে দীর্ঘ 15টা বছর পার করে এসেছে ইস্টবেঙ্গল জনতা। আই লিগে ব্যর্থতা চারাগাছ থেকে আজ মহীরুহ ইস্টবেঙ্গলের কাছে। তবু সমর্থকরা স্বপ্ন দেখেন। সাফল্যের রামধনু রঙে রাঙিয়ে দিতে চান নিজেদের। কিন্তু স্বপ্ন সফল করার কারিগর হিসেবে যাঁরাই দায়িত্ব নিচ্ছেন, শেষপর্যন্ত একরাশ হতাশা নিয়েই তাঁদের বিদায় জানাতে হয়েছে কলকাতার ক্লাবটিকে। মরশুমে-মরশুমে কোচ বদল তো এখন ‘জলভাত’ ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্টের কাছে। ভারতীয় কিংবা বাঙালি কোচ হলে তো কথাই নেই। বিদেশি কোচদেরও কী দশা হয়েছে সে তো ট্রেভর জেমস মর্গ্যানকে দেখলেই স্পষ্ট। তবু একটা কথা বলতেই হয়, এতকিছুর মাঝেও কিন্তু লাল-হলুদ পরিবারে আগে কখনও বাইরের কোনও শক্তি প্রবেশ করেনি।

দেবব্রত (নিতু) সরকার-ই তো বকলমে ইস্টবেঙ্গলের স্তম্ভ। সভাপতি প্রণব দাশগুপ্ত, সচিব কল্যাণ মজুমদাররা তো আছেনই। তবে ময়দানের ‘নিতু’-ই যে ক্লাবের সর্বেসর্বা। ছোট-বড় যে কোনও কাজে নিতুই শেষ কথা। কিন্তু যা বোঝা যাচ্ছে, বাঘের মতো সেই ব্যক্তিত্বই এখন ধীরে ধীরে উদাসীন হয়ে পড়ছেন। আর তা খুবই স্বাভাবিক। সৌজন্যে – ‘কোয়েস’। অনেক ঘটা করে মরশুম শুরুর আগে ক্লাবের নতুন স্পনসর ঘোষণা করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ‘কোয়েস’ বিপুল পরিমাণ টাকা ঢেলেছে ইস্টবেঙ্গলে। কিন্তু পারফর্ম্যান্স!

আই লিগে প্রথম দু’টি ম্যাচ জিতলেও মিনার্ভা পাঞ্জাবের কাছে হেরে পরপর তিনটি ম্যাচে এভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে ইস্টবেঙ্গল। প্রশ্নটা এখানেই। মরশুম শুরু হতে না হতেই সুভাষ ভৌমিককে সরিয়ে দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেন স্প্যানিশ কোচ আলেসান্দ্রো মেনেন্দেজ। কিন্তু খোলনলচে বদলায়নি। উপরন্তু ক্লাবে সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করা দীর্ঘদিনের রঞ্জন চৌধুরীকেও সরে যেতে হল। শোনা যায়, স্প্যানিশ কোচের আচরণে নাকি অভিমান হয়েছে রঞ্জনেরও। কিন্তু দলের মধ্যে এসব চলবে কেন ? কেন কর্তারা শক্ত হাতে এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না?

আসলে সমস্যাটা যে অন্য জায়গায়। দীর্ঘদিনের ক্লাবকর্তারা যে ধীরে ধীরে ‘পুতূল’ হয়ে গিয়েছেন কোয়েস-এর কাছে। ক্লাবের বিভিন্ন বিষয়ে কোয়েস কর্তারা যে ভাবে নির্দেশ দেন, সেগুলিই প্রধানত বিড়ম্বনার অন্যতম কারণ কর্তাদের কাছে। পরপর দু’টি ম্যাচ হারের পরে ক্লাবকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক পরে হয়েছে। আগে কোচ আলেসান্দ্রকে ‘জবাবদিহি’ করতে হয়েছে কোয়েস কর্তাদের কাছে। এ ছাড়াও ফুটবলার নির্বাচন থেকে শুরু করে ‘অন দ্য ফিল্ড’ হোক কিংবা ‘অফ দ্য ফিল্ড’ – প্রায় সব বিষয়েই কোয়েস মাথা ঘামাচ্ছে বলে ঘনিষ্ঠ মহলে আক্ষেপ প্রকাশ করছেন কর্তারা। অর্থাৎ এক মরশুম কাটতে না কাটতেই মালিকপক্ষের ছড়ি ঘোরানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আর সেখানেই ক্লাবের অন্দরমহলে কিন্তু বেশ বিরাগ তৈরি হয়েছে।

অথচ প্রশ্নটা এখানেও। কোয়েস-কে এনেছে কারা ? যে শীর্ষকর্তাদের আজ মুখভার তারাই যে একটা সময় ঢাক-ঢোল পিটিয়ে নতুন স্পনসরের কথা ঘোষণা করেছিলেন। অথচ সেই স্পনসর ‘কোয়েস’ ইস্টবেঙ্গল কর্তাদের একটা অংশের কাছে বিড়ম্বনাই বটে! এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে লাল-হলুদের আগামী ঠিক কোথায় নেমে ঠেকবে সে তো বোঝাই যাচ্ছে।