আইন-শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় বিজেপির রথযাত্রার আর্জি খারিজ কোর্টে

এসবিবি : 24 ঘন্টা বাকি নেই, ঠিক তখনই বিজেপির রথযাত্রার আর্জি খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার টানা শুনানির পর আইন-শৃঙ্খলা প্রশ্ন তুলে বিজেপির আবেদন খারিজ করলেন হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। ফলে বিজেপি এর পরেও রথযাত্রা করলে, তা হবে বেআইনি। তবে ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার সুযোগ বিজেপির আছে। তবে আদালত এদিন জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত রথযাত্রা করতে পারবে না বিজেপি। 9 জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার প্রথমার্ধেই আদালতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, কোচবিহার জেলা প্রশাসন বিজেপি-র রথযাত্রার অনুমতি দিচ্ছেন না আইন শৃঙ্খলার প্রশ্নে। রথযাত্রার বিরোধিতা করে কোচবিহার জেলা পুলিশের এই রিপোর্টকেই আদালতে পেশ করেন অ্যাডভোকেট জেনারেল। বলা হয়, গোরক্ষার নামে অন্য সম্প্রদায়ের উপর হামলা চালিয়ে অশান্তি-গন্ডগোল বাধানোর ছক তৈরি করা হয়েছে কোচবিহারে। আর সেই কারণেই এই মুহূর্তে বিজেপি-র রথযাত্রার অনুমতি দিতে পারছে না প্রশাসন। কোচবিহারের পুলিশ সুপারের পাঠানো রিপোর্টে বলে হয়েছে যে, ওই জেলা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অতীতে একাধিক অশান্তির ঘটনা ঘটেছে এবং সেই সমস্ত ঘটনায় প্রাণহানিও হয়েছে। পুলিশ সুপার ভোলানাথ পাণ্ডে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্টকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছেন, “রথযাত্রাকে সামনে রেখে কিছু সমাজবিরোধী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এ রকম একটি চেষ্টা হয়েছিল। পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।” পুলিশ সুপার তাঁর রিপোর্টে জানিয়েছেন, এ রকম স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে রথযাত্রা জেলায় পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। এদিন কোচবিহারের জেলাশাসক কৌশিক সাহার রিপোর্টও পেশ করা হয় আদালতে। সেই রিপোর্টেও উল্লেখ করা হয়েছে, রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে হিংসা ছড়াতে পারে জেলায়। বিজেপি’র করা এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী অ্যাডভোকেট জেনারেলকে প্রশ্ন করেন, “বিজেপি প্রথমে DG এবং পরে IG-র কাছে অনুমতি চায়। সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি কেন?” বিচারপতি বলেন, ‘‘স্বয়ং রাজ্যপাল এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছেন।তারপরেও কেন মনে হয়নি, অনুমতি দেওয়া যায়?’’

উত্তরে এজি জানান, DG বা IG ওই অনুমতি দেওয়ার উপযুক্ত নন। AG স্পষ্টভাবে জানান, রাজ্যপালের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার কোনও সাংবিধানিক অধিকার নেই।