প্রসেনজিতের সঙ্গে প্রেম ? এতদিনে মুখ খুললেন ঋতুপর্ণা

এসবিবি : সাবিত্রী, সুপ্রিয়া, ও মাধবীর সঙ্গে বহু ছবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু অনস্ক্রিনে সুচিত্রার সঙ্গেই তিনি মহানায়ক। উত্তমের সেই ভুবনভোলানো হাসি আর সুচিত্রার গ্ল্যামার। সুচিত্রা সেনের সঙ্গে আলাদা এক রসায়ন কাজ করতো। তাই উত্তমকুমার কিংবদন্তী হয়েছেন সুচিত্রার সঙ্গে সেলুলয়েড-জুটিতেই।

তবে তেমন অবশ্যই নয়, তবুও সেই চিরকালীন জুটির কয়েক দশক পর সিনেমাপ্রেমীরা কিন্তু মজেছিলেন প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা’য়। বাঙালি হৃদয়ে বেশ জায়গাও করে নেয় এই জুটি। দেবশ্রী থেকে কোয়েল মল্লিক, স্ক্রিনে কিন্তু তেমন ‘ঝড়’ তুলতে পারেননি প্রসেনজিৎ। তুলনায় ঋতুপর্ণার সঙ্গেই সাবলীল ছিলেন নব্য-মহানায়ক। ক্লিক করেছিলো এই জুটিও।

পর্দার জুটির রেশ কি তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রভাব ফেলেছিলো? সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এই প্রশ্নটাই করা হয়েছিলো ঋতুকে। অঙ্কের নিয়মেই খানিকটা এড়িয়েই যাওয়ার চেষ্টা করলেন ঋতুপর্ণা। তবে ইঙ্গিতে অনেক কিছুই সেদিন বুঝিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা।

• প্রসেনজিতের সঙ্গে প্রেম ছিল আপনার?
ঋতুর জবাব, ভালোবাসা তো নিশ্চয়ই ছিল। একটা মানুষের সঙ্গে 24 ঘণ্টা, 7 দিন কাজ করেছি। আমাদের 48টা ছবি আছে। তাই আমাদের যারা ভালোবাসেন, তাঁরা নিজেদের মতো একটা ধারণা তৈরি করে নিয়েছেন।

• পর্দার বাইরে ভালোবাসা?

– দু’জনের একটা নির্ভরতা ছিল। একটা সখ্য তো ছিলই।

• ওসব বোধহয় পেশাদারি সম্পর্ক?
ভালোবাসা বলতে যা বুঝি, নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক, এমন কিছু ?

ঋতুর ইঙ্গিতপূর্ণ জবাব, সেটা না হয় রহস্যই থাক। আমি চাই, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এটা হাতড়ে যাক।

• উত্তম-সুচিত্রা পর প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা, তারপর আর হিট জুটি পেলাম না কেন?

– এটা কেন তৈরি হয়নি, বলা মুশকিল। সবাই বড় বড় ব্যানারে কাজ করছে। সব ভালো ভালো জায়গায় শ্যুটিং হচ্ছে। কিন্তু সেই হৃদয়টা কোথায়? যে সংগ্রামটা করেছি সেটা আর নেই। এখন সবাই কমফোর্ট জোনে কাজ করে। প্রচুর পরিশ্রম করে সেলুলয়েডে আমাদের এই জুটি দাঁড় করাতে হয়েছে। এখন তো সেই খাটনিই নেই। মনে আছে, ‘দৃষ্টিকোণ’-এ মঞ্চে গিয়ে দাঁড়ালাম, মানুষ কাঁদছে। হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। কাজের প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। তবে তো সফল জুটি তৈরি হবে।

এত কথা, তবুও কিন্তু প্রসেনজিতের সঙ্গে এমন হিট জুটিও ভেঙে গিয়েছিল। সম্প্রতি আবার কামব্যাক করেছেন প্রসেনজিৎ-ঋতু।

• জুটি ভেঙে যাওয়ার পর কি শূন্যতা তৈরি হয়েছিল?

– তা ঠিক বলবো না। তখন নায়ক-নির্ভর ছবি হত। তারপর বিষয়টা বদলে গিয়েছে। আমি আমার মতো করে ভালো সিনেমা করেছি। রাজা সেনের দেবীপক্ষ, সুমন মুখোপাধ্যায়ের চতুরঙ্গ করলাম। গ্ল্যামারাস ছবি তৃষ্ণা করেছি। শূন্যতা তৈরি হওয়ার সুযোগই দিইনি। তবে জুটিটা না ভাঙ্গলে আরও অসংখ্য মনে রাখার মতো ছবি করতে পারতো প্রসেনজিৎ-ঋতুপর্ণা।

তথ্য সূত্র :সংগৃহীত