উত্তরবঙ্গ তার গৌরবের মর্যাদা পাক, লিখলেন রাতুল বিশ্বাস

রাতুল বিশ্বাস

টি, টিম্বার, ট্যুরিজম এই তিন ‘টি’ এর উত্তরবঙ্গে আরও এক ‘টি’ এর অভাব। সেটা হোল টিআরপি। তাই উত্তরের সমস্যা কোনও দিনই স্থান পায় না প্রচারের আলোতে। বঞ্চনা যেন আদি যুগ থেকে শুরু হয়েছে সব মহলেই। এযেন এক বঞ্চনার স্বর্গরাজ্য আর এখানকার মানুষদের কাছে ছিটেফোঁটা বর্জ্যই যেন আনন্দের প্রাপ্তি হয় বরাবর। তবে একথা অনস্বীকার্য স্বাধীনতার কয়েকদশক পর পরিবর্তনের সরকার এলে কিছুটা উন্নয়ন হলেও গঙ্গার ওপারের মানুষের উত্তর সম্পর্কে ধারনার পরিবর্তন এতটুকু ঘটেনি। সমস্যা বৈষ্যয়িক উন্নয়নের নয়, সমস্যাটি হল মানসিকতার উন্নয়নের। আর যুগযুগ ধরে এই বঞ্চনার ক্ষোভ যে পাহাড়সম এবং ভবিষ্যতে যে স্ফুলিঙ্গ হবে তা বলাইবাহুল্য।

এখনও রাজ্য মন্ত্রিসভায় কিচেন ক্যাবিনেটে উত্তর থেকে কোনও মন্ত্রী থাকবে তা ভুলেও কল্পনা করতে পারে না বাম ডান কোন পক্ষই। দূরত্বের দোহাই দিয়ে রেজিমেন্টেড বাম দলের আভ্যন্তরীণ পার্টিতন্ত্রেও ব্রাত্য রয়েছে উত্তর তেমনি বর্তমান শাসক দলেও তাই। তার মানে কি উত্তরে মেধার অভাব! না মেধার অভাব নয় এটা উর্বর উদারতার অভাব। উত্তরে তো শুধু জঙ্গল। পুজো বা গরমের ছুটিতে শুধু পরিবার নিয়ে কদিন ছুটি কাটাই চলুন।

উত্তর নিয়ে কেউ কোনও দিন ভাবেননি। ভাবলেও তা উদারতার সঙ্গে নয়। তাই টি টিম্বার ট্যুরিজমের… চা শিল্প আজ বঞ্চনার ফলে ধুঁকতে বসেছে। উত্তরের সার্বিক চা- বলয়ের অর্থনীতিক অবস্থা আজ তলানিতে। বাড়ছে পাচারচক্র। প্রতিদিন অনাহার গ্রাস করছে। মানবাধিকার লুঠ হচ্ছে। তবুও দেখেও চুপ শহুরে মিডিয়া। ঐ যে টি আর পি।

চা শিপ্লের প্রভুত উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তর ঘুরে দাড়াতে পারব কিন্তু সমস্যা ঐ মানসিকতায়। পর্যটন নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান আজও করল না কোন পক্ষ। পিছিয়ে পড়া উত্তরের শিল্পসম্ভাবনার প্রায় একমাত্র আশা পর্যটন শিল্প! কিন্তু তার সার্বিক উন্নতি বা তারমাধ্যমে উত্তরের আর্থসামাজিক উন্নয়নের কথা আদৌ কোনদিন ভাববে কি বাম ডান কোন পক্ষ? বাম আমলের শেষদিক বাদ দিলে গোটা উত্তরের জন্য ছিল একটিমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়। উচ্চশিক্ষায় কতগুলি প্রজন্ম পংগু হয়েছে তা অনুসন্ধান করার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না।

গোটা উত্তরের চিকিৎসার হাল আরো বেহাল। নজর পড়েনি কারোও। আদৌ পড়বে কিনা কে জানে! দু একটা হাতি,গন্ডার মারা যায় সাথে উত্তরের কয়েকশ মানুষ বছরে উন্নত চিকিৎসার অভাবে মারা যেতেই পারে। নতুন বর্তমান সরকার আসার পর পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ, নতুন মেডিকেল কলেজ বা হাসপাতালের কাজ শুরু হলেও চিকিৎসার উন্নয়ন(!) সেই তিমিরেই। রাজ্যে কলকাতার বিকল্প কোন দ্বিতীয় শহর তৈরী যেমন কোন পক্ষই নজর দেয়নি তেমনি ভুটান আসাম ঘেষা এপ্রান্ত থেকে রাজধানিতে যেতে প্রায় 22 ঘন্টা সময় লাগে।

তাই শিলিগুড়িকে উত্তরের মুলকেন্দ্র ভাবা হলেও শিলিগুড়িকে জাতীয় স্তরের শহর হিসেবে সাজিয়ে তুলতে কোন ভাবনাই নেয়নি কোন পক্ষই। তাই বিশ্বব্যাপী ফটোগ্রাফাররা ভারত এলে যেমন ‘পুওর ইন্ডিয়া’র ছবি খোজেন তেমনি বঞ্চনার উত্তরে এসে অন্যপ্রান্তের ছবিশিকারীরা এসে অনাহারের ছবি খুজতেই যেন ব্যস্ত! এটাই যেন ফ্যাশন সিম্বল হয়ে দাড়িয়েছে।
যা আঘাত দেয় মানসিকতায়।

জানিনা কবে বঞ্চনার এই দিন ঘুচবে? জানিনা কবে উত্তরের প্রতি মানসিকতার পরিবর্তন ঘটবে! নারী শিশুপাচারের স্বর্গরাজ্যে একটু সুখ নামলেই যেন এপ্রান্তের নারী শিশুদের বাধ্য হয়ে নিজেদেরকে বিক্রি করে দিতে হবেনা। একরাশ আশা নিয়েই কলম রাখলাম। বঞ্চনার শেষ হোক। উন্নয়ন আসুক মাটিতে নয়; উন্নয়ন আসুক মানসিকতায়।