রবিবারের বাবুইবাসা : 15.07.2018

।। ধারাবাহিক উপন্যাস – আড়াই কিস্তির চাল ।।

পার্থপ্রিয় বসু

….. পরবর্তী অংশ

গোবিন্দ মুর্মুর জবানবন্দী নেওয়ার পর রঞ্জিত বুঝল ও এক ইঞ্চিও এগোতে পারেনি। সমীর দিন্দার খুনী এখনও বেপাত্তা। স্থানীয় বি . ডি. ও. তে কথা বলে জেনেছে ত্রিদিব পালিত একজন এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন অফিসার পান্থপাদপ। গোলাপের কেয়ারি। চারপাশেই একটা শৌখিনতার ছাপ। লিভিংরুমের ভেতর দিয়েই একদিকে দোতলার ওঠার সিঁড়ি। একতলার বারান্দা ছাড়া সর্বত্রই কালচে ধূসর মার্বেল।খুবই আনকমন রঙ। বারান্দায় শুধু লাল মেঝে, পুরনো। দেয়াল বেশ পুরু, 15 ইঞ্চি। পালিত বোধহয় বাড়িটা পুরনোই কিনেছে। তারপর নিজের মত সাজিয়েছে। কিন্তু ব্লকের সরকারি চাকরিতে এত পয়সা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে কি কোন গোপন ব্যবসা ?  যাতে রাতারাতি অনেক পয়সা, যেমন মূর্তিপাচার। হতে পারে, সবই সম্ভব মনে হচ্ছে রঞ্জিতের।

যাই হোক দোতলাটা দেখা যাক। দোতলায়ও 2টি ঘর। তবে একটি শোবার ঘর আর বাকিটা হলের মত বড়, পুব-দক্ষিণ খোলা। রঞ্জিত বুঝতে পারছিল যখন বাঁধের ওপারে পূর্ণিমার চাঁদ ওঠে কী দারুণ কাণ্ড হয় এই বিরাট হলঘরে। সামনে এগিয়ে গেলে জলাটা দেখা যায়। জলায় চাঁদের প্রতিবিম্বও নিশ্চয়ই খুব অপ্রাকৃত করে তোলে সেইসব রাত। এবার বোঝা গেল কেন বাড়িটা পশ্চিমমুখো হওয়া সত্ত্বেও দোতলার বারান্দা পুবমুখো। পালিত লোকটার শখ আছে। দোতলার শোবার ঘর বন্ধ। একটা জানলা একটু খোলা, ভেতরদিকে। উঁকি দিয়ে দেখল রঞ্জিত। যা কিছু আধুনিক শোবার ঘরে থাকে তেমনই আসবাব। একদিকের দেওয়ালে সিনটেকসের সাদা দরজা ভেজান,ওটা বোধহয় বাথরুম। শোবার বক্স খাটের মাথার মাথার দিকে আলোর ব্যবস্থা, 2-4টে বই, ইংরেজি। যা একটা স্কাল্পচার, ছোট কিন্তু … মনে হচ্ছে খুব পুরনো নৃসিংহ মূর্তি। দূর থেকে রঞ্জিত যতটুকু আন্দাজ করতে পারল খ্রিস্টীয় অষ্টম কী নবম শতকের হবে। শো-কেসের ওপরে একদিকে নিট করে সাজান মিউজিক সিস্টেম, ঘরের দু কোণেই উঁচুতে 2 টি স্টিরিও বক্স। আর অন্যদিকে একটা ছবি, অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সুন্দরী একটি মেয়ের। ছবির দিকে একটু বেশি সময় তাকালে মনে হয় কথা বলে উঠবে।

কার ছবি ? নিশ্চয়ই পালিতের বউয়ের। পালিতের বউ এত সুন্দরী! সবদিকেই লোকটার পছন্দের তারিফ না করে পারা যাচ্ছে না। রঞ্জিতের মত কাটখোট্টা লোকও ছবিটা দুবার ঘুরে দেখতে বাধ্য হচ্ছে। সুব্রত চারপাশটা  ঘুরে দেখছিল। রঞ্জিত ডাকল, উঁকি দিয়ে দেখ, দিনটা ভাল যাবে।

সুব্রত হতভম্ব।রাশভারি বসের মধ্যে এতটা গ্রিনারি সে ঘুনাক্ষরেও আশা করেনি। ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য বলল, কিছু পেলেন স্যার।

মনে হচ্ছে পাব। সুব্রত, সিঁড়িটা লক্ষ্য করেছ, মেঝের মত সিঁড়িতেও নতুন ধূসর মার্বেল। কিন্তু ল্যান্ডিংটা সিঁড়ির তুলনায় বেশ চাপা। সাধারণত সিঁড়ির মাপ অনুযায়ী ল্যান্ডিং হয়, কিন্তু এটা কেমন যেন ছোট। বড় সিঁড়ির ল্যান্ডিং  কখনোই ছোট হতে পারেনা সিভিল কনস্ট্রাকশনের নিয়ম অনুযায়ী, কারণ ল্যান্ডিংয়ের দেয়ালের পেছনে কোন ফাঁকা বা ফাঁপা অংশ আছে কিছু লুকিয়ে রাখার জন্য। সঙ্গে সঙ্গে রঞ্জিত সুব্রতকে এক হ্যাঁচকা টান মেরে প্রায় লাফিয়ে ল্যান্ডিংয়ের ওপর। ল্যান্ডিংয়ে নামতে নামতেই সুব্রত লক্ষ্য করল আধখোলা জানলার ফাঁকে একটা লোক লাফিয়ে পড়ল নিচে। গায়ে হাফহাতা বুশশার্ট, নিচে ধুতি। রঞ্জিত জানলার ফাঁকে মুখ রেখে চিত্কার করে উঠল, দাঁড়াও নইলে গুলি করে দেব। ওর হাতে পলকে বেরিয়ে আসা 32 বোরের রিভলবার। লোকটা 12-14 পা ছুটে গিয়েও থেমে গেল। রঞ্জিত ধমকের সুরে বলল, এক পা এগিয়েছো তো তোমার মাথা ঝাঁঝরা হয়ে যাবে। সুব্রত জানে কী করতে হবে এই সময়ে। ও ছুটে নেমে গিয়ে বাড়ির উত্তর পাশে দৌড়ে গিয়ে লোকটাকে ধরে ফেলল। বছর 40-45 বয়স। শক্তসমর্থ্য,গ্রাম্য চেহারা। গায়ের রং বীরভূমের ধূসর তামাটে কালচে ধরণের। সুব্রত লোকটাকে ধরে ফেলার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কনস্টেবল রমেশও ছুটে এসে লোকটার হাতে হাতকড়া পরিয়ে দিল। যদি কেউ ধরা পড়ে যায় এই ভেবে সুব্রত রমেশকে হ্যান্ডক্যাফ সঙ্গে আনতে বলেছিল।

***************************

।। পুস্তক আলোচনা ।।

অ.জানা

ভারতীয় জনগণ বরাবর গালগল্প পছন্দ করেন। এতে একজন হিরো থাকতে হবে, যে সব পারে। আসল কথা খুব ভাল স্বপ্ন দেখতে পারে। এবং একজন স্পষ্ট ভিলেন থাকতে হবে। ভিলেন হবে সবদিক থেকে খারাপ, তার কোন ভাল গুণ থাকতেই পারেনা। এই ভিলেন ও হিরোর হিসেবে একটু গোলমাল হয়ে গেলেই মারাত্মক ব্যাপার হয়ে যেতে পারে। একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। লালকৃষ্ণ আদবাণী তখন উপপ্রধানমন্ত্রী। মুখ ফসকে তিনি মহম্মদ আলি জিন্নাহ সম্পর্কে গুটি কয়েক ভাল কথা বলে ফেলেন। অবশ্য, জিন্নাহ সম্পর্কে বলতে গেলে খারাপের চেয়ে ভাল কথাই বেশি বলতে হয়। কিন্তু সবাই, বিশেষ করে তাঁর দলের নেতারাই রে রে করে তেড়ে ওঠেন। শেষ পর্যন্ত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী রঙ্গনাথানন্দজীর দোহাই দিয়ে তিনি সেই যাত্রায় রক্ষা পান। জিন্নাহ ভারতীয় রাজনীতির রঙ্গমঞ্চে পার্মানেন্ট ভিলেন।

রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেক্ষিতে জিন্নাহ ভারতীয় রাজনীতির এক বর্ণময় চরিত্র। মেধা ও বাগ্মিতাকে সম্বল করে তিনি ব্রিটিশ প্রশাসন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের কৌশলকে পরাস্ত করে নতুন পাকিস্তান রাষ্ট্র তৈরি করেন। তবুও মহামতি গোখলের মতে তিনি একজন অসাম্প্রদায়িক ও গোঁড়ামি মুক্ত মনের মানুষ ছিলেন যিনি হিন্দু – মুসলমান ঐক্যের সর্বশ্রেষ্ঠ দূত হওয়ার ক্ষমতা রাখেন। সরোজিনী নাইড়ুও গোখলের এই মতের সমর্থক ছিলেন। মামুদাবাদে জনসভায় তিনি মুসলিম লিগের নেতাকে বক্তৃতার মাঝখানে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “নো মাই বয়, ইউ আর মিসটেকেন, তুমি প্রথমে ভারতীয় পরে মুসলমান। ”

1906 সালে মুসলিম লিগের জন্ম থেকেই দলটি ছিল সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন। জিন্নাহ ছিলেন দলটির প্রকাশ্য বিরোধী। তিনি বলেছিলেন, “সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে পৃথক নির্বাচনের দাবি জাতিকে খণ্ডবিখণ্ড করবে “। পাশাপাশি মুসলিম লিগের সভাপতি আগা খাঁ বলেছিলেন, ‘ আমি ও আমার বন্ধুরা যা করেছি বা করার চেষ্টা করেছি, জিন্নাহ ছিলেন এর কঠোরতম বিরোধী’।

1906 সালেই হিন্দু মহাসভা গঠিত হয়। এর সভাপতি বীর সভারকর বলেছিলেন, ‘ হিন্দুরা হল একটি জাতি, হিন্দুস্থান হল  হিন্দুদের বাসস্থান। মুসলমানরা এখানে আঞ্চলিক নাগরিক’।

দ্বিজাতি তত্ত্বের উদ্ভব হল এখান থেকেই। আর আর যে-ই হোন এই দোষ জিন্নাহর উপর বর্তায় না।

মৌলানা আবুল কালাম আজাদ, যিনি রাজনীতিতে জিন্নাহর বিরোধী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি লিখেছেন,”when Lord Mountbatten suggested the partition might offer a solution to the present difficulty, he found ready acceptance to the idea in Sardar Patel’s mind. Infact, Sardar Patel was 50 % in favor of partition even before Lord Mountbatten appeared in the scene”. মৌলানা আরও লিখেছেন, “we are becoming greater supporter of partition than Jinnah.”

     *********************

।। আবেশ অবশেষে ।।

রাম ভৌমিক

ফিরে গেছে কোন মনমায়া ফিরে গেছে বিস্ময়

ফিরে গেছে সেই অচেনা তুমি, জানি নেই পরিচয়।

বাঁচব বলে পথ হাতড়াই অজানা সে পথে

বাঁচব বলেই হন্যে আমি স্মৃতির অবসাদে।

পেরিয়েছে দেশকাল, পেরিয়েছে সময়

হারিয়েছি আবেগ, হারিয়ে ফেলেছি প্রত্যয়।

ভাঙাঘুমে ঘুমছায়া হয়ে খুঁজেছি ছায়াপথে

আলোকবর্ষ পথ হেঁটেও, পারিনি ছায়াতে ছায়া মেলাতে।

ক্লান্ত মন, ক্লান্ত শরীর, স্বপ্ন গুলোও আজ ক্লান্ত

মরিচীকার হাতছানি কখনও করেনি শান্ত।

এ জন্ম জন্ম তো নয়, এ জন্ম জন্মান্তর

এক জীবনে অনেক জীবন, পাল্টেছি নিরন্তর।

ভেবে গেছি হারব না, ভেবে গেছি হারাব না

শুধু নিরবে চেয়ে চেয়ে সাজাবো আমার শব্দবীণা।

প্রতিদিনের প্রতিচ্ছবি প্রতিদিনের প্রতিলিপি গাঁথা

পথচলা আজও বিভীষিকায়, কবে ভাঙাবে নীরবতা?

**************************

 ।। কোন শতাব্দী ? ।।

অভিষেক দত্ত রায়

ত হত্যার পর প্রেম গুলি আজও অবিচ্ছেদ্য

ধরা দেয় ধুয়োর কুন্ডলীর মত,

কোন এক শ্রাবণে রক্ত গড়ায়,

জীবত, কিংবা মৃতে।

সার্বজনীন নারী মাংসে হত্যা হয় চেতনালোকে।

পেশির প্রেম পিরীত বোঝেনা, ইঙ্গিত সর্বনাশের।

যাতনা তো তারেই বলে,

বিভেদ যখন লিঙ্গ ন্যাসে।

ঘড়ির কাঁটায় মৃত্যুর টিক টিক,

ওই বুঝি নরখাদক,

নিরাপত্তা থানায় থাকে, রাস্তা বেমালুম,

প্রভাত হলে সভ্য সমাজ করে ধিক ধিক।

আবার কবে শ্রাবণ হবে, আহার হবে রঙিন, ওঁত পেতে রয় নরপশু,

গারদ এখনও এত শক্ত নয়, চলে শুধু তোয়াজে।

অকাল বোধনে দেবীর চোখে আজ জল কেন ?

শব্দ চয়নে কলম স্তব্ধ,

রুদ্ধ মাত্র সামাজিকতায়।

আবার একটি তদন্ত শুরু, প্রশ্ন কর, এ কোন শতাব্দী যেন ?

**************************

।। পুনঃপ্রেম ।।

আক্রাম সেখ

বিক্রমের সাথে অঙ্কিতার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।ওরা যেন একে অপরের হামদর্দ ছিল।আর বিক্রমের কাছে তো অঙ্কিতা ওর সমস্ত কিছুই ছিল। ওকে ছাড়া বিক্রম কোনো কিছু ভাবতেই পারতো না।

কিন্তু হঠাৎ কেন যেন অঙ্কিতা বদলে যায়। সে বিক্রমকে সবসময় এড়িয়ে যেতে থাকে।শুরু হয় অবহেলা। ও বিক্রমকে আর নিজ ইচ্ছায় ফোন করে না।এমনকি বিক্রমের ফোনও ধরে না।বিক্রম বারবার ফোন কর‍তে থাকলে ফোন ধরে বিরক্তিকর ভাব প্রকাশ করে। ও ফোন না ধরার কারণ জানতে চাইলে অঙ্কিতা নানা অজুহাত দিতে থাকে।

দিন দিন বিক্রম অস্থির হয়ে উঠল।ওর মনে অঙ্কিতাকে হারানোর ভয় কাজ করতে লাগল।পরীক্ষার আর মাত্র দুইই মাস সময়। তবুও সেই অস্থিরতার কারণে পড়াশোনাটাও আর হয়না।বই এর টেবিলে ধূলো জমলো।

ওর পরীক্ষার দিন কাছিয়ে এল। ওর আর এ অবহেলা সইছে না।ও অঙ্কিতাকে বারবার ফোন করতে থাকল। বিরক্ত হয়ে অঙ্কিতা ফোন ধরলে ও তার সাথে দেখা করতে চাইল।পরের দিন দেখা হলে বিক্রম এই সমস্ত অবহেলার কারণ জানতে চাইলে অঙ্কিতা বলল ও নাকি আর এ সম্পর্কে থাকতে পারবে না। বিক্রম এর কারণ জানতে চাইলে অঙ্কিতা বলল না। বরং ওকে অপমানজনক দুচার কথা শুনিয়ে দিল। ও পুরো ভেঙ্গে পড়ল।

বিক্রম এতটাই ভেঙ্গে পড়েছিল যে খাওয়া দাওয়াও ছেড়ে দিল। ও ক্রমশঃ অসুস্থ হয়ে পড়ল।ওর আর রাত্রে ঘুম আসে না। এক জায়গায় বসেই সারারাত কাটিয়ে দিত।ওর মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক করতে থাকল,”অঙ্কিতা কেন বদলে গেল”?

পরীক্ষার আর একদিন বাকি।একদিকে তো পড়া হয়নি আর এদিকে অঙ্কিতার অবহেলা ওকে অস্থির করে তুলল। বিচলিত হয়ে ও অঙ্কিতাকে ফোন করল।বারংবার ফোন করাতে অঙ্কিতা বিরক্ত হয়ে ফোন ধরল। অঙ্কিতার কথার ভাঁজ পুরো আলাদা হয়ে গেছে।ও তার কাছে অনুরোধ করল যে পরীক্ষা পর্যন্ত যেন সে তার সাথে কথা বলে। কিন্তু সে বিক্রমের কথা না শুনে ওকে অনেক উল্টোপাল্টা বলল।আফসোস এর স্বরে পরিহাস করল।বিক্রম ফোন কেটে দিল।ও বুঝে গেছে যে অঙ্কিতা বদলে গেছে। ও জানালার ধারে বসে নিঃশব্দে অঝোরে কাঁদতে থাকল।

প্রায় ঘন্টাখানেক অঝোরে কাঁদার পর উঠে চোখের জল মুছে টেবিলে পড়ে থাকা ধূলোমাখা বইগুলো মুছে পৃষ্ঠা উল্টাতে থাকল।ও বইগুলোর সাথে কথা বলে উঠে বলল। সে বইগুলোকে বলল, “এতদিন তোদের অনেক অবহেলা করেছি, এবার চল তোদের সাথে প্রেম করি”।

বিক্রম সেই যে আবার পড়া শুরু করল আর ওর সাথে কখনো পড়াশোনার ব্রেক-আপ হয়নি।

       

**************************

        ।।  দূরে না গিয়ে পিজ্জার স্বাদ পান ঘরে বসেই ।।

 ছোট কিংবা বড় পিজ্জা খেতে আমরা সকলেই ভালবাসি। এটি একটি ইতালিয়ান খাবার। পিজ্জা খেতে ইচ্ছে করলেই আমরা চলে যাই রেস্টুরেন্টে। তারপর বেশ ভালই খরচ হয় একটি পিজ্জার পেছনে। এবার আর পিজ্জা খেতে দূরে কোথাও যেতে হবেনা। ঘরেই তৈরি করে নিন পিজ্জা। জেনে নিন রেসিপি।

উপকরণ – প্রথমে তৈরি করে নিতে হবে পিজ্জার ডো। পিজ্জার ডো বানাতে লাগবে ময়দা 1 কাপ, ইষ্ট 2 চা চামচ, বেকিং পাউডার 1 চা চামচ, গরম জল আন্দাজ মত, নুন সামান্য।

ডো তৈরির পদ্ধতি – ইষ্ট আর বেকিং পাউডার মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর ময়দার সঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে নুন ও গরম জল। ডো তৈরি করা হয়ে গেলে তা গরম জলের একটি পাত্রের উপর ঢেকে রাখুন।

এবার আসা যাক টপিং-এ। টপিংয়ের জন্য লাগবে – 1 টি টমেটো ছোট কিউব করে কাটা, 2 টি পেঁয়াজ রিং করে কাটা, সেদ্ধ কিমা 2 টেবিল চামচ। 5 মিনিট ফ্রাইং প্যানে তেল গরম করে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে দিতে হবে। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করার পর দিয়ে দিন টমেটো কুচি। এর 5 থেকে 10 মিনিট পরে দিতে হবে কিমা সেদ্ধ। খানিকক্ষণ কষিয়ে নিয়ে নামিয়ে নিন।

পরবর্তী পর্যায়ে একটি ডিম ফাটিয়ে নিতে হবে। এরপর তাওয়াতে পুডিং এর স্ট্যান্ড রাখতে হবে এবং  একটা বড় পাত্র দিয়ে তাকে ঢেকে দিতে হবে। এই সময় গ্যাস ওভেনের আঁচ বাড়িয়ে রাখতে হবে। তাওয়াটি গরম হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে 10 মিনিট। এই সময়ের মধ্যে একটা বেকিং প্যানে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল লাগিয়ে তাতে তেল মাখিয়ে নিতে হবে। এবার ঢেকে রাখা পাত্রটি থেকে ডো বের করে নিন। তারপর তা বেলুন মোটা রুটির আকারে। তারপর তা প্যানে বিছিয়ে দিন। ডোর মাঝখানে মাখিয়ে  টমেটো সস দিয়ে টপিং দিন। এই সময় ডিমের পুরোটা না দিয়ে চারপাশে ছড়িয়ে দিন অল্প অল্প করে। এতে ফাঁকা জায়গাগুলি ভরাট হবে। তাওয়া গরম হয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে গরম পাত্রটা তুলে প্যান স্ট্যান্ডের উপরে বসিয়ে দিন।তাওয়া গরম হয়ে গেলে পাত্র দিয়ে ঢেকে দিন যাতে ভাপ বের না হয়।

এরপরবর্তী পর্যায়ে প্যানে তেল লাগিয়ে কম আঁচে 5-7 মিনিট খালি ডো বসিয়ে ঢেকে দিন। যখন সোনালি রঙ ধারণ করবে তখন সস দিয়ে টপিং করতে হবে। তারপর পিজ্জাতে চিজ,অরিগ্যানো ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

**************************

।। ঘাম মুক্ত পা পেতে যা যা করবেন ।।

সারাদিন জুতো মোজা পরে কাজ করতে করতে পা ঘেমে যায়। আর সেই কারণেই দুর্গন্ধ পাওয়া যায় মোজা থেকে। এক এক জনের এতটাই ঘাম হয় যে পাশে থাকা ব্যক্তিদের দুর্গন্ধে শরীর খারাপ লাগে। তাই ঘাম মুক্ত পা পেতে কী কী করণীয় জেনে নিন।

  1. সিন্থেটিক বা নাইলনের মোজার বদলে ব্যবহার করুন সুতির মোজা।
  2. যাদের ঘাম বেশি হয় তারা চা কফি, ঝাল মশলা যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।
  3. সপ্তাহে একদিন জুতো জোড়া পরিষ্কার করুন। পাশপাশি তা রোদে রাখুন কিছুক্ষণ।
  4. প্রতিদিন পরিষ্কার মোজা ব্যবহার করুন। এক মোজা 2 দিন পড়বেননা।
  5. পিরতিদিন স্নানের সময় পায়ে সাবান মাখুন। রাতে ফিরে পায়ে পাউডার লাগিয়ে রাখুন।
  6. গরম জলে সামান্য নুন ফেলে পা ডুবিয়ে রাখুন।
  7. রাতে শোয়ার আগে পায়ে ক্রিম লাগিয়ে নিন।

**************************