ভোরের গন্ধ

শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়

শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়

ব্যালকনি তে এসে দাঁড়ালো পারুল। ভোর হতে অার বেশি বাকি নেই।মফঃস্বলেরর একচিলতে এই ভাড়ার ফ্ল্যাটে,পূর্বমুখি ব্যালকনি টাই ওর সবচেয়ে পছন্দের।ভোর হওয়া দেখতে পারুলের ভালো লাগে ভীষণ।শুধু দেখা না, ভোরের শব্দ, গন্ধ, স্বাদ সব কিছুর মধ্যে মিশিয়ে দিতে চায় নিজেকে।এই সময়টা নিজের দেহ থেকে নিজের মা’র গন্ধ পায়, সেই কবেকার যেন গতজন্মের-মা ঠাকুরঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলছে “অায় পারুল, প্রসাদটা খেয়ে যা মা”।

বেলা বাড়লে গন্ধটা হারিয়ে যায়,কেমন একটা অাঁশটে গন্ধ ঘিরে ধরে পারুলকে।রতন খুব হাসে, পারুলের এইসব উৎকট ভাবনায়।একবার খুব রেগে গেছিলো , যেবার পারুল বলেছিল রতন ওর কাছে থাকলে অাঁশটে গন্ধটা ওর চারপাশে ঘুরতে থাকে সবসময়।সময় লেগেছিল পারুলের বুঝতে ঐ গন্ধটা রতনের শরীরে-মনে লেগে থাকা অন্য মানুষের রক্তের।এখন রতনের অাসা অনিয়মিত হয়ে গেছে এই ফ্লাটে,কার্যত এটা রতনের ‘সেফ হাউস’।বড় কোন ‘অ্যাকশনে’র পরে ক’দিনের গা ঢাকা,দাদারা ‘কেস’ ঠান্ডা ঘরে পাঠিয়ে দিলে অাবার কোলকাতায় ফেরা অার মাঝে ক’দিন পারুলের শরীরে মাছের দাপাদাপি। তবে রতন যে ‘প্রমোশনে’র চেষ্টা করেনি তা নয়, মাঝে কদিন সাদা পায়জামা পাঞ্জাবি,রিমলেস চশমা পোড়ে ‘রক্তদান সিবির, কিরা পোতিযোগিতা, পাড়ায় জলসা পোগ্গাম’ সবই করেছে। কিন্তু প্রতিযোগিতা খুবই কঠিন,অার সমাজসেবী রতনবাবুর থেকে ‘কিলার রতনা’ ই দাদাদের বেশি পছন্দ।

অাজ পারুলের ঘরে অনেকদিন পরে ভোরের গন্ধটা ধূপের সুবাসের মতো ছড়িয়ে অাছে । কাল অনেক রাতে যখন রতন এলো,ততোক্ষণে পারুল টিভি দেখে জেনে গেছিল ‘কুখ্যাত সমাজ বিরোধী রতনের গুলিতে কলেজ পড়ুয়া যুবকের মৃত্যু’র কথা।নিজের ঘুমের ট্যাবলেট র সবকটি এক এক করে মিশিয়েছিল পারুল দুজনের পানীয়তে। অনেক রাত অবধি চলে শেষ মৌতাত। রতন এখন ঘুমিয়ে অাছে বিছানায় একপাশ ফিরে, আর পারুল পুবের ব্যালকনি তে।ওদের ঘুম অার ভাঙবে না।