NRC থেকে বাদ পড়া 40 লক্ষ মানুষের ভবিষ্যত বিশ বাঁও জলে

এসবিবি, গুয়াহাটি:  অসমের নাগরিকপঞ্জি প্রকাশের পরেই ঝড় দেশ জুড়ে। দীর্ঘ 5 বছর ধরে সাড়ে 6 কোটি নথি নিয়ে তদন্ত চলে। 50 হাজার কর্মী নিরন্তর কাজ করেছেন। এনআরসি রেজি জেনারেল অফ ইন্ডিয়ার শৈলেশের দাবি, এটি খসড়া। সকলেই নিজের নাম ঢোকানোর সুযোগ পাবেন। যাঁরা পারবেন না তাঁদের সাহায্য করবে দফতর।

এনআরসি জানাচ্ছে তারা ভারতের নাগরিকত্ব আইন মেনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে জাতীয় নাগরিক তালিকার চূড়ান্ত খসড়া থেকে 40 লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়ার পর তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

কেন্দ্রীয় সরকার যদিও জানিয়েছে, এখনই তাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তারা আবেদন করার যথেষ্ট সুযোগ পাবেন। ভারতে পর্যবেক্ষকরাও মনে করছেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা সম্ভব নয় – আর তাদের কাউকেই বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোও যাবে না।

আসলে আসামে নাগরিক তালিকা বা এনআরসির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে 40 লক্ষ মানুষের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ল, তারা স্বাধীন ভারতে এখন কীভাবে থাকবেন তার কোনও স্পষ্ট উত্তর কারও কাছে নেই।পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং তাদের শুধু এটুকু আশ্বাস দিয়েছেন, এখনই অত ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই।কেউ যদি ঠিকমতো কাগজপত্র না-দিতে পারেন তারা আবার সেই সুযোগ পাবেন, এমন কী চূড়ান্ত তালিকাতে নাম না-থাকলেও ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে যেতে পারবেন। আর এর মাঝে তাদের ভয়-ভীতি দেখানোর কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা করছেন, আসাম থেকে এবার এই মানুষগুলোকে বিতাড়নের চেষ্টা হবে। তাঁর অভিযোগ, “তাদের ওপর যে কী অত্যাচার চলবে, আর কী হবে আমরা জানি না। কিন্তু সেটা ভেবেই আমরা খুব বিচলিত। আসলে দেশে থেকে যারা আজ দেশেই রিফিউজি হয়ে গেল, তারা তো আমাদেরই ভাইবোন, তাই আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।”

মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, “এটা আসলে বাঙালি খেদাও চলছে। আর শুধু বাংলাভাষীরাই বা কেন, বিহারি খেদাও-ও চলছে। আর এতে সবচেয়ে বিপদে পড়বে বাংলাদেশও। কারণ পুশব্যাক যদি করতে চায়, আর বাংলাদেশ তাদের নিতে না চায়, তাহলে এই লোকগুলো যাবে কোথায়?”

সমস্যা হল, এত লক্ষ লক্ষ লোককে সেন্টারে আটক রাখা সম্ভবই নয়। কেন্দ্র যদিও মুখে বলে যাচ্ছে আমরা ডিটেনশন সেন্টার তৈরি করতে আসামকে টাকা দিয়েছি, রাজ্য সরকার বানাবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হল, এত বিপুল সংখ্যক লোককে কীভাবে সেন্টারগুলোতে রাখা হবে?”

কিন্তু এই মুহূর্তে অসমে যাতে কোনও দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছড়িয়ে না পড়ে, রাজ্য সরকারের প্রধান দুশ্চিন্তা সেটাই। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল তালিকা প্রকাশের পর পরই জানান, অসম তার শান্তি ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য এখনও বজায় রাখবে বলেই তিনি আশাবাদী।