স্মার্ট ফোনই এখন সাংবাদিকাতার হাতিয়ার

এসবিবিকাগজ-কলমের পর ক্যামেরা ছেড়ে এখন স্মার্ট ফোন। সাংবাদিকতার নতুন হাতিয়ার এখন মুঠোবন্দি একটা পাঁচ ইঞ্চির যন্ত্র। গোটা বিশ্বকে আপনি দেখতে পাবেন। গোটা বিশ্বকে আপনি দেখাতে পারবেন। যার ব্যাপ্তি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের থেকে কয়েকগুন বেশি। তাই ধীরে ধীরে স্মার্ট ফোন এখন সংবাদিকতার নতুন হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এ ধরনের সাংবাদিকতাকে বলা হচ্ছে মোবাইল জার্নালিজম, সংক্ষেপে মোজো।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির প্রভূত অগ্রগতির ফলে আধুনিক সাংবাদিকতার ধরন-প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া গণমাধ্যমের উন্নয়নে নতুন যুগ এনে দিয়েছে। ফলে বাড়ছে নতুন চ্যালেঞ্জও। বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকার জন্য সংবাদমাধ্যমকে সপ্তাহের সাত দিন, দিনের 24 ঘণ্টাই তরতাজা সংবাদ প্রচার করতে হচ্ছে। সংবাদ পরিবেশনে যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, কনটেন্ট একীভূতকরণ ও তা প্রচারকে আধুনিক সাংবাদিকতার প্রবণতা বলে মনে করা হয়। মিডিয়া বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইন্টারনেটভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যমই হবে আগামী দিনের সংবাদমাধ্যম।

অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে বর্তমানে সাংবাদিকদের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের দ্রুত খাপ খাওয়ানো এবং অনেক বেশি কনটেন্ট তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি একজন সাংবাদিক বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে (প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ওয়েব, সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল) সব ধরনের মিডিয়া কনটেন্ট (টেক্সট, স্থির আলোকচিত্র, অডিও-অডিও) তৈরি ও উপস্থাপন করতে পারছেন। শুধু তা-ই নয়, সাংবাদিককে নিউ মিডিয়া ব্যবহার করে পাঠকের সঙ্গে আদান-প্রদানমূলক যোগাযোগ বজায় রাখার কৌশল জানতে হচ্ছে। এতে ভার্চ্যুয়াল জগতে তাঁর এবং ওই সংবাদমাধ্যমের পরিচিতি বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের অনেক বন্ধু হয়ে উঠতে পারেন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদসূত্র।

সাংবাদিকতার কাজে, বিশেষ করে সম্প্রচার গণমাধ্যমের জন্য পেশাদার মিডিয়া কনটেন্ট তৈরি করতে হলে ‘স্মার্টফোন ফিল্মিং’-এর বাস্তব শিল্প সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। সিএনএন, বিবিসি কিংবা আল-জাজিরার মতো প্রভাবশালী গণমাধ্যমগুলো মোবাইল সাংবাদিকতা-বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। বিবিসির কলেজ অব জার্নালিজম ইতিমধ্যে তাদের আটশ সাংবাদিককে মোবাইল সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণ দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে কর্মরত এসব সাংবাদিক বিবিসির জন্য নির্মিত ‘পিএনজি’ নামের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেদন, ভিডিও, স্থিরচিত্র কিংবা অডিও বিবিসির লন্ডনের অফিসে পাঠাচ্ছেন।

আমাদের দেশে মোবাইল সাংবাদিকতা এখনও পুরোপুরি পরিচিতি লাভ করতে পারেনি। প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ আর প্রশিক্ষণের অভাব থাকায় অনেকের মনে নতুন ধারার এই সাংবাদিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। মোবাইল সাংবাদিকতা বিকাশে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমগুলো সাংবাদিকতা পেশার গুণগত মান বাড়ানোর লক্ষ্যে এ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করতে পারে।