উইকএন্ডে বেড়িয়ে আসুন মাইথন

এসবিবি : কাছাকাছি কোথাও বেড়াতে যেতে চাইলে যেতে পারেন মাইথন। প্রাকৃতির মাঝে নিরিবিলিতে সময় কাটানোর এক আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র।

যেভাবে যাবেন : কলকাতা থেকে মাইথনের দূরত্ব 230 কিলোমিটার। হাতে যদি থাকে 2-3 দিন তবে অনায়াসেই ঘুরে আসতে পারেন মাইথন। সড়ক পথে গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন কিংবা ট্রেনে করেও যেতে পারেন। গাড়ি নিয়ে যেতে হলে 2 নং জাতীয় সড়ক ধরে যেতে হবে আসানসোল। তারপর কিছুটা এগিয়ে গিয়ে যেতে হবে ডানদিকের রাস্তায়। যে রাস্তাটি সোজা কল্যানেশ্বরী মন্দিরের দিকে চলে গেছে। যদি ট্রেনে করে যান তাহলে নামতে হবে আসানসোল স্টেশনে।  কল্যানেশ্বরী মন্দির থেকে আরও কিছুটা পথ এগোলে আপনি পৌঁছে যাবেন মাইথনে।

কখন যাবেন : মাইথন যাওয়ার জন্য আদর্শ সময় হল ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস। শীত বিদায়ের সময় হাল্কা ঠান্ডায় ঘুরতে যাওয়ার জায়গা এটি।

যেখানে থাকবেন : মাইথনে থাকার জায়গা বলতে বেশ জনপ্রিয় মজুমদার নিবাস। যাওয়ার আগে ডিভিসি-র মাধ্যমে অবশ্যই বুকিং করে রাখতে হবে। না হলে ঘর পাওয়া মুশকিল হবে। লজটির বিশেষত্ব হল, এটি তৈরি করা হয়েছে একটি দ্বীপের মধ্যে। যেখানে যেতে হলে আপনাকে মেন রোডের ওপরে থাকা একটি ফুট ব্রীজ দিয়ে হাঁটতে হবে। এরকম সুন্দর , মনোরম পরিবেশে থাকলে এমনিতেই মানুষের মন ভাল থাকবে। থাকার পাশাপাশি এখানে খাওয়ার বন্দোবস্তও খুব ভাল। একদম ঘরোয়া।

দর্শনীয় স্থান :  মাইথনে দেখার জায়গা বলতে রয়েছে মাইথন ড্যাম্প, ডিয়ার পার্ক, সবুজ দ্বীপ, এবং কল্যানেশ্বরী মন্দির।

মাইথন ড্যাম্প – বরাকর নদীর ওপর তৈরি করা হয়েছে মাইথন ড্যাম্প। বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে 12 টি লক গেট। এই ড্যাম্পটির এক পাশে রয়েছে ঝাড়খন্ড আর অন্য পাশে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ।

ডিয়ার পার্ক : যে দিকে রয়েছে মাইথন ড্যাম্প সেই দিকেই রয়েছ ডিয়ার পার্কটি। নাম সুনেই বোঝা যাচ্ছে পার্কটি বিখ্যাত হরিণের জন্য। এখানে প্রায় 200 টি হরিণ রয়েছে। এদের সঙ্গে পরিচয় করতে হলে আপনাকে বাঁধের ওপর উঠতে হবে। কারণ এই পার্কে প্রবেশ নিষেধ।

সবুজ দ্বীপ : সপ্তাহের শেষে 2-3 টি দিন বাড়ির বাইরে কাটাতে ইচ্ছে হলে বেড়িয়ে আসতে পারেন সবুজ দ্বীপ। 300 টাকার একটি বোট বুক করে নিলেই সোজা পৌঁছে যাবেন এই দ্বীপে। নিরিবিলিতে খোলা আকাশেপ নিচে সময় কাটানোর এক আদর্শ জায়গা। জলপথে ভ্রমণের পাশাপাশি পাহাড়ের মজাও পাবেন।

কল্যানেশ্বরী মন্দির : মাইথন যাওয়ার পথে পাবেন কল্যানেশ্বরী মন্দির। আসানসোল স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে। এই মন্দিরে পূজিত হন দেবী জগদ্ধাত্রী। মাইথন থেকে পায়ে হেঁটেও আসা যায় কল্যানেশ্বরী মন্দিরে।