রবিবারের বাবুইবাসা : 12.08.2018

।। ধারাবাহিক উপন্যাস – ডায়েরির পাতা থেকে ।।

সৈয়দ হুমায়ুন রাণা

পরবর্তী অংশ…

– “যাই কখুনু মাসে একবার, দুবার, সময় হলে”।

– আচ্ছা কমলা তোমাদের বাজার হাট এখানে কতদূরে?”

– “সে ঢেক দূরে। এক ক্রোশ দূর। লতুন বাজারে হাট বসে হপ্তাহে 2 দিন। ক্যানে বাবু ?”

 

-“আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা-কাটা করতে হবে তো? তাই আর কি।”

– “সে আমাকে বুলবেন, লিয়ে এসে দিবো ক্ষন।”

 

– ঠিক আছে বলবো।

– “ডাক্তারবাবু চা খাবেন?” আমার মনের কথাটাই কমলা বলেছে। বললাম, খাব।

কমলা খুব উত্সাহিত হয়ে, ঘরে প্রবেশ করলো চা তৈরি করতে। আমাকে একটি মোড়া বাড়িয়ে দিল বসতে।আমি ধন্য হলাম।

তারপর বেশকিছু সময় কমলার সহ্গে গল্প করে, আমার সহকর্মীদের কাছে ফিরে এলাম। ওরা আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। কানু মাঝির বৌ ময়না বৌদি কেটলিতে করে চা আর থালা ভর্তি করে মুড়ি এনে, আমাদের খাওয়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। পাড়া গাঁয়ে চায়ের সঙ্গে মুড়ি খাওয়ার প্রচলন এখনও রয়েছে।

তারপর একটু বেলা হলে, আমরা ত্রিপলের টেন্ট খাটিয়ে চেয়ার, টেবিল নিয়ে বসলাম। রীতিমত ডাক্তারবাবু সেজে। ক্রমে, ক্রমে সেখানে ভিড় বাড়তে শুরু করল। খাবার দেখলে খিদে বাড়ে? ডাক্তারবাবু দেখলে রোগীর সংখ্যা বাড়ে। আমাদের ব্যস্ততা বাড়ে দিনকে দিন। আমরা সময়মত খেতেও পারতাম না। তা যাকগে, আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে ধ্যাদ্দেরে গোবিন্দপুরে এসেছিলাম তা সার্থক হয়েছে। আমরা খুশি হয়েছিলাম।

আমরা খুব সতর্কভাবে এগোচ্ছিলাম – প্রথমেই রাজনীতি করা যাবে না। মানুষের মন বুঝতে হবে। ওদের আরও কাছে পেতে হবে ভালবাসা দিয়ে। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নামে রাজনীতির ফাঁসে এই গ্রাম্য নীরিহ মানুষগুলি কে ফাঁসিয়ে? মায়াসুতোর ধাগায় বেঁধে ফভেলা – এটা আমাদের রাজনৈতিক চরিত্র। তখন ওরা আমাদের দলের লোক হয়ে যাবে আপনে আপ। সেখানে কোনও গাঁয়ের জোর খাটেনা ­ভালবাসার মায়া বন্ধন। ভালবাসার এবং ভাললাগার একটি শক্তি বন্ধন। ভালবাসার এবং ভাললাগার একটি শক্তি আছে তাই না?

*****************************

 

।। স্বাধীনতা ও স্বাধীন-হীনতা ।।

আক্রাম সেখ 

বুক চিতিয়ে, রক্ত ঝরিয়ে ছিনিয়ে নিয়েছিল ওরা জয়, নির্মম ইংরেজদের গুলির সামনে চোখে চোখ রেখে বলেছিল, থাকব না আর পরাধীনতায়।  অসহ্য যন্ত্রনা-অত্যাচার সহ্য করেও যখন আপামোর দেশবাসী, মানল নাকো হার। ধর্মের নামে ভাগ করা হল দেশ। বীজ বপন ককরা হল, সাম্প্রদায়িকতার।  রাস্তায় নামল সুবিশাল মিছিল জয়ধ্বনি দিয়ে হাঁটল হাজার লোক, দেশ সেজেছে তেরঙ্গায় কাটে নি তখনও কারও চোখে,  শহীদের রক্ত ঝরার শোক। কেটেছে স্বাধীনতার সাত দশক কিন্তু বিপ্লবীদের স্থান আজ, শুধু ইতিহাসের পাতায়। লুন্ঠিত হচ্ছে গণতন্ত্র  কণ্ঠরোধ হচ্ছে বাক-স্বাধীনতায়। দিন দিন বাড়ছে নির্দোষ খুন, নির্যাতিত হচ্ছে দলিত সম্প্রদায়, ধর্ষনের মত নানা অমানবিক ঘটনা ঘটছে, নারী-শিশু ভুগছে নিরাপত্তাহীনতায়। সীমান্তে সৈন্যরা দিচ্ছে পাহারা। প্রায়ই ঝরছে তাদের রক্ত, আর এদিকে নীরিহ মানুষদের করছে হত্যা বাবার অন্ধ ভক্ত। উগ্রপন্থীরা আজ, রূপ ধারণ করেছে ভয়াবহ। এযেন মারাত্মক সংকটের পূর্বাভাস। জেগে ওঠ আবার,’ভগৎ- মাস্টারদা- ক্ষুদিরাম’, ফিরে এসো ‘বিবেক-সুভাষ।’

*****************************

।। লজ্জা ।।

সুনন্দ সান্যাল

শ্যামলী মান্না তাঁর একমাত্র মেয়ে কৌশানীকে বললেন “কি রে বুল্টি, ওঠ ঘুম থেকে, কলেজ যাবি না আজ ?” কৌশানী উঠে বসে নিভু নিভু চোখে উত্তর দিল “হ্যাঁ, যাব তো। ঠিক সময়েই যাব। আজ ফিরব কিন্তু বিকেলে 5 টায়, মনে রেখ।” শ্যামলী মান্না একটু অবাক হয়ে “কেন রে ? কোথায় যাবি ?” কৌশানী বিছানা থেকে নেমে টুথপেস্ট আর ব্রাশটা নিতে নিতে বললো “কি গো, মা তুমি কি সবই ভুলে যাচ্ছো, কলেজের পর মহুয়া দিদিমণির বাড়িতে যাব, আজ মঙ্গলবার কোচিং আছে তো।” “ও! হ্যাঁ, তো” শ্যামলী মান্না একটু অপ্রস্তুত হয়ে পড়েন, পরে নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন “শোন বুল্টি, আজ ভাবছি একবার ডাক্তারকে দেখিয়ে আসি, মাঝে মাঝেই মাথাটা ব্যথা করে আর এমন একটা ঝিলিক লাগে যে অল্প সময়ের জন্য কেমন যেন সব ভুলে যাই।” কৌশানী মুখ ধুয়ে মায়ের কাছে এসে মায়ের শাড়ীর আঁচলে মুখটা মুছতে মুছতে বললো “মা, তুমি আজকেই ডাক্তার দেখাও, আজ আর তোমার কাজে যাওয়ার দরকার নেই। আমি যাব তোমার সাথে ?” শ্যামলী মান্না মেয়েকে জড়িয়ে ধরে বললেন “না রে আমি একাই ঠিক পারব। তুই শুধু মন দিয়ে পড়াশোনা কর মা, তোকে নিয়ে শুধু আমি নই আমাদের গোটা গ্রাম স্বপ্ন দেখছে। তোর বাবার স্বপ্ন ছিল, তুই খুব বড় মনের মানুষ হয়ে দেশ ও দশের সেবা করিস, তিনি তো আর দেখে যেতে পারলেন না, কিন্তু আমি দেখে যাব।” কৌশানী মায়ের চোখের কোণার জল মুছতে মুছতে বললো “আমার মিষ্টি মা, আমার সোনা মা, সব ঠিক হবে, এখন তাড়াতাড়ি খাবারটা ঠিক কর, আমি দশ মিনিটে রেডি হয়ে আসছি।” কৌশানী খেয়ে নিয়েই ব্যাগটা পিঠে চাপাতে চাপাতে বললো “মা, সাবধানে  যাবে, ফোনটা সাথে নেবে। আমি কলেজ থেকে বেড়িয়ে ফোন করব।” শ্যামলী মান্না উত্তরে জানালেন “হ্যাঁ, ফোন করিস আর সাবধানে যাবি”। দুগ্গা,দুগ্গা।”

দুপুরে কলেজ শেষ হতেই কৌশানী ফোন করে তাঁর মাকে। “কি গো দেখিয়েছো ? কি বললেন ডাক্তার ?” ফোনে জিগ্যেস করে কৌশানী। শ্যামলী মান্না উত্তরে বলেন “হ্যাঁ, এই তো দেখালাম, এখনও স্বাস্হ্য কেন্দ্রের সামনেই আছি, অনেকরকম কি সব মাথার ছবি তুলতে দিয়েছে আর দুটো ওষুধ দিয়েছে রে। এই ওষুধ কিনেই বাড়ি যাব। তুই খেয়েছিস তো, মা ? এখন পড়তে যাবি তো ? কৌশানী উত্তরে বললো “হ্যাঁ, আমি ঠিক আছি, খেয়েছি, পড়তে যাচ্ছি, তুমি সাবধানে বাড়ি ফেরো, আর শোনো পৌঁছে আমায় একটা কল করো, বুঝলে, এখন রাখলাম। শ্যামলী মান্না উত্তরে বললেন “হ্যাঁ, ঠিক আছে, রাখ।”

মহুয়া দিদিমণির কোচিং থেকে বেরোনোর পর বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে আচমকা মনে পড়লো কৌশানীর, আরে মা তো বাড়ি পৌঁছে ফোন করেনি, নিশ্চুই ভুলে গেছে, উফফ মা না পারেও ভুলে যেতে, এই ভাবনা শেষ হতে না হতেই কৌশানীর ফোনটা বেজে ওঠে। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখে মা কল করছে, তাই ফোনটা রিসিভ করেই বলে ওঠে “কি গো, মা, এতক্ষণে কল করছো, ভুলে গেছিলে ?” অপরপ্রান্ত থেকে এক ভারী পুরুষকন্ঠ বলেন “আপনি কি বুল্টি ?” কৌশানী অবাক হয়ে বললো ” হ্যাঁ, বলছি, আমার মা কোথায় ? আপনি কে ?” আবার সেই ভারী পুরুষকন্ঠ  বলে ওঠেন “আমি ফাল্গুনী থানার ও সি অর্জুন প্রধান কথা বলছি, আপনি শীঘ্রই ফাল্গুনী সেবাসদন হাসপাতালে আসুন।” কৌশানী জিগ্যেস করে “কি হয়েছে ? মা কোথায় ?” অর্জুন প্রধান বলেন “আপনি আগে আসুনতো, আপনার মা এখানেই আছেন।”

একরাশ উত্কন্ঠা নিয়ে কৌশানী পৌঁছায় হসপিটালে। প্রথমতলাতেই পুলিশের ভীড় দেখে কৌশানী জিগ্যেস করে “আচ্ছা অর্জুনবাবু কে ?” ভীড়ের মধ্যে থেকে একজন ভারী চেহারার পুলিশ কৌশানীর সামনে এসে বলেন ” আমি ও সি অর্জুন প্রধান, আপনি কি বুল্টি ?” কৌশানী মাথা নেড়ে জানায় “হ্যাঁ, আমি বুল্টি”। অর্জুন প্রধান বলেন “আপনার কোনো পরিচয়পত্র আছে আপনার কাছে ?” কৌশানী ব্যাগ থেকে কলেজের পরিচয়পত্র বের করে অর্জুন প্রধানের হাতে দেয়। অর্জুন প্রধান, পরিচয়পত্রটি দেখতে দেখতে বলেন “আসুন আমার সাথে।” কৌশানী, অর্জুন প্রধান এবং দুজন মহিলা কনস্টেবল চলে গেলেন হসপিটালের ভিতরে, সেখানে একটি কক্ষে একটি স্ট্রেচারে রাখা মৃতদেহর মুখের ঢাকা কাপড় সরিয়ে কৌশানীকে জিগ্যেস করেন “দেখুন, ইনি কি আপনার মা ?” কৌশানী পুরো বিস্মিত, চোখের কোণা থেকে জল গাল চুঁইয়ে পরছে, এবার সে “মা” চিত্কার করে কান্নায় ভেঙে পড়ল। বেশ কিছুক্ষণ পর কৌশানী নিজেকে সামলে জিগ্যেস করে “কি হয়েছিল ? আমার মায়ের মুখে অত আঘাতের চিহ্ন কেন ?” অর্জুন প্রধান উত্তরে বলেন “তোমার মা ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার পথে রাস্তা ভুল করে ঢুকে পড়েন বিশালদানি গ্রামে। একটি চা-এর দোকানে বসে পড়েন, বোধহয় অসুস্হ বোধ করছিলেন, আমরা প্রেসক্রিপশন আর ওষুধ পেয়েছি। চা-য়ের দোকানে একটি বাচ্চা মেয়েকে দেখে ওনার খুব ভালো লাগে এবং বাচ্চা মেয়েটির সাথে গল্পও করেন। এর একটু পরে তোমার মা বাড়ি ফেরার জন্য হাঁটতে শুরু করেন, একটুখানি এগোতেই অমর সংঘ ক্লাবের সামনে তাঁকে ঘিরে ধরেন স্হানীয় লোকেরা, এবং তোমার মাকে ছেলেধরা চিহ্নিত করে গুজব রটিয়ে দেওয়া হয় গোটা বিশালদানি গ্রামে। তারপর তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে, অর্ধনগ্ন করে অকথ্য পাশবিক অত্যাচার চালায় স্হানীয়রা। আমরা ক্লাবের 15 জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছি। আমি জানিনা আর বুঝতেও পারছি না তোমায় কি বলে সমবেদনা জানাবো। তোমার গ্রামের প্রতিবেশীদের খবর পাঠিয়েছি, সবাই আসছেন।”

শ্যামলী মান্নার মৃত্যুর আজ একবছর পূর্ণ হল। কৌশানী এখন মহুয়া দিদিমণির কাছে থাকে, মায়ের ছবির সামনে দাঁড়িয়ে এই রুপ অত্যাচার ও মৃত্যুর ভয়াবহতা অনুভব করার চেষ্টা করছে, কৌশানী ও মহুয়া দিদিমণি। “এত উন্নত ও শিক্ষিত যুগে, তোর মায়ের এইরুপ মৃত্যু খুবই শঙ্কাজনক ও লজ্জাজনক, এখনও আমরা মনুষ্যত্বের বিচারে অনেকটাই পিছিয়ে তারই যেনো জলজ্যান্ত উদাহরণ এই ঘটনা। কিন্তু কৌশানী, ভেঙে পড়লে বা হাল ছেড়ে দিলে তো চলবে না। তোকে, আমাকে এবং সমাজের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদেরকেই দায়িত্ব নিতে হবে, মানবিকতা ও মনুষ্যত্বের সু-দৃষ্টান্ত আগামীর কাছে রেখে যাওয়ার দায়িত্ব যেন আর কোনও শ্যামলী মান্নাকে অকারণে অকালে এইভাবে পৃথিবী ছেড়ে যেতে না হয়।” কৌশানীর কাঁধে হাত রেখে বললেন মহুয়া দিদিমণি।

*****************************

।। “স্বাধীনতা চাই” ।।

 

অভিষেক দত্ত রায়

 

জও কারাগারে বন্দি স্বাধীনতা

ছোট ঘুলঘুলির আলোর দিকে উঁকি দেয়,

লোহার কাঁকন, লোহার অলঙ্করণ বেষ্টিত স্বাধীনতা চাই না।

ডানা ঝাপট, ওড়া মানা,

চাই না-

চাই না এই রুদ্ধ স্বাধীনতা।

আজও খাতায় কলমে সন্ধি স্বাধীনতা।

ছোট্ট সিল-মোহরের ঝাপসা রঙের দিকে উঁকি দেয়,

নথির বোঝায়, কথার ছলে মণ্ডিত

স্বাধীনতা চাই না।

চাই না-

চাই না এ নির্লিপ্ত স্বাধীনতা,

আজও অতলে, সাগরতলে স্বাধীনতা,

হোক মন্থন, উত্তোলিত হোক, হোক মুক্ত।

গড়ল পানে দ্বিধা নেই,

চাই যে স্বাধীনতা।

*****************************

।। জেনে নিন, ফোসকা পড়লে কী করবেন? ।।

তুন জুতো পড়তে কার না ভাল লাগে। তবে, নতুন জুতোর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল ফোসকা। এর ফলে পা জ্বালা করে ও হাঁটতে অসুবিধে হয়। ফোসকা পড়লে আমরা সাধারণত ব্যান্ডেট লাগিয়ে নিই। এটা সাময়িক। ফোসকা পড়লে ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করুন। এতে দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। জেনে নিন পদ্ধতি।

নারকেল তেল: নারকেল তেল ত্বকে রাখে কোমল ও মসৃণ। সেইসঙ্গে জ্বালাভাব কমাতেও দারুণ কার্যকরী। নতুন জুতোয় খানিকটা নারকেল তেল আগে থেকে লাগিয়ে রাখা হয় তা হলে জুতোর চামড়াও নরম হয়ে যাবে। বাড়ির আশেপাশে নারকেলগাছ থাকলে একটি সবুজ নারকেলপাতা জোগাড় করুন। পুরোটা না হলেও চলবে। দু-একটা সবুজ স্ট্রিপ হলেই হবে। এরপর পাতাটা পুড়িয়ে নিন। ছাইটা নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে একটা পরিষ্কার কৌটোয় ভরে ফ্রিজে রেখে দিন। এই মিশ্রণ লাগালে পায়ে কড়াও পড়বে না, ফোসকাও পড়বে না

মধু: মধু  জ্বালাভাব কমিয়ে দ্রুত ক্ষত সারায়। ফলে  দাগও মিলিয়ে যায় তাড়াতাড়ি। ফোসকার উপর মধুর সঙ্গে তিলের তেল মিশিয়ে লাগানো যেতে পারে। মিশ্রণটি শুকিয়ে গেলে ধুয়ে নেবেন। তবে, সেন্সিটিভ স্কিনের পক্ষে মধুতে অ্যালার্জি হতে পারে, তাই সতর্ক থাকবেন।

চালের গুঁড়ো: ফোসকা শুকিয়ে গেলেও থেকে যায় তার দাগ। এর মূল কারণ মৃত কোষ৷ যথাযথ এক্সফোলিয়েশন হলে ফোসকা সারেও তাড়াতাড়ি, দাগও মিলিয়ে যায়।  চালের গুঁড়ো আর জল গুলে মোটা মিশ্রণ বানিয়ে নিন। ফোসকার দাগের উপর মিশ্রণটি লাগিয়ে শুকোতে দিন৷ তার পর জলে ধুয়ে নিন। পা মুছে ভালো করে ময়েশ্চরাইজার লাগাতে ভুলবেন না।

অ্যালোভেরা: ফোসকা পড়ার পর যে জ্বালা ও ব্যথাভাব থাকে, সেটা কমাতে দারুণ উপকারী অ্যালোভেরা।  অনেক সময় ফোসকা ফেটেও যায়, সেক্ষেত্রেও অ্যালোভেরার অ্যান্টি মাইক্রোবায়াল প্রপার্টি কাজে আসবে। সরাসরি পাতার নির্যাস লাগাতে পারেন বা বাজারচলতি অ্যালোভেরা জেলও ব্যবহার করতে পারেন।

পেট্রোলিয়াম জেলি: নতুন জুতো পরার আগের দিন সারা রাত তার ভিতরে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে রাখুন। জুতো নরম হয়ে যাবে। ফোসকা পড়ার সম্ভাবনাও কমবে। আর যদি একান্ত পড়েই যায়, তা হলেও নিয়মিত পেট্রোলিয়াম জেলি লাগাতে থাকুন। পায়ের ত্বক আর্দ্র থাকলে ফোসকা সারবে তাড়াতাড়ি।

*****************************

।। চটজলদি রেসিপি চিড়ের পোলাও ।।

টপট বানানোর মত একটি রেসিপি হল চিড়ের পোলাও। বাচ্চাদের টিফিনেও দিতে পারেন। খিদে পেটে চিঁড়ে খেলে অনেকক্ষণ পেট ভরা থাকে।

উপকরণ – চিঁড়ের পোলাও বানানোর জন্য লাগবে চিড়া (ধুয়ে নিয়ে জল ঝড়িয়ে রাখা) 2 কাপ, ডিম 2 টি, পেঁয়াজ 1 টি,  কাচা লঙ্কা 2-3 টি (চেরা), চিনি, নুন, তেল ,কাজু কিসমিস  পরিমাণমত।

প্রণালী – কড়াইয়ে তেল গরম করে ডিম সামান্য নুন দিয়ে ফেটিয়ে ঝুরি করে ভেজে উঠিয়ে নিন (যেভাবে আমরা নুডুলস এ ডিম দিই)। এবার  পেঁয়াজ,লঙ্কা ভাল করে ভেজে ভেজান চিড়ে দিয়ে দিন। এবার ডিম, নুন, চিনি দিন। চিনি দিলে প্রথমে একটু জল ছাড়বে। পরে আঠালো হবে। চিড়েটা ভাজা ভাজা হবে। ঝরঝরে হলে নামিয়ে কাজু কিসমিস দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন চিড়ের পোলাও।

*****************************