শেয়ারেও জাগছে বাঙালি

পার্থসারথি গুহ

পার্থসারথি গুহ

বাজার বলতে সাধারণত আমাদের সামনে ভেসে ওঠে রোজকার হাটেবাজারের কথা। সকালে থলে হাতে নিয়ে যে জায়গায় গিয়ে আমরা শাকসবজি বা মাছ মাংস কিনে থাকি তাকেই মূলত বাজার হিসেবে অভিহিত করি আমরা। এছাড়াও পাইকারি ও খুচরো অনেক বাজারই আমাদের সামনে দৃশ্যমান হয়ে থাকে। সে অর্থে শেয়ার বাজার একেবারেই ভিন্ন গ্রহের মতো গড়পড়তা বাঙালির কাছে।

অর্থাৎ শেয়ার বাজার বাঙালির কাছে যারা হঠকে তো বটেই। যদিও আজকের বিশ্বায়নের প্রেক্ষিতে বাঙালি শেয়ারেও বেশ মজেছে তা হরফ করে বলা যায়। সবক্ষেত্রে হয়তো সরাসরি শেয়ার কেনা বেচায় যুক্ত হচ্ছেন না তারা। মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে পরোক্ষ ভাবে অর্থবাজারে প্রবেশ ঘটেছে তাদের। গুজরাত, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রের বাসিন্দাদের থেকে তাই শেয়ারে লগ্নির ব্যাপারে কোনও অংশে পিছিয়ে থাকছে না বাংলা। শেয়ার বাজার এখন আর ব্রাত্য নয় বাঙালির কাছে।

এমনিতে শেয়ার বাজারে লগ্নির ক্ষেত্রে একটা ভুল ধারনা কাজ করে অনেকের মনে। যে এখানে বিনিয়োগ করা মানে একটা বিশাল অঙ্কের টাকা খাটানো। এই কথাটা এক অর্থে ঠিক হলেও ধ্রুব সত্যি নয় মোটেই। সাধারণ রোজগারি মানুষ তাদের সঞ্চয়ের জায়গা থেকে একটা পরিমান অর্থ বরাদ্দ রাখতে পারে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ এর ক্ষেত্রে। প্রতিমাসে একটা নির্দিষ্ট সময় ওই শেয়ার কিনতে হবে অল্প অল্প করে। হ্যাঁ, একেবারে একগুচ্ছ টাকা না লগ্নি করে ধাপে ধাপে টাকা লগ্নি অত্যন্ত বুদ্ধিমানের কাজ। তবে প্রথমে ঠিকঠাক শেয়ার বাছাই করা হল খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভাল শেয়ার যদি কিনে রাখা যায় তবে সুফল মিলতে বাধ্য। আর রামু শামুর কথায় ভুলভাল শেয়ার কিনলে পুঁজির সাড়ে সর্বনাশ হতে সময় লাগে না। অবশ্য শেয়ার বাজারে কাজ করতে তার আগে বুদ্ধি করে যে কাজটা করতে হবে তা হল একটা ডিম্যাট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলা। যাতে আপনি বা আপনারাও শেয়ার বাজারে পা রাখতে পারেন। কারণ জলে না নামলে তার গভীরতা তো আর বোঝা যায় না। তাই আর দেরি না করে চলুন কাছেপিঠের কোনও সেবি অনুমোদিত জায়গায় নথিভুক্ত হওয়া যাক। আর বলা যাক শেয়ারেও আছে বাঙালি।