ক্ষমতায় বসেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ইমরানের, ভারত পারে না কেন?

এসবিবিক্ষমতায় এসেই মন্ত্রিসভার সদস্যদের সরকারি খরচে রাশ টানলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সাফ জানিয়ে দিলেন সরকারি টাকা ইচ্ছেমতো নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যাবহার করতে পারবেন না কোনও নেতা, আধিকারিক থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী এমনকি প্রেসিডেন্ট। সরকারি টাকায় বিমানের প্রথম সারিতে ভ্রমণ করা যাবে না। শুক্রবার মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শুক্রবারের এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সরকারি খরচে আধিকারিক, প্রধান বিচারপতি, সেনেট চেয়ারম্যান, মুখ্যমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট কেউই বিমানে প্রথম শ্রেণিতে ভ্রমণ করতে পারবেন না। তাঁদের ক্লাব বা বাণিজ্য শ্রেণিতে ভ্রমণ করতে হবে। একটি প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী জানান,’সেনাপ্রধানরা কখনই সরকারি খরচে প্রথম শ্রেণিতে ভ্রমণ করেন না’।

প্রসঙ্গত, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বাত্‍সরিকভাবে 51 লক্ষ সরকারি টাকা ব্যয় করতেন। এদিন এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। পাশাপাশি মন্ত্রীদের বিশেষ বিমানে বিদেশ ভ্রমণের রাস টানছে ইমরান সরকার।

গত 25 জুলাই ইমরান খান ভোটে জয়ী হন। 18 অগাস্ট  প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শুরু থেকেই ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইছেন ইমরান। ব্যবহার করছেন না প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন। রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মিলিটারি সেক্রেটারির একটি ছোট কক্ষে। জানিয়ে দিয়েছেন 2জন পরিচারক ও 2টি গাড়ির বেশী তাঁর প্রয়োজন নেই। এছাড়া অন্য সব ধরণের সরকারী নিয়ম মানতে অস্বীকার করেছেন তিনি।

পাশাপাশি শুক্রবারের বৈঠকে আরও বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সরকারী দফতরে সাপ্তাহিক কর্মদিবস পাঁচ দিন থেকে বাড়িয়ে ছয়দিন করার পরিকল্পনা করা হলেও কর্মীরা তা কিভাবে নেবে সেই কথা মাথায় রেখে পাঁচদিনই রাখা হয়। তবে কাজের সময়সীমার কিছু রদবদল করা হয়। প্রসঙ্গত 2011 সালে জ্বালানি সঞ্চয় ও বিদ্যুতের খামতির মোকাবিলা করার জন্যই সরকারি কর্মদিবস পাঁচদিন করা হয়। পাশাপাশি বৈঠকে প্রাক্তন সরকারের আমলে পাঞ্জাব ও খাইবার পাখতুঙ্খোয়াতে করা মেগা ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পটির অডিটের কাজও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।