শিশু শ্রমিক

ড: অর্ক মুখোপাধ্যায় রিসার্চ সাইন্টিস্ট, লন্ডন

ড: অর্ক মুখোপাধ্যায় রিসার্চ সাইন্টিস্ট, লন্ডন

দুই হাতে তে চারটে থালা,
পাঁচ টা কাচের কাপ,
একটা ছলকে ফস্কে গেলেই,
তুলবে মরা বাপ্।
বেলার শেষে দু মুঠো পাই,
তাও গতদিনের বাসী,
অর্ডার নিতে রোজ টেবিল এ,
ময়লা মুখে হাসি।

জামায় কালি, আঙ্গুলে কড়া,
স্টেশন রোডে বসি,
পা টা একটু দাওনা কাকু,
তোমার জুতোয় কালি ঘষি।
পোশাকি পা এর রূপ বদলাই,
হাত দিয়েই পা চেনা,
আমার জুতোয় পেরেক মারা,
রবার জোটেনা।

ইটের ওপর ইট সাজিয়ে,
চড়ি ইমারতের সিঁড়ি,
পাথর ভাঙি, শাবল চালাই,
কাঁধে চাপাই দ্বিগুণ ভারী
জলদ ছোঁয়া অট্টালিকা,
আমার ফাঁকা ঘরের ছাদ,
কচি গায়ের ব্যথার আদর,
ফুটপাতের আকাশে চাঁদ।

সুতোর ওপর জরির কাজে,
সাজাই বিয়ের শাড়ি,
গেঞ্জি, কাপড় মাথায় নিয়ে,
দিই দোকান দোকান পাড়ি।
ফি বছরে একটা জামা,
তিন ভাই মিলে খুশি,
আমার গেঞ্জি জুড়ে আলোর নক্সা,
দিও থাকলে তোমার বেশী।

সিগন্যালে তে দাড়িয়ে গাড়ি,
জানলা বাড়িয়ে ফুল,
ধুলো ঝেড়ে দু পাঁচ টাকা,
স্ট্রবেরি, খেলনা, কানের দুল।
দিনের শেষে পুরো কামাই,
মালিক কাকুর ব্যাগে,
ওই খেলনা গুলোর একটা নিলে,
থাবড়া মারে রেগে।

সাইকেলের ওই চাকার ফুটো,
ইঞ্জিন এতে মবিল,
জলের তোড়ে নোংরা সরাই,
গা কালসিটে তে নীল।
সকাল কেটে রাত্রি আসে,
সপ্ন বন্দী চাকায়,
দু তিন মাইল রোজের সড়ক,
ছোট্ট দুটো পায়ে।

রোজ রাত্রি হলে নতুন কাকু,
কেমন অন্য আদর করে,
কি হলো বোঝার আগেই,
দেখি রক্ত ঝড়ে পড়ে।
রঙিন জামা, চুলের ফিতে,
দরাদরিতে দামী,
চিবুক ধরে কেউ খায়না,
আমার কপাল ছুয়ে হামি।