পার্ক স্ট্রিটের বেসরকারি সংস্থার যুবকের কাছে মোমো মেসেজ

অনুরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়

এবার কলকাতাতেও এল মোমো মেসেজ ও ভিডিও কল। মঙ্গলবার সকালে পার্ক স্ট্রিটের ঘটনা। পার্ক স্ট্রিটের একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত যুবকের কাছে হঠাৎই আসে একটি মেসেজ। তার কিছুক্ষণ পরেই আসে ভিডিও কল। স্বাভাবিকভাবেই ভয় পেয়ে যান ওই যুবক। বন্ধুদের সহায়তায় তড়িঘড়ি তিনি পুরো বিষয়টি সিআইডি এবং পুলিশকে মেল করেন। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ওই যুবক জানিয়েছেন, এদিন সকালে তাঁর ফোন বেজে ওঠে। দেখেন একটি মেসেজ এসেছে। মেসেজটি ওপেন করতেই আতঙ্কে গলা শুকিয়ে যায় তাঁর। দেখেন মেসেজটি মোমোর। নিচে রয়েছে একটি লিঙ্কও। ভয়ে ফোন বন্ধ করে দেন তিনি। কিছুক্ষণ পর ফোনের সুইচ অন করেন। ফোন অন করতেই আবার বেজে ওঠে ফোন। এবার আর মেসেজ নয়। জ্বল জ্বল করছে ভিডিও কল। আতঙ্কে তিনি নম্বরটি ব্লক করে দেন। ফের অন্য নম্বর থেকে মেসেজ আসে। ওই যুবক কী করবেন ভেবে না পেয়ে সহকর্মীদের জানান পুরো বিষয়টি। তারপরই তাঁদের সহায়তায় সিাইডিকে মেল করেন।

ব্লু হোয়েলের পর এবার মোমো নিয়ে ইতিমধ্যেই আতঙ্কে জেরবার রাজ্য। সেই ‘ব্লু হোয়েল’-এর জায়গা নিয়েছে এখন ‘মোমো চ্যালেঞ্জ সুইসাইড গেম’। এই গেমের আসক্তির কারণে ইতিমধ্যেই রাজ্যে শিকার হয়েছে ছাত্র। মোমো গেমে আসক্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে কার্শিয়াং জেলার ওই দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র মণীশ সার্কির। বিষয়টি স্বীকার করেছেন জেলার পুলিশ সুপার। সম্প্রতি এই  গেমসের মেসেজ আসে উত্তর 24 পরগনার সোদপুর এইচ বি টাউনের বাসিন্দা রাজশ্রী উপাধ্যায়ের কাছে। এবার কলকাতার পার্ক স্ট্রিটে। শুধু মেসেজ নয়, এল ভিডিও কলও। আতঙ্ক ছড়িয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

প্রথমে ব্রিটেনের একটি ওয়েবসাইট ‘দ্যসান.কো.ইউকে’ জানাচ্ছে, সেই প্রাণঘাতী ‘গেম’ ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, আমেরিকা, ফ্রান্স ও জার্মানিতে, নেপালেও। এরপরই মোমো ছড়িয়ে পড়ে ভারতে এবং পশ্চিমবঙ্গেও। তবে সিআইডির তরফে জানানো হয়েছে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে এই গেম আতঙ্ক ছড়নোর জন্য পাঠানো হচ্ছে। অচেনা কোনও ফোন নম্বর থেকে এই ধরণের গেমের রিকোয়েস্ট এলে তা পুলিশকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয় সিআইডির তরফে।