স্বপ্ন, স্বপ্না ও আমরা, কুণাল ঘোষের কলম

কুণাল ঘোষ

স্বপ্না আমাদের গর্বিত করেছে।
সেলাম স্বপ্না।
খেলার সাফল্যের জন্য। এবং অবশ্যই জীবনের প্রতিকূলতাকে জয় করার জন্য।
আপাতত নেতা, মন্ত্রী থেকে জনগণ, মানে সোশ্যাল মিডিয়া স্বপ্নাকে নিয়ে ব্যস্ত। জয়ধ্বনি, পুরস্কার, টাকা, চাকরি।
এ বলছে তুমি বাংলা গর্বের।
ও বলছে তুমি উত্তরবাংলার গর্বের।
একটু আয়নার সামনে দাঁড়াই।
এসব আমাদের সাময়িক হুজুগ। কর্তব্য পালনে গাফিলতি ধামাচাপার চেষ্টা।
এরকম কত স্বপ্না কত রকম খেলায় লড়াই করছে।
তাদের টাকা নেই, পরিকাঠামো নেই, চাকরি নেই, স্পনসর নেই।
আমরা কী করছি?
যে সব প্রতিকূলতা ভেঙে নিজের বা দুচারজনের চেষ্টায় সাফল্য আনছে, আমরা গর্ব গর্ব বলে ফেস বুক ভরাচ্ছি।
আমরা সুবিধাবাদী, ধান্দাবাজ।

খেলা বলতে আমরা অধিকাংশ কিছু ক্রিকেট আর কিছু ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত। পপকর্ন খেতে খেতে আইপিএল বা আইএসএল দেখার নবসংস্কৃতি।
এমনকি ক্রিকেট, ফুটবলের নতুনদের বেড়ে ওঠার সময়ও আমরা তাকাই না।
তাকাই পরে, সে সফল হলে, রক্তদান শিবিরে অতিথি করে এনে সেলফি তুলি।

স্বপ্না যাতে সোনা জিতলেন, সেই হেপ্টাথলন আমরা কজন জানি?
কজন দেখেছি?
কজন কাল দেখতে যাব?
এরকম অজস্র খেলার শাখা প্রশাখা আমরা তাকাই না।

ভিভিআইপি মারা গেলে 72 ঘন্টার শোক।
আর উপেক্ষিত কেউ হঠাৎ সফল হলে 72 ঘন্টার মিডিয়াচর্চা।

এর বাইরে আমরা গেলাম কই?
বহু খেলার সংস্থা দখল করতে নেতারা ব্যস্ত। কিন্তু ছেলেমেয়েগুলোর প্রস্তুতি?

কেন বহু খেলায় কিছু সাফল্য পেলেও অনেকে পরের ধাপে যেতে পারে না টাকার অভাবে? বড় স্পনসররা নেতাদের অনুষ্ঠানে বিজ্ঞাপন দেবে, এদের স্পনসর করবে না।
একাধিক ক্ষেত্রে বহু ছেলেমেয়ে এসেছে। অধিকাংশকেই সাহায্য করতে পারি নি। কারণ পৃষ্ঠপোষকরা রাজি নন। আগ্রহ নেই।

ফেস বুকে যারা সক্রিয়, তারাও যান না সে সব খেলা দেখতে।

স্বপ্না এই সমাজের এত প্রতিকূলতার পাহাড় ভেঙে সোনা জিতেছে।
আবার বলছি, সেলাম।
কিন্তু তাই বলে যারা আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় গর্ব গর্ব করে বিপ্লব করছেন, আমাকেও তার মধ্যে ধরছি, তাদের প্রকৃত ভূমিকা ও আন্তরিকতা নিয়ে একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলাটাও জরুরি।