রবিবারের বাবুইবাসা : 02.09.2018

।। আমাদের ভালমানুষী এবং প্রত্যাশা ।।

সিদ্ধার্থ নীল

মরা যখন কাউকে কিছু দিই, একটা গর্ব কাজ করে ভেতরে। যখন কারও উপকারে আসি – মনে মনে ভেবে নিই মানুষটা আমার চিরদিনের জন্য কেনা হয়ে গেল। যখন কারও জন্য কিছু করি – একটা এক্সপেক্টেশন লেভেল তৈরি হয়ে যায়।

আর তারপর যদি কোনও কারণে সেই এক্সপেক্টেশন লেভেলে ধাক্কা লাগে ; যার উপকার করলাম, যাকে কিছু দিলাম – যার জন্য কিছু করলাম তিনি যদি আমার প্রয়োজনে না লাগেন, বা কোনওভাবে উপেক্ষা করেন তখন আমরা খুব কষ্ট পাই। আমাদের আবেগ উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। আমরা ভাবি তার কৃতজ্ঞতা, তার মনোযোগ, তার সময় আমাদের পাওনা হয়ে গেছে। তিনি আমাদের তা দিতে বাধ্য। কৃতজ্ঞতা খুব ভাল একটা গুণ। আপনার মধ্যে অবশ্যই তা থাকা দরকার। কিন্তু যদি কখনও কারও কাছ থেকে আশা করেও না পান তাহলে কী করবেন?

তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা ক্ষোভে পুড়তে থাকি। ক্ষোভ এমন এক বিষ যা আপনি নিজে খান আর ভাবেন মরে যাবে অন্যরা।প্রচন্ড আবেগ আর প্রচন্ড ক্ষোভ আমাদেরকে পুড়িয়েছে জীবনের কোন না কোন সময়ে। আদতে আমরা মানুষগুলো ভাল মানুষ। এমন ধরনের মানুষ যারা অন্যদের উপকার করেন, অন্যের প্রয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়েন কিন্তু পাল্টা সাড়া পান না তেমন। তারা ক্ষোভে আক্রান্ত হয়ে অন্যের বদলে নিজেরই ক্ষতি করে বসেন।

মানবিক আবেগ থেকে একেক ধরণের সিক্রেশন হয় শরীরে। আবেগ এবং সিক্রেশন এক ধরণের ভারসাম্য বজায় রাখে শরীরের মধ্যে। কিন্তু মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে সেই মাত্রারিক্ত সিক্রেশন শরীরে ভারসাম্য নষ্ট করে নানান রকম সমস্যা তৈরি করে।

এর থেকে বাঁচার উপায় কী? একটু ভাবুন।

যে মানুষটি আপনার পেটে ছুরি ধরে আপনার কাছ থেকে কিছু কেড়ে নিল, তার প্রতি কিন্তু আপনার কোন প্রত্যাশা থাকে না। যে মানুষটি আপনাকে বিপদে ফেলে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে নিল তার প্রতিও আপনার কোন চাহিদা নেই।

তাহলে যার জন্য আপনি নিজে যেচে কিছু করলেন তার প্রতি আপনি এত কঠোর কেন? একটু ভাবুন, যা কিছু আমরা পৃথিবীতে দেখি তা কি আমাদের?  আমাদের নিজেদের বলে সত্যি কি কিছু আছে? এই পৃথিবী কি আমাদের অর্জিত? পৃথিবীর মাটি কি আমাদের? আমরা নিজেরাই কি আমাদের? এই দেহ, এই সুন্দর মুখশ্রী? শক্তি, সাহস, আনন্দ, উপভোগ?

বিনা পয়সায় ব্যবহৃত অক্সিজেন? জল, মাটি, গাছপালা, ফল – কোনটা আপনার? জন্মসূত্রে আমরা যা কিছু পেয়েছি, বা যা কিছু পাইনি, যা কিছু পাব, যা কিছু চেয়েও পাব না, যা কিছু না চেয়েও পেয়ে যাব – তার কিছুই কিন্তু আমাদের না। আমরা অর্জন করি, কেউ গায়ের জোরে, কেউ বাপের টাকার জোরে – এই জোরগুলোও আমাদের না।

ধরুন আপনার মেধা দিয়ে আপনি যা অর্জন করলেন এক অর্থে তাও কিন্তু জোর করে আদায়ের অন্য নাম। যার শক্তি আছে সে গায়ের জোরে কেড়ে নেয়- আপনি মেধার জোর ব্যবহার করে কেড়ে নিলেন। সুতরাং আপনার অর্জিত প্রতিটি সম্পদেই অন্যদের ভাগ আছে। আপনি স্বেচ্ছায়ই যদি দিলেন তাহলে বিনিময় প্রার্থনা কেন? তবে কী আপনার দান ব্যর্থ হবে।বিনিময়ে কিছুই পাবেন না?

না। আপনি যদি বিজ্ঞানমনস্ক মানুষ হন আর ঈশ্বরের মত পুরনো ধ্যান ধারণা আপনার কাছে বালখিল্য মনে হয় তাহলেও দেখবেন পৃথিবীর নিজস্ব কিছু প্রমাণিত আইন আছে। যার একটা হল “ল অব ন্যাচারাল রিটার্ণ।” যা কিছুই আপনি করেন তার বিনিময় পৃথিবী বা প্রকৃতি আপনাকে অবশ্যই দেবে। সে ভাল হোক বা খারাপ। সে বিনিময় নিয়ে সন্দেহগ্রস্ত হবেন না।

আপনি যদি ‘ক’ কে কিছু দান করেন। তার বিনিময় আপনার ‘ক’ এর কাছ থেকেই নিতে হবে এমন কোনও কথা নেই। সেটা আপনি ‘খ’ কিংবা বহু দূরের ‘দ’ এর কাছ থেকেও পেতে পারেন। আর সেটা নিয়ে আপনার খুব মরিয়া হয়ে ওঠারও প্রয়োজন নেই। যা কিছু অমোঘ- তা কখনও বদলায় না। আপনার খারাপ কাজের প্রতিদানও আপনি পাবেন, ভাল কাজেরও। খারাপটাও যেমন আপনি ফেরাতে পারবেন না- ভালটাও ফিরবে না। আপনার শুধু একটু ধৈর্য চাই। সুতরাং যে পাওনা আপনার নামে লেখা হয়ে গেছে সে জন্য ক্ষোভে আক্রান্ত হয়ে খামোখা নিজের ক্ষতি করা কেন?ভালো থাকুন , ভালো ভাবুন। এক্সপেক্ট করার প্রবণতা কমান।

*******************

।। আগমনী ।।

অমিয় বন্দোপাধ্যায়

পুজো মানে কাশ,শিউলির ফুল,

মহালয়া চন্ডী পাঠে, মনটা ব্যাকুল।

 আগমনী গানে মন দোলে, দোদুল,দুল।

ছোট বড় বয়সে কিবা যায় আসে,

পুজোর গন্ধে মাতলো জগৎ আকাশে বাতাসে।

ধনী গরীব নতুন পোশাক

যার যেমন আসে।

আকাশ কালো এইতো আলো

কি যেন সন্ত্রাসে

 বৃষ্টি বাদল বন্যা এলে

বাংলা যদি ভাসে।

প্রকৃতি মা তোর কাছে

একটি মাগি দোয়া

জীবন থেকে একটি বছর

যায়না যেনো খোয়া।

তোর নামতো তাই দিয়েছি

দুর্গা মা, অভয়া।

*******************

।।ডার্বির ডামাডোল।।

পার্থসারথি গুহ

ক্সের মধ্যে বল, গোল হতে পারে

সজোরে মারলেন। আর গোওওওল

এই শব্দ ব্রহ্মে বাচ্চা-বুড়োর সেকি দোল

চায়ের ঠেকে ঘটি-বাঙালের তুলকালাম

 চড়তে শুরু করেছে মহাযুদ্ধের গ্রাফ

মোহন-ইস্ট দুই শিবিরে এখন ভারী চাপ

 কারও শপথ করতে হবে আটে আট

কেউ বলছে খেলবি আর হারবি

ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা বাংলার এই ডার্বি

 ফুটবল পুজো বাজিয়ে দেবে আগমনীর বার্তা

  একভাই জিতবে, অন্যজন হারবে

‌   বাঙালির ভ্রাতৃত্ববোধ শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে।

*******************

।।প্রশ্ন।।

সুনন্দ সান্যাল

 

নিভৃত রাত, গহীনহৃদয়ে গভীর স্বর

চোখের কোণে অশ্রুসঘন আবেগের ঝড়।

অব্যক্ত, অবগুন্ঠিত, ব্যক্তিগত বাসনা মিছিল

তন্দ্রাহীন,আত্মমগ্ন, পদব্রজে হয়েছে সামিল।

মহাশূন্যে বিসর্জিত সম্ভাবনাময় চিত্রকল্প

মধ্যরাতে কথিত হয় অদৃষ্টপূর্ব প্রেমের গল্প।

ভোরবেলায় হিসেবনিকেশ, জীবনের কতটা আলো করেছো সঞ্চয়

আলো না আলেয়া প্রশ্নচিহ্ন ধীরগতিতে ফণা তুলে পরিণত হয়।

*******************

।।তালের তৈরি নানান পদ।।

সেছে ভাদ্র মাস। আর ভাদ্র মাসের নাম শুনলেই সবার প্রথমেই মাথায় আসে তালের কথা। মাসের শুরুতেই তাল পাকতে শুরু করে আর তা পাওয়া যায় অক্টোবর মাস পর্যন্ত। পাকা তালের নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার বানানোর ধুম পরে যায় ঘরে ঘরে। দেখে নিন তালের তৈরি কিছু রেসিপি।

  • তালের ক্ষীরঃ পাকা তাল দিয়ে বানানো যায় অনেক রকম খাবার। তার মধ্যে তালের ক্ষীর বা পায়েস অন্যতম। উপকরণঃতালের গোলা 2/3 কাপ, দুধ 1 লিটার, চালের গুড়ো‌ , নারকেল কোরা 1কাপ, চিনি স্বাদ মত, এলাচ গুড়ো পরিমান মত, আস্ত এলাচ ও  দারুচিনি 2-3 টি

প্রনালীঃ আস্ত এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে দুধ জ্বাল দিয়ে নিন। দুধ ফুটে গেলে তাতে চালের গুড়া দিয়ে নিন। চালের গুড়া একটু সিদ্ধ হয়ে আসলে তালের গোলা দিয়ে নিন। এবার মিশ্রনটি ঘন হওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন। তারপর চিনি ও এলাচ গুড়ো দিয়ে নামিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে পরিবেশন করুন মজাদার তালের ক্ষীর।

  • তালের কেকঃ তাল দিয়ে কেকও বানানো যায়। কীআবে? দেখে নিন রেসিপি।

উপকরণঃ ঘন তালের রস 2 কাপ, চালের গুড়ো  1.5 কাপ, ময়দা হাফ কাপ, গুড়ো দুধ হাফ কাপ, ডিম 4টি, চিনি 2 কাপ, ঘি 1 কাপ, নারকেলল কোড়া 1 কাপ, এলাচ -দারুচিনি – জায়ফল গুড়ো পরিমান মত।

প্রস্তুত প্রনালীঃ এলাচ গুড়ো,দারুচিনি গুড়ো, জায়ফল গুড়ো, ময়দা, চালের গুড়ো একসঙ্গে মিশিয়ে তালের রস দিয়ে মেখে ঢেকে গরম জায়গায় রাখুন। তালের মিশ্রণটি ফুলে দ্বিগুণ হলে চামচ দিয়ে ভাল করে নাড়তে থাকুন। এবার ডিম ও চিনি একসঙ্গে বিট করে নিন। যখন তা হালকা হয়ে ঈআসবে তখন ঘি বা তেল মিশিয়ে তালের মিশ্রণসহ সমস্ত উপকরণ মিশিয়ে নিন। একটি কেক তৈরির পাত্রে তেল মাখিয়ে শুকনো ময়দা ছিটিয়ে দিন। তারপর  কেকের পাত্রে মিশ্রণটি ঢেলে দিন। তারপর ওভেনে 10 মিনিট প্রিহিট করে একঘণ্টা বেক করুন। ঠাণ্ডা হলে স্লাইস করে পরিবেশন করুন।

  • তালের মালপোয়াঃ মালপোয়া  খেতে আমরা সকলেই ভালবাসি। সুজির মালপোয়া তো খেয়েছেন। তালের মাবপোয়া খেয়েছেন কী? দেখে নিন রেসিপি।

উপকরনঃ ময়দা 2 কাপ, তালের ঘন গোলা 3 কাপ, গুড়ো দুধ হাফ কাপ, বেকিং পাউডার হাফ চামচ, চিনি হাফ কাপ, তেল 1 লিটার।
শিরার জন্য চিনি 3 কাপ, জল 2 কাপ, দারুচিনি 2 টুকরা, এলাচ 3-4 টি।

প্রস্তুত প্রনালিঃ প্রথমে সব উপকরন একসাথে জ্বাল দিয়ে শিরা তৈরি করে নিন। তেলছাড়া সমস্ত উপকরণ একসঙ্গে গুলে গোলা তৈরি করে ঢেকে রাখুন এক ঘণ্টা। মিশ্রণটি ঘন বা পাতলা হলে তালের রস বা ময়দা দিন। তারপর কড়াইতে তেল দিয়ে তালের গোলা ভালো করে নেড়ে ছোট ডালের চামচে এক চা চামচ গোলা দিয়ে পিঠা ভেজে শিরায় দিন। 15-20 মিনিট পর শিরা থেকে পিঠা তুলে শিরাসহ পরিবেশন করুন।

তালের বড়াঃ তাল দিয়ে যেকটি পদ বানানো যায় তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় তালের বড়া।

উপকরনঃ চালের গুড়ো 2কাপ, চিনি 1.5 কাপ, নারকেল পরিমান মত, তালের রস 1 কাপ, তেল ভাজার জন্য।

প্রস্তুত প্রনালিঃ প্রথমে একটি পাত্রে তালের রস, চালের গুড়ো, নারকেল কুড়ানো ও চিনি নিয়ে সামান্য গরম জল দিয়ে গোলা তৈরি করে কিছুক্ষণ রেখে দিন। এবার কড়াইতে তেল গরম করুন। তেল গরম হলে তাতে বড়ার আকারে তালের মিশ্রণ দিয়ে বানানো মণ্ডগুলিকে বাদামি করে ভেজে তুলুন। তারপর গরম গরম পরিবেশন করুন তালের বড়া।

*******************