8 বছর লড়াই করে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করলেন বৃদ্ধ

এসবিবি:  জীবিত। এটা প্রমাণ করতেই অতিক্রান্ত হল আটটি বছর। শেষ পর্যন্ত বিডিও-র কাছে সশরীরে হাজির হয়ে প্রমাণ করলেন যে তিনি বেঁচে আছেন।

নিজেকে জীবিত প্রমাণ করার পর সত্তোর্দ্ধ সুধাসিন্ধু মণ্ডল ফের পেতে চলেছেন বার্ধক্য ভাতা। অবশ্য তাঁকে জীবিত করতে অক্সিজেন জুগিয়েছেন নলহাটি 2 নম্বর ব্লকের বিডিও রাজদীপ শঙ্কর গৌতম।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের নলহাটি 2 নম্বর ব্লকের পূর্ব গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা সত্তোর্দ্ধ সুধাসিন্ধু মণ্ডল। তাঁর দুই ছেলে মহাদেব মণ্ডল এবং সহদেব মণ্ডল আলাদা থাকেন। ফলে স্ত্রী শান্তিবালা মণ্ডলকে নিয়ে পৃথক থাকেন সুধাসিন্ধু। বার্ধক্য ভাতার উপর নির্ভর করেই চলত তাদের দুজনের সংসার। স্ত্রীও বার্ধক্য ভাতা একবার পেয়েছেন। কাগজের জটিলতায় তারপর বন্ধ। 2010 সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত বার্ধক্য ভাতা পেয়েছেন সুধাসিন্ধু। তার পরেই সরকারি খাতায় তিনি মৃত। বয়সের কারণে কানে কম শোনেন সুধাসিন্ধু বাবু। ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুব কষ্টের মধ্যে দিন কাটছিল তাদের। উপায়ান্তর না দেখে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে পঞ্চায়েত থেকে বিডিও-র অফিসে হন্যে হয়ে ঘুরেছেন তিনি। সুধাসিন্ধু বাবু বলেন, “বেশ পাচ্ছিলাম ভাতা। তাতেই দুটো পেট দিব্যি চলে যাচ্ছিল। কিন্তু সরকারি খাতায় মৃত ঘোষণা করায় সব ওলটপালট হয়ে গেল। বিডিও অফিসে ঘোরাঘুরি করে জানতে পারলাম আমি আর বেঁচে নেই। তাই বন্ধ ভাতা”। অগত্যা হাল না ছেড়ে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করতে সশরীরে নলহাটি 2 নম্বর ব্লকের বিডিও-র কাছে হাজির হন তিনি। বিডিও সাহেবকে বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি জীবিত। সরকারি খাতায় মৃত মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে থাকায় বিডিও রাজদীপ শঙ্কর গৌতম কিছুটা ঘাবড়ে যান। কিন্তু যে ব্যক্তি সামনে দাঁড়িয়ে বলছেন তিনি জীবিত তাকে মৃত বলবেনই বা কিভাবে? তাই তিনিই উদ্যোগী হয়ে সুধাসিন্ধুকে অক্সিজেন দিতে শুরু করেন। জেলা থেকে রাজ্যে একের পর এক চিঠি পাঠিয়ে প্রমাণ করতে চেষ্টা করেন বার্ধক্য ভাতা বন্ধ হওয়া সুধাসিন্ধু দিব্যি বেঁচে রয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বিডিও সাহেবের উদ্যোগেই ফের তার ভাতা চালু হল আট বছর পর।