শিক্ষক দিবস

ড.দেবানী লাহা(মল্লিক)

 

ড.দেবানী লাহা(মল্লিক)

জ্ঞান হওয়ার পর থেকে মা’-ই আমাদের প্রথম গুরু।স্নেহ ভালবাসা কেমন তা বুঝতে শেখা,সঠিক পথে হাঁটতে শেখা মায়ের হাত ধরে।মায়ের আন্তরিক স্নেহ-ভালবাসার স্পর্শে নিজের অজান্তেই অনেক কিছু শিখে ফেলি আমরা।এরপর অনেক পথ পেরিয়ে আমরা প্রতিদিন একটু-একটু করে মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করি।শুধু মাত্র আকৃতিতে নয় প্রকৃতিতে মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা তাদের নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।তাদের দেখানো পথ অনুসরণ করতে-করতে আমরা এগিয়ে চলি।এখন মনে হতে পারে যারা শিক্ষা দেন তারাই কি শিক্ষক?না তারা ছাড়াও এই বিশাল জীবন সমুদ্রে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় বহু মানুষের থেকে আমরা কিছু না কিছু শিক্ষা গ্রহণ করে থাকি, আন্তরিক ভালবাসা অকৃত্রিম স্নেহ লাভ করি।তারাও সকলে আমাদের শিক্ষক।কিছু মানুষের থেকে আঘাত পাই,যন্ত্রণা পাই,বিশ্বাসভঙ্গের বিষবাষ্পে জর্জ্জরিত হই।তারাও আমাদের শিক্ষক।কেন?কেননা তারা আমাদের জীবনের অন্ধকার দিকটা দেখিয়ে আলোর পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করেন।এইসব শিক্ষা লাভ করতে-করতে জীবনের জটিলতায়,প্রাত্যহিক আবর্তনে কখন কোনো না কোনো ক্ষেত্রে আমরাও শিক্ষক হয়ে উঠি।সেই সমস্ত ছোট-বড় সমবয়সী, অসমবয়সী শিক্ষাদাতাকে আজকের পুণ্য লগ্নে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম জানাই।
শিক্ষক হয়ে যাপন করা দিনগুলোতে যাদের আন্তরিকতা,
উৎসাহ,শ্রদ্ধা,নিরলস শ্রম আমাদের প্রকৃত শিক্ষক হয়ে উঠতে সাহায্য করে তারাই ছাত্র-ছাত্রীরা।ছাত্র-ছাত্রী আর শিক্ষক-শিক্ষিকার সম্পর্ক তাই একটি সুতোয় গাঁথা।শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারা কখন নিজের অজান্তেই কখনও বা মাতৃস্থানীয় আবার কখনও বা পিতৃস্থানীয় হয়ে ওঠেন।তাই শিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে যেমন মা বাবা আর শিক্ষক শিক্ষিকার শাসন আর স্নেহ প্রাপ্তি ঘটে;শিক্ষা দানের সময় হৃদয়ে সঞ্চিত সেই স্নেহধারা অকাতরে বিলিয়ে প্রকৃত মানুষ গড়াই শিক্ষক দিবসের ব্রত হয়ে ওঠে। শিক্ষক-শিক্ষিকার প্রাণে চির জাগরুক থাকে মধুর স্মৃতিটুকু-

”হাতে মসী মুখে মসী
মেঘে ঢাকা শিশু শশী
প্রতিবিম্বে মোর স্মৃতি ভরে।”