বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফরাসিদের জাত চেনাল জার্মানরা

এসবিবি স্পোর্টস: একদল রাশিয়া থেকে বিদায় নিয়েছিল বিশ্বকাপের গ্ৰুপপর্বেই। অন্যদল সবুজ গালিচার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। পরিসংখ্যানের বিচারে, লড়াইটা তাই অসম হওয়ার কথা। কিন্তু ভুললে চলবে, দলটার যে নাম জার্মানি!

ইউয়েফা নেশনস কাপের প্রথম ম্যাচ গোলশূন্য ভাবেই শেষ হল। তবে বায়ার্ন মিউনিখের স্টেডিয়াম আলিয়াঞ্জ এরিনায় জার্মানরা বুঝিয়ে গেলেন, বিশ্বকাপের যন্ত্রণাটা অঘটনই ছিল। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে শুধু রুখে দেওয়াই নয়, বরং দেশঁর দলের দাঁত-নখ বের করেই ছাড়ছিলেন মুলার-বোয়েটাংরা। এ ম্যাচে ফরাসি পোস্টের নিচে দাঁড়িয়েছিলেন আলফন্স আরিওলা। বছর পঁচিশের ছেলেটি অভিষেকেই বুঝিয়ে গেলেন, ফ্রান্সের ‘লাস্ট ডিফেন্স’ আগামীতেও শক্ত হাতেই থাকছে। জার্মান আক্রমণ সামলানোর দায় তিনি যেন একার কাঁধেই তুলে নিয়েছিলেন। প্রায় হাফ ডজন সেভ করে ফরাসিদের লজ্জার হাত থেকে বাঁচালেন আরিওলা।

দুই অর্ধ মিলিয়ে জার্মানির আধিপত্যই বেশি ছিল। প্রথমার্ধে তো একচেটিয়া খেলেছে জোয়াকিম লো-এর ছেলেরাই। দ্বিতীয়ার্ধে তাও ফ্রান্সের তরফে বেশ কিছু পজিটিভ মুভ দেখতে পাওয়া যায়। যদিও জিরু-এমব্যাপে-পোগবাদের আক্রমণে এমন তীব্র ঝাঁঝ ছিল না, যাতে টলমলে হয়ে যান ম্যানুয়েল ন্যুয়ের। জার্মান গোলরক্ষককে বড় কোনও পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি এও যেমন ঠিক, তেমনই বর্তমান জার্মান স্ট্রাইকারদের উপর যে আর দীর্ঘদিন বেশি ভরসা করা যাবে না, তাও ভালই বুঝেছেন কোচ লো। দুই অর্ধ মিলিয়ে এতগুলি সুযোগ নষ্ট না করলে ঘরের মাঠে ফরাসিদের গোলের মালা পরাতেই পারত জার্মানরা।ম্যাচের প্রথম 30 মিনিট বল দখলে ফ্রান্সের থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিল জার্মানি। প্রথমার্ধের তিন মিনিটেই ফ্রান্সের রক্ষণে হানা দিয়ে কর্নার আদায় করে নিয়েছিলেন ওয়ের্নার-মুলাররা। এরপরে 11 মিনিটে পাল্টা গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল ফ্রান্স। বোয়েটাংয়ের ফাউল লুকাসকে। কিন্তু গ্রিজম্যানের শট আলো দেখায়নি ফরাসিদের। 19 মিনিটে ফের জার্মান-অ্যাটাক। ওয়ের্নারের শট বাঁচান আরিওলা। এরপরেও ফরাসি রক্ষণে ক্রুজ-হামেলসদের আক্রমণ জারি থাকে। কিন্তু কাজের কাজটা করতে পারেননি লো-এর ছেলেরা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই 46 মিনিটে ন্যুয়েরকে ‘ওয়ান টু ওয়ান’ পেয়েও বল জালে জড়াতে পারেননি জিরু।

অন্যদিকে, 61 থেকে 65 মিনিট, এই মিনিট পাঁচেকের মধ্যে গুনে গুনে তিনবার দলকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচান ফরাসি গোলরক্ষক আলফন্স আরিওলা। 68 মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে একটা দুরন্ত মুভ করেন এমব্যাপে। কিন্তু ফরাসিদের ‘ফিনিশিং’-টারও যে বড় অভাব ছিল এ ম্যাচে।

আর জার্মানরা না জিতলেও খুশি নিশ্চয়ই। রাশিয়ার অঘটনের পরে কিছুটা হলেও তো অক্সিজেন মিলেছে। তবে হ্যাঁ, গ্রিন কার্পেটের মহারণে এ সব লড়াই ‘ট্যাকল’ করতে জানার কারণেই তো নামটা ‘জার্মানি’।