রবিবারের বাবুইবাসা : 09.09.2018

।। বারেবারে আর আসা হবেনা ।।

সুনন্দ সান্যাল

সৃঞ্জয় আর অম্বরীশ পূর্ব পরিকল্পিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সল্টলেক সেক্টর ফাইভের শিখা পিসিমার চায়ের ঠেকে এসে দাঁড়ালেও কুশলের কোনও পাত্তাই নেই। সৃঞ্জয় আর অম্বরীশ দুজনের দু কাপ করে চা ও দু টো করে সিগারেট খাওয়া হয়ে গিয়েছে, কুশলকে 10 বার ফোন করা হয়ে গিয়েছে যার কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। রাস্তায় দাঁড়িয়ে দুজনে মিলে ইচ্ছেমতো কুশলকে গালাগালি দিচ্ছে, আবার অফিস ফেরত মেয়েদের দেখে গলার আওয়াজ বাড়ানো কমানোও চলছে। হঠাৎ কুশলের ফোন আসে অম্বরীশের ফোনে, অম্বরীশ কিছু বলার আগেই কুশল ঝড়ের গতিতে বললো “সরি, সরি, সরি! যা যা গালাগালি খিস্তি দেওয়ার সব তুলে রাখ পরে শুনবো নয়তো মেসেজ করে দে পরে দেখে নেব, আজ আমার হচ্ছে না, তোরা দুজন পার্টি করে নে, প্লিজ ভাই। প্রোজেক্টের প্রেজেন্টেশন এর দিন এগিয়ে এসেছে, আমাকে রাত জেগেই সব শেষ করতে হবে। কিছু বলবি ভাই ? বললে বল তোর হাতে দু মিনিট আছে।” অম্বরীশ কথাগুলি শোনার পর একটু অন্যমনস্ক হয়ে এবং ভারী গলায় কুশলকে বললো “না, পরে বলবো, তুই কাজ কর।” অম্বরীশ ফোনটা কাটার পর সৃঞ্জয়কে বললো “কুশল আসবে না, কি করবি ?” সৃঞ্জয় উত্তরে বেশ উৎসাহের সাথে বলে উঠলো “তিন নেহি তো দো স্যেহি, চলো বন্ধু, একটু মজা করেই নি।”

সৃঞ্জয় আর অম্বরীশ বাইপাসের রাস্তা লাগোয়া ‘অ্যাটদিরেট বাইপাস বার কাম রেস্টুরেন্ট’এ ঢুকে বসে ড্রিঙ্কস আর খাবারের অর্ডার দিল। সৃঞ্জয় গেলাসে চুমুক দিতে দিতে বললো “কুশল মালটার টাকার নেশা খুব, লাইফটা এনজয় করতেই জানে না। আচ্ছা কি করবে বলতো এত টাকা দিয়ে ? বউটার অতো বড়ো স্কুল তাও ইংলিশ মিডিয়াম সেখান থেকে ভালো আরনিংস, দু খানা ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া আছে, সেখান থেকেও কম রোজগার হয় না সাথে ওর নিজস্ব চাকরি।” অম্বরীশ চিকেনের টুকরো মুখে দিয়ে বললো “ঠিক বলেছিস, ব্যাটা কি সুন্দর গীটার বাজাতো, শুনলাম নিজের দুটো গীটারই বিক্রি করে দিয়েছে। সারাদিন শুধু কাজ আর কাজ নিয়ে ব্যস্ত, বসের চামচাগিরি করছে টকাটক প্রোমোশন আর স্যালারি হাইক, কি করে পারে ভাই আমার তো মাথা ধরে যায়।” সৃঞ্জয় চামচ দিয়ে অল্প ফ্রায়েড রাইস মুখে দিয়ে বললো “ধ্যুরর শালা! ও যন্ত্রমানব হয়ে গেছে, রসকস, রসবোধ কিচ্ছু নেই। এই নিয়ে তিনটে প্রোগ্রাম নষ্ট করলো। আমি ভাই চাকরির সাথে নাটকটা দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছি, সত্যি বলছি শুধু চাকরি নিয়ে আর নাটক বাদ দিয়ে আমি অ্যাটলিস্ট থাকতে পারবো না।” অম্বরীশ গেলাসে চুমুক দিতে দিতে বললো ” তা যা বলেছো গুরু, তুমি নাটকটা জাস্ট ফাটিয়ে করো, আমার তো আর গানটা তেমন হলোই না, এখন তো রেওয়াজটাও হয় না।” সৃঞ্জয় ধমক দিয়ে বললো ” সেটা তোর নিজের দোষ শালা, অতো রাতে ফেসবুক আর অ্যাপ করে কি সুখ অর্জন করিস জানিনা, বৌদি তো খুবই ভালো মানুষ, তোর ওপর অগাধ বিশ্বাস তাই কিছু বলে না। তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়তে পারিস তো তাহলে সকালে ঘুম থেকে উঠে ভালোই রেওয়াজের সময় থাকে, বুঝলে মদন।” অম্বরীশ হেসে মদের গ্লাসটা উপরে তুলে বললো “আর সত্যি কথা বলে আমায় ইন্সাল্ট করিস না চাঁদু এখন শুধু মদ-অন”। সৃঞ্জয় আর অম্বরীশ দুজনেই হাসতে লাগলো।

তিনদিন পরে, রবিবার, সকালবেলায় অম্বরীশ চা নিয়ে ব্যালকনিতে বসে কাগজ পড়ছে হঠাৎ খেয়াল করলো, সৃঞ্জয় বাইকটা দরজার বাইরে পার্ক করে ওদের বাড়িতেই হন্তদন্ত হয়ে ঢুকছে। অম্বরীশ কাগজটা রেখে বাড়ির দরজার দিকে এগিয়ে গেল, বউয়ের উদ্দেশ্যে বলতে বলতে “ও গো শুনছো, সৃঞ্জয় এসেছে আর এক কাপ চা দাও আর লুচিটা একটু বেশি করেই করো।” অম্বরীশ দরজা খোলার সাথে সাথেই সৃঞ্জয় হাঁপাতে হাঁপাতে বললো “রেডি হয়ে নে তাড়াতাড়ি, আমাদের এক্ষুণি যাদবপুর যেতে হবে, কুশল ইজ নো মোর, এক্সপায়্যারড আজ ভোররাতে।” অম্বরীশ অবাক হয়ে চুপ করে যায় পরে তুতলিয়ে বলে ওঠে “মা-মা-মানে ? কি বলছিস ? সৃঞ্জয় রেগে গিয়ে বললো “ঠিক শুনেছিস কি বলেছি, ভালো লাগছে না, যদি যেতে হয় চল তাড়াতাড়ি।” অম্বরীশ সৃঞ্জয়ের কাঁধে হাত দিয়ে বললো “তুই অ্যাটলিস্ট জল আর চা খা বসে, আর চেঞ্জ করেই আসছি।”

যাদবপুরে কুশলের ফ্ল্যাটে গিয়ে পৌঁছাতেই কুশলের স্ত্রী বিশাখা সৃঞ্জয় আর অম্বরীশকে দেখে জোরে কেঁদে উঠলো, কাঁদতে কাঁদতেই বললো “টানা তিনরাত জেগে, অফিসের কাজ সাথে সিগারেট আর ব্ল্যাককফি, ডাক্তার দেখে বললেন ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক, চিকিত্সার কোনও সুযোগই দিল না আপনাদের বন্ধু। আমি বাচ্চাটাকে নিয়ে পুরো একা হয়ে গেলাম জানিনা কী করবো।” সৃঞ্জয় বাচ্চাটার মাথায় হাত রেখে সমবেদনার সুরে বললো “এরকম প্রিয়জনের মৃত্যু খুবই বেদনাদায়ক, যার হারায় সে বোঝে বাকিরা শুধু সাথে থেকে সাপোর্ট করতে পারে। সময়ের সাথে এগিয়ে যেতে হবে, এই বাচ্চা ছেলেটির জন্য আপনাকে শক্ত হতে হবে, স্বামীর অতীত আর ছেলের ভবিষ্যত এই সম্বল নিয়ে আপনার বর্তমান সময়ে আপনাকে ভালো থাকতে হবে। আমরা আপনার বন্ধু হয়ে পাশে থাকব।” সৃঞ্জয় আর অম্বরীশ কুশলের শবদেহটির সামনে গিয়ে দাঁড়ায় একজন ভদ্রলোক দুজনের উদ্দেশ্যে বসার জন্য অনুরোধ করেন এবং জানিয়ে দেন ফ্ল্যাটের দুজন ভদ্রলোক ডাক্তারের কাছে গেছেন ডেথ সার্টিফিকেট লিখিয়ে নিয়ে আসার জন্য। সৃঞ্জয় আর অম্বরীশ পাশের ঘরে গিয়ে বই আর কাগজ নিয়ে এমনি পাতা উল্টাটে থাকে। হঠাত সৃঞ্জয়ের চোখ পড়ে একটা ছেঁড়া ছোটো ডায়েরির ওপর, ডায়েরিটা নিয়ে খুলতেই দেখে অনেক গানের নোটেশন কুশলের নিজের হাতেই লেখা। পাতাগুলো উল্টিয়ে দেখতে দেখতে হঠাতি সৃঞ্জয় হতাশার সুরে বললো “শালা, এতটাই বুঝলি যখন, তাহলে কথাটা মেনে চললি না কেন। ধ্যুরর।” অম্বরীশ ডায়েরিটা সৃঞ্জয়ের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে দেখলো ডায়েরির সেই পাতায় লেখা “বাঁচার জন্য কাজ, কাজের জন্য বেঁচে থাকা নয়।”

**********************

।। সামাজিক ন্যায় ।।

আক্রাম সেখ

 

পালিত হচ্ছে গনতন্ত্রের উৎসব, পালিত হচ্ছে সামজিক ন্যায়

তবুও যেন আজ মনে হচ্ছে, এ এক হাস্যকর বিষয়।

কেননা দেশ এখনও আবদ্ধ, সাম্প্রদায়িকতার আবহাওয়ায়।

ধর্মীয় রেষারেষি, জাত-পাতের ভেদাভেদ

ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য, বাড়ছে পারষ্পরিক বিভেদ।

লুন্ঠিত হচ্ছে গণতন্ত্র, কণ্ঠরোধ হচ্ছে বাক-স্বাধীনতায়..

তাই এদেশে সামাজিক ন্যায় আজ, এক হাস্যকর বিষয়।

বাড়ছে নির্দোষ খুন, বাড়ছে ধর্ষণ

ঘটছে নানা অমানবিক ঘটনা, হচ্ছে উগ্রবাদের সম্প্রসারণ।

দিন দিন বাড়ছে স্বার্থান্বেষী মানুষের সংখ্যা

তাই সমাজের একাংশের মানুষের অবস্থা আজ, বড়ই অসহায়..

সত্যিই! সামাজিক ন্যায় আজ, এক হাস্যকর বিষয়।

আশা করি, ঘটবে এসবের পরিবর্তন

প্রবর্তিত হবে সারাদেশে, এক সুশৃঙ্খলিত শাসন।

ঘটবে আবার ঐক্যসাধন, দূর হবে বৈষম্যের রেষ..

কেননা, আমাদের মাতৃভূমি

মহান ‘বিবেক- কালাম-বীর সুভাষের’দেশ।

জেগে উঠবে আবার সকলের মাঝে জাতীয় ঐক্যবোধ,

ঘটবে পারস্পরিক দ্বন্দ্বের অবসান..

গড়ে উঠবে সকলের মাঝে ভ্রাতৃত্ব বোধ,

করবে মানুষ একে অপরকে, শ্রদ্ধা প্রদর্শন।

আশা করি মানুষ নিজ স্বার্থ ত্যাগ করে,

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, হয়ে উঠবে একে অপরের সহায়..

তখনই ভীত শক্ত হবে গণতন্ত্রের,

সুপ্রতিষ্ঠিত হবে সামাজিক ন্যায়।

**********************

।। স্বপ্নে তবে ।।

সুব্রতা ঘোষ রায়

রাতের বেলা একটু কড়া নাড়ি ..

জোয়ার আসে, মনকেমনের চর.. অবনী, তুমি দরজা খোল এবার..

এই তো আমি, নই তো তোমার পর ..

কিসের ব্যেথা ? কেন এমন ঘুম ? বারোমাসের এমন ধারাপাতে ?

অবনী তুমি দরজা একটু খোল,

এই তো আমিই, এসেছি এই রাতে ..

মেঘবিলাসী সে কোন রূপকথা !

মিথ্যো তুমি কেন পাচ্ছ ভয় ?

এই তো আমি এসেছি আজ কাছে,

এমনি দুয়ার বন্ধ রাখতে হয় ?

অবনী, দুয়ার একটিবার তো খোল..

দু-চোখ মেলে আরেকবার তো চাও..

তোমার মনে লুকিয়ে হয়ত আমিই –

হারিয়ে গেছি, খুঁজে আমায় নাও ..

গাভীর মতো যেখানে মেঘ চরে..

দুজন মিলেই সেই পাড়াতে যাই …

দরজা এঁটে তবুও থাকবে তুমি ?

স্বপ্নে তবে দিও একটু ঠাঁই..

স্বপ্নে তবে দিও ..

একটু ঠাঁই ..

**********************

।। রূপচর্চায় ভাতের ফ্যান ।।

ভাত নামানোর সময় আমরা ফ্যান ফেলে দিই। কিন্তু জানেন কী, রূপচর্চায় ভাতের ফ্যান কতটা উপযোগী?

সুস্থ-সুন্দর ত্বকের জন্য অপরিহার্য উপাদান হল ভাতের ফ্যান। ভাত রান্না করার আগে চাল খুব ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা ফ্যান লাগান চুলে।

ভাতের ফ্যানের উপকারিতা :

  • ত্বকের শুষ্কতা দূর করে ত্বককে মসৃণ রাখে ভাতের মাড়।
  • বলিরেখা দূর করতে ভাতের মাড় লাগান।উপকার পাবেন।
  • ব্রণর সমস্যায়ও এটি বেশ কার্যকরী।
  • এছাড়া চুলের যেকোনও সমস্যার সমাধান পান ভাতের ফ্যানে।

**********************

।। পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ ছানার পুডিং ।।

 

খাবারের শেষ পাতে পুডিং বা ডেসার্ট খেতে ভালবাসেন না এমন লোক সংখ্যায় কম। পুডিং নানা রকমের হয়। যার মধ্যে একটি হল ছানার পুডিং। দুধের পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ এই পুডিং কীভাবে বানাবেন দেখে নিন রেসিপি।

উপকরণ : ছানা 1 কাপ, ডিম 3 টে, চিনি 1 কাপ, ঘন দুধ 1 কাপ, ভ্যানিলা এসেন্স কয়েক ফোঁটা।

প্রণালী : প্রথমে একটি পাত্রে সমস্ত উপকরণ ভাল করে মিশিয়ে নিতে হবে। এবার গ্যাস ওভেনে একটি হাড়ি বসান। তাতে 1 কাপ জল দিয়ে মিশ্রণের পাত্রটি বসিয়ে দিন। পাত্রটি একটি স্ট্যাণ্ডের ওপর বসাতে হবে এবং পাত্রের মুখ বন্ধ রাখতে হবে। 30 মিনিট পর পুডিং নামিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন।

**********************