‘ পুলিশ আপনাকে খুন করতে চাইছে’ বিস্ফোরণ সুশান্তর

এসবিবি: বিস্ফোরক সুশান্ত ঘোষ। রাজ্যের প্রাক্তন বামমন্ত্রী সোমবার মেদিনীপুরে সিপিএমের যুব সমাবেশে ছিলেন প্রধান বক্তা। আর সেখানেই জেল যাত্রা এবং জেরার দিনগুলোর কথা অকপটে বলেছেন। আর এ নিয়েই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য।

গ্রেফতার হওয়ার দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে সুশান্ত বলেন, আমি কেন গ্রেফতার হই জানেন? জানেন, কী ছিল আমার দোষ? 2010 সালে তৃণমূলের সঙ্গে একটা সংঘর্ষ হয়েছিল কেশবের মাটিতে। কয়েকজন মারা যায়। কিছু মৃতকে পুলিশ থানায় নিয়ে এসে কেস সাজায়। কিন্তু মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। এবার ন বছর পর মাটির তলা থেকে কিছু হাড় পাওয়া যায়। সেই হাড়গোড় দিকে একটি ছেলে বলল, এগুলো তার বাবার। জিজ্ঞাসা করা হয়, তুমি কী দেখে বুঝলে এটা তোমার বাবার? জবাবে সে বলে, বাবার শরীরের সঙ্গে নাকি একটা গেঞ্জি আর আন্ডারপ্যান্ট পাওয়া গিয়েছে। আর সেগুলো যে তার বাবারই তা দেখেই চিনতে পেরেছে।

জেলে যাওয়ার আগে জেরা পর্ব নিয়েও মুখ খুলেছেন সুশান্ত। বলেছেন ভবনী ভবনে সিআইডি টানা 30 ঘণ্টা জেরার নামে মানসিক অত্যাচার করে। লক্ষ্য ছিল পাগল করে দেওয়া। এক মিনিটের জন্যও আমাকে বিশ্রাম দেয়নি টানা দুদিন। চিকিৎসক আমাকে জানান, আপনাকে এখনই হাসপাতালে ভর্তির না করলে আপনার হার্ট অ্যাটাক হবে। উত্তর আমি বলেছিলাম আমার হার্ট এত দুর্বল নয়। কিন্তু তা সত্বেও 30 ঘন্টায় পুলিশ অফিসার বদলি করে আমার সামনে হাজির করা হয়েছিল। কিন্তু আমাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়নি।

প্রাক্তন মন্ত্রীর দাবি, পুলিশ তাকে খুন করতে চেয়েছিল। সেই চক্রান্তের কথা ফাঁস করতে গিয়ে আর একটি তথ্য তুলে ধরে সুশান্ত বলেন, পুলিশের এক ইন্সপেক্টর আমার কাছে চুপিচুপি এসেছিলেন। এসেছিলেন যখন ডিএসপি ঘুমোচ্ছিলেন, আর সাব-ইন্সপেক্টর বাথরুমে গিয়েছিলেন। ইন্সপেক্টর চুপি চুপি এসে আমাকে বলেছিল, ওদের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা। টর্চার করতে করতে আপনাকে শেষ করে দিতে চায় ওরা। আপনি অসুস্থতার ভান করে যদি পড়ে যান, তবেই একমাত্র আপনাকে বাঁচানো যেতে পারে। উত্তরে আমি বলেছিলাম এ কথা বলার জন্য ধন্যবাদ। কিন্তু ওদের এত ক্ষমতা নেই আমাকে শেষ করে দেবে। অন্যায় হয়তো সাময়িকভাবে জিততে পারে, কিন্তু সব সময় নয়। আমি ওদের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যেতে পারব।