শনিবার রাতের আগুনের শিখা সমানে জ্বলছে রবিবার রাতেও

এসবিবি: প্রায় 17 ঘন্টা পার। শনিবার রাতের আগুনের শিখা সমানে জ্বলছে রবিবার রাতেও। দিনের আলো কমে আসার পর থেকেই অসুবিধার সম্মুখীন হয় দমকল। সন্ধ্যায় ফের নিয়ে আসা হয় হাইড্রোলিক ল্যাডার। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আগুন নির্বাপণের জন্য তাঁদের কাছ থেকে 10 হাজার টাকা করে নেওয়া হত। অন্য দিকে কলকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় জানান, পুরসভার কোনও নিয়মই মানেননি ওই বিল্ডিংয়ের ব্যবসায়ীরা। সন্ধ্যায় বড়োসড়ো একটি বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দোকানে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
রবিবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি দমকল বাহিনী। স্থানীয় মানুষের দাবি ও আগুনের ব্যাপ্তির কথা মাথায় রেখেই ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাল সেনাবাহিনী। বাহিনীর সদস্যরা পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করেন। নির্দেশ পেলেই তাঁরা কাজে হাত লাগাবেন।
অন্যদিকে, ভিতরে প্রচুর পরিমাণে দাহ্যবস্তু থাকায় আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। সময় যত এগোচ্ছে, আগুনের তীব্রতা আরও বেড়ে চলেছে। মাঝেমধ্যেই শোনা যাচ্ছে বিস্ফোরণের আওয়াজ। আশপাশের বাড়ির বাসিন্দারা আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন। রীতিমতো আতঙ্কিত রয়েছেন তাঁরা। রবিবার ভোররাত আড়াইটে নাগাদ আগুন লাগে ক্যানিং স্ট্রিটের এই বাগরি মার্কেটে। প্রসাধনী, প্লাস্টিকের জিনিস এবং ওষুধপত্রের জন্য বিশেষ পরিচিত বাগরি মার্কেট পুজোর মুখে জিনিসপত্রে ঠাসা ছিল। প্রচুর দাহ্য বস্তু মজুত থাকায় আগুন 6 তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের 35টি ইঞ্জিন। এসি মেশিন, কম্পিউটারের মতো বৈদ্যুতিন যন্ত্রপাতি বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠতে থাকে এলাকা। বাড়িটির দেওয়ালে ফাটল ধরে গিয়েছে। সেই ফাটল থেকে কালো ধোঁয়া বেরতে দেখা যায়। লোহার রড, চাঙড় খসে পড়তে থাকায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই প্রার্থনা শুরু করেন।