পাক টিমের এই বেহাল দশায় মুখ লুকানোর জায়গা নেই প্রধানমন্ত্রী ইমরানের

মৃত্যুঞ্জয় লোক্ষণ

এশিয়া কাপে দলে নেই বিরাট। অনেকের মতো পাক অধিনায়ক সরফরাজ ভেবেছিলেন এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে এশিয়া কাপে বাজিমাত করবে তাঁর দল। কিন্তু সব হিসেব গুলিয়ে দিয়ে এশিয়া কাপে দুরন্ত ছন্দে মেন ইন ব্লু। বুধবারের পর রবিবার, পরপর দুই ম্যাচে পাকিস্তানকে একেবারে গ্যালারির বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছেন রোহিতরা। আরও একবার প্রমাণিত হল যে ক্রিকেট পাকিস্তানের চেয়ে বেশ অনেকটাই এগিয়ে ভারত।

এশিয়া কাপে বিরাট না থাকায় পাকিস্তানের বোলাররা অনেক লম্বা-চওড়া মন্তব্য করেছিলেন। কেউ কেউ বলেছিলেন একাই পাঁচটা-দশটা উইকেট নেবেন, একাই দলকে জেতাবেন। কিন্তু কোথায় গেল সেইসব মুন্সিয়ানা! পাকিস্তানের পেস বোলারদের নিয়ে রবিবার যেভাবে ছেলেখেলা করলেন রোহিত-ধাওয়ানরা, তাতে বিন্দুমাত্র মনে হল না যে তাঁরা ভারতের সঙ্গে সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর দিতে পারবে।

ভারত-পাক ম্যাচ মানেই একটা আলাদা আবেগ, টানটান উত্তেজনা। অতীতে একাধিকবার পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছে ভারত। সেয়ানে সেয়ানে টক্কর হয়েছে। কখনও জিতেছে পাকিস্তান কখনও ভারত। কিন্তু নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানের সেই পেস অ্যাটাকের তেজ যেন খানিকটা কমে গেছে। পাক টিমের বর্তমান যা অবস্থা তাতে শক্ত হাতে হাল না ধরলে হয়তো বিপদটা আরও বাড়বে। একসময় শক্তভাবে দলের হাত ধরেছিলেন বর্তমান পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। 1992-এ দলকে বিশ্বকাপ এনে দেন। তাঁরই পারফরম্যান্সে ভর করে নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তান রাজত্ব করেছিল বিশ্ব ক্রিকেটে।

বর্তমানে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অভাবে ক্রমশ ধুঁকছে পাক ক্রিকেট। বর্তমান চেয়ারম্যান ইশান মনি দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ব্যর্থ। বিশ্বকাপয়ী অধিনায়ক যখন দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সেখানে ক্রিকেটের এরকম বেহাল দশা, ভাবা যায়! কোথায় গেল পাকিস্তানের সেই ক্ষুরধার বোলিং অ্যাটাক? বর্তমানে পাক বোলারদের যা অবস্থা তাতে পাক বোলারদের বাউন্ডারির বাইরে পাঠাতে খুব একটা কসরত করতে হবে বলে মনে হয় না। এখন দরকার শক্ত হাতে দলের হাল ধরা। আরও মজবুত করতে হবে পাক বোলিং অ্যাটাক। তা না হলে হয়তো 2019-এর বিশ্বকাপে নিজেদের মুখ দেখাতে পারবে না পাকিস্তান।