রবিবারের বাবুইবাসা : 07.10.2018

।। 30 বছর পর ।।

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়

বেল বাজল।

দরজার ওপারে একটি সুদর্শন মহিলা। আঁটসাঁট চেহারা। লাবণ্যময়ী বলতে যা বোঝায় আর কি।

কী চাই? ইন্দ্রাণীর মনে হচ্ছে কোনও সেলসগার্ল। বলতে যাচ্ছিলেন, ‘‘আমাদের কিছু চাই না।’’

তার আগেই মহিলা বলে ওঠেন, ‘‘আপনি নিশ্চয় জেঠিমা? জেঠু কোথায়?’’

‘‘এই মরেচে।’’ মনে মনে ভাবেন ইন্দ্রাণী। ‘‘এখুনি কেলেঙ্কারি করছিলাম।’’

‘‘জেঠু মানে…আমার স্বামী? ভেতরে আসুন না।’’ মনের মধ্যে তবু একটা কিন্তু ভাব খেলা করে ইন্দ্রাণীর। দিনকাল যা পড়েছে। তবে আজ রবিবার বলে বাড়িতে গৌরব, শ্রেয়া আছে। ব্যারাকপুর থেকে দিন তিনেক ছুটি কাটাতে অপর্ণা-সিদ্ধার্থও এসেছে। বাড়ি জমজমাট।

‘‘আমাকে আপনি কোনওদিন দেখেননি। এখানে থাকি না। হঠাৎ এক আত্মীয়ের বিয়েতে কলকাতায় এসেছি। আসার আগে থেকেই ভেবেছিলাম জেঠুর সঙ্গে দেখা করব। অ্যায় এসো না। বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। আমার বর।’’

এবার তৎপর হয়ে ওঠেন ইন্দ্রাণী।

‘‘আসুন, আসুন।’’

‘‘আপনি আমাদের আপনি করে বলবেন না। আমরা অনেক ছোট। আমি অনামিকা আর ও তথাগত।’’

মহিলা ঢোকেন, পিছনে এক ভদ্রলোক। বয়স আন্দাজ অনামিকার মতই। দোহারা অভিজাত চেহারা। মুখে সামান্য ভদ্রতার হাসি। বৈঠকখানায় একটি সোফাতে গিয়ে দু’জনকে বসান ইন্দ্রাণী। সামনের চেয়ারে ইন্দ্রাণী বসেন। আগেই পাখা চালানো হয়েছে। প্রায় পরিবারভুক্ত রান্নার মেয়ে স্মিতাকে ডেকে দু’কাপ চা-সহ বিস্কুটের অর্ডার হয়েছে। বহিরাগতরা বলে দিয়েছেন, তাঁরা আর কিছু খাবেন না।

আবার বেল বাজল।

‘‘কে আবার?’’

‘‘আমি খুলছি, আমার ড্রাইভার এসেছে।’’

ইন্দ্রাণী চেয়ার ছেড়ে ওঠার আগেই অনামিকা উঠে দরজা খুলতে চলে যায়। ফিরে আসে হাতে একরাশ ছোট বড় প্যাকেট নিয়ে। টেবিলের ওপর রাখে। ইন্দ্রাণী খানিকটা হতভম্ব। বুঝতে পারছেন না, ব্যাপারটা কী চলছে।

‘‘হ্যাঁ, জেঠিমা, একটু মিষ্টি রাখুন।’’ হাতে একটা বিশাল প্যাকেট তুলে ইন্দ্রাণীর হাতে তুলে দিতে যায় অনামিকা। যথারীতি মুখে একটা অপ্রস্তুতের হাসি নিয়ে ইন্দ্রাণীকে বলতে হয়, ‘‘এসব কেন? এত বিশাল প্যাকেট?’’ হ্যাঁ-হাঁ-হুঁ-হুঁ-র মাঝেই ইন্দ্রাণীকে থামিয়ে দিয়ে অনামিকা বলে ওঠে, ‘‘একদম এসব বলবেন না। জেঠুকে দেখতে পাব এতদিন পর, সেটা আমার কাছে যে কতবড় অভিজ্ঞতা ভাবতেই পারবেন না।’’

‘‘ও, হ্যাঁ হ্যাঁ। ওকে ডাকি। ও ব্যালকনিতে কাগজ পড়েছে।’’

ইন্দ্রাণী উঠে যান। স্মিতা ট্রেতে করে আগে দু’গ্লাস ঠান্ডা জল। অল্প পরে চা-বিস্কুট নামিয়ে দিয়ে যায়। মেয়েটি অসম্ভব রকমের শান্ত। মুখে যাবতীয় নিরাসক্তি আর নির্লিপ্তি।

স্নেহাশিস ঢোকেন। মুখে একটা আপাত কাঠিন্য খেলা করছে। অনামিকাকে দেখে মুখে কোনও ভাবান্তর হয় না। আগে উঠে দাঁড়ায় তথাগত।

‘‘বসুন, বসুন। আপনাদের ঠিক…’’

অনামিকা কথার মাঝেই বলে ওঠে, ‘‘চেনা সম্ভবও নয় জেঠু। তোমার চেহারাও পাল্টে গেছে। আমারতো গেছেই। এ কি আজকের কথা। অন্তত তিরিশ বছর কেটে গেছে। জেঠিমা দাদা-বউদিরা নেই?’’

‘‘হ্যাঁ, হ্যাঁ, আছে। ডাকছি। স্মিতা দাদা-বউদিকে নিচে ডাকতো। অপর্ণা-সিদ্ধার্থকেও ডাক।’’

‘‘ও, দিদি-জামাইবাবুও এসেছেন?’’ অনামিকার কথা শুনে ইন্দ্রাণীর মনে হয় এ বাড়ির সবার সঙ্গে যেন ওর কতদিনের পরিচয়। অথচ ওর নাম বা পরিচয়, কোনওদিন স্নেহাশিসের কাছে শোনেনি।

সকলেই এসে পড়েছে। বেশ একটা আড্ডা আড্ডা ভাব। মেয়েটি বেশ কথা বলতে পারে। মুখখানিতেও শ্রী মাখানো। স্নেহাশিস-এর মত কঠিন মানুষও কেমন একটু ভাবালু হয়ে পড়ছে। অনামিকা প্রত্যেকের জন্য উপহার এনেছে। স্নেহাশিসের জন্য শাল আর তসরের পাঞ্জাবী।

স্নেহাশিস বলে ওঠে, ‘‘আরে, আমার জন্য এত সব কেন?’’

‘‘আপনার জন্যইতো আজ জীবনের কঠিন মাটিতে দাঁড়াতে পেরেছি জেঠু।’’

কর্তার প্রশংসা শুনে গিন্নির সঙ্গে অন্যদের মুখও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। স্মিতা মেয়েটা হাসতে জানে না। রান্নাঘরের দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আছে। মুখে কোনও ভাবান্তর নেই। স্নেহাশিস এখনও বুঝতে পারছেন না, কী হচ্ছে। মাঝেমাঝে স্মৃতি ঝিলিক দিয়ে উঠলেও আর কিছু মনেও পড়ছে না। মেয়েটা কে, বরটাই বা কেন এত গম্ভীর।

প্রশ্নটা অনেকক্ষণ ধরে অনেকের মনের মধ্যেই উঁকি দিচ্ছিল, এবার জিজ্ঞাসা করেই ফেলল অপর্ণা।

‘‘আচ্ছা ভাই, অনেকক্ষণ ধরে ভাবছি জিজ্ঞাসা করি, কিছু মনে করবেন না, কৌতুহল ধরে রাখতে পারছি না। বাবার সঙ্গে আপনার কোথায় পরিচয়, মানে কীভাবে?’’

অনামিকা যেন অস্বাভাবিক রকমের উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে, ‘‘সে কথাই তো বলতে এসেছি। তবে আজই সবটা নয়। আবার আসবো তো!’’

ইন্দ্রাণী বলে ওঠেন, ‘‘অবশ্যই আসবে মা।’’

‘‘আমাদের বাড়ি ছিল গুয়াহাটিতে। বিয়ে হয়েছে একেবারে উল্টোদিকে চেন্নাই।’’

অনামিকার মুখে গুয়াহাটি শুনতেই স্নেহাশিসের মুখটা ফের কঠিন হয়ে পড়ল মনে হচ্ছে। নিজের অফিসেও স্নেহাশিস কঠিন অফিসার বলেই পরিচিত ছিলেন।

‘‘তো হল কি,’’ অনামিকা বলতে শুরু করে, ‘‘আমার বাবার ভীষণ বন্ধু ছিলেন জেঠু। আর জেঠু ভীষণ ভালবাসতেন আমাকে। মনে পড়ছে জেঠু?’’

‘না, খুব একটা মনে পড়ছে না।’’ বলেন স্নেহাশিস।

‘‘পঁয়ষট্টি বছরে পড়ার পর তোমার এটা একটা নতুন প্রাপ্তি, এই মাঝে মাঝে ভুলে যাওয়া।’’ হেসে বলেন ইন্দ্রাণী। ‘‘আমার কিন্তু সব মনে আছে। তবে জেঠু আমাদের বাড়ি কমই যেতেন। তো জেঠিমা, একবার হল কি, জেঠু আমাদের বাড়ি গেছেন। আমার জন্য কত কী নিয়ে গেছিলেন। এত্ত বড় একটা চকোলেট, ফ্রক, একটা টুপি।’’

‘‘হ্যাঁ, ছোটদের ব্যাপারে বাবা ওইরকমই। আমার মনে আছে। আমার বাড়ি গেলেও দাদার মেয়ের জন্য বাবা যে কত কী নিয়ে যায়।’’ হাসতে হাসতে বলে ওঠে শ্রেয়া।

‘‘এখন জেঠু আমাকে একেবারে ভুলে গেছে। এরকম হয়। আমি নিজেই কত কী যে ভুলে গিয়েছিলাম মাঝে, তার ঠিক নেই। এই ছেলেটা, মানে আমার বরটা, ও না থাকলে যে কী হত ভাবি আমি,’’ ফের শুরু করে অনামিকা, ‘‘সেবারে যেদিন জেঠু গিয়েছেন, সেদিনই মা-বাবা কামাক্ষ্যার মন্দিরে পুজো দিতে যাবে। ভাগ্যিস জেঠু এসেছিল। জেঠুর কাছে আমাকে রেখে মা-বাবা চলে গেল, নাহলে আমাকে আবার পাশের বাড়িতে রেখে যেতে হত। বাড়িতে সেদিন জেঠু আমাকে নিয়ে ভীষণ মজা করেছিল। জেঠু আমাকে চকোলেট খাওয়াল, নতুন ফ্রক পরাবে বলে নিজে হাতে…। ও মা জেঠুর হাতে অত বড় দাগটা কিসের জেঠিমা?’’

‘‘কি জানি। ও বলে একবার ট্রেনের কামরায় লোহার খোঁচায় কেটে গিয়েছিল।’’

‘‘দেখুন কী কাণ্ড জেঠিমা।’’

স্নেহাশিসের কি শরীর খারাপ লাগছে? নাহলে ওরকম ঢোঁক গিলছে, দুহাতে মাথাটা চেপে বসে আছে কেন?

‘‘বাবা, আপনার প্রেসার ঠিক আছে তো?’’ জিজ্ঞাসা করে সিদ্ধার্থ।

অনামিকা তড়িঘড়ি উঠে যায় স্নেহাশিসের কাছে, ‘‘জেঠু, একটু জল খাও। জেঠিমা, জেঠুকে বিছানায় শুইয়ে দিন। জেঠু ওঠো, ওঠো। আমার হাতের ওপর ভর দাও।’’ স্ত্রী, মেয়ে-জামাই, ছেলে-বউমা উঠে আসার আগেই অনামিকা স্নেহাশিসকে ধরে ওঠায়। শোয়ার ঘরের দিকে যেতে যেতে স্নেহাশিসের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে অনামিকা হিসহিস করে বলে, ‘‘বাচ্চারা হাতে কামড়ে দিলে ইঞ্জেকশন নিতে হয়। নিয়েছিলে? পরের বার আমি আসার আগে নিয়ে নিয়ো। এখন আর তো মুখ চেপে ধরতে পারবে না। তোমাকেই রক্তাক্ত করে ছাড়ব, জানোয়ার।’’

স্নেহাশিসকে শুইয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিবারে স্বস্তির ভাব ফিরে এসেছে। সকলে অনামিকার ব্যবহারে আপ্লুত।

‘‘জেঠু, আজ আসি। সুস্থ হয়ে যাও। আবার আসব। এখনও কত গল্প বাকি।’’

‘‘আসবেন কিন্তু,’’ বলে ওঠে শ্রেয়া।

বেরিয়ে যাওয়ার আগে অনামিকা স্মিতার কাছে যায়, ‘‘তোমার জন্যও নিশ্চয় জেঠু আগে বহু উপহার নিয়ে এসেছে?’’

‘‘আনে। এখনও। তবে আর বোধহয় আনবে না।’’

দরজা বন্ধ করতে করতে স্মিতার ঠোঁটেও যেন একচিলতে হাসি।

****************************

।। সিণ্ডিকেটের রাজত্বে এ এক অসাধারণ বাস্তব কাহিনী! ।।

ইন্দ্রজিৎ ঘোষ

জ পর্যন্ত যতবার অর্ডার ডেলিভারি করতে এসেছে মুখে স্যার ছাড়া অন্য কিছু বলে না। কি অসম্ভব মিষ্টি ব্যবহার। প্রথম থেকেই আমার লোভ হতো মানুষটার গল্পটা জানার। জানা আর হয়ে উঠছিল না।

একদিন ধরে বেঁধে আটকে সবটা জানার চেষ্টা করলাম। আর জানার পরে আমার মাথা নত। আমরা যারা বেকার, যারা রোজ রোজ উঠে চাকরির জন্য খাটি। যারা হেরে যেতে চায় , তাদের কাছে এইরকম একটা মানুষ অনুপ্রেরণা ।

এই দাদা বি কম করে , ICWA র কোর্স করে , ফিন্যান্স এ MBA। কত সব ডিগ্রী। তারপর নানারকম কাজের চেষ্টা করেও সেইভাবে কিছু পায়না। অবশেষে চিটফান্ড কোম্পানি। সেখানে সারদা কাণ্ডের সময় পনেরো লাখের কাছাকাছি টাকা লস!

আত্মীয়স্বজন , বন্ধু- বান্ধব সবাই টাকা ফেরতের জন্য প্রবল চাপ দিতে থাকে । এই দিকে তখন বৌ এর পেটে অপেক্ষা করছে ফুটফুটে সন্তান। বার কয়েক সুইসাইড করার কথা ভেবেছে। কিন্তু পারেনি। নিজের কেনও জমি বিক্রি করে প্রায় সবার টাকা মিটিয়ে নিঃস্ব।

এরপর এদিক, ওদিক কাজের জোগাড় করার চেষ্টা। অবশেষে একদিন মিন্ত্রা’র ডেলিভারি বয় এর জন্য গেল। ডেলিভারি বয় মানেই বাইক মাস্ট। সেখানে বাইক নেই! ম্যানেজারকে বললো আমাকে সুযোগ দিন, কয়েকমাসের মধ্যে কিনবো।

এই মাস দুয়েক হল সাইকেলে করেই ডেলিভারি করছে। আমার বন্ধু জানতে চাইলো দাদা বাইক কবে কিনছো? বললো ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করছি একটু অসুবিধা আছে , তবে কিনে নেব। রোজ সকাল সাতটায় ঘর থেকে বেরিয়ে রাত ন’টা, দশ’টায় ঘর ঢোকেন।

একবছর মতো এখানে কাজ করে তারপর নিজের লজিস্টিক কোম্পানি খোলার পরিকল্পনা রয়েছে। যে মানুষটা হারিয়ে যেতে চেয়েছিল,  সেই মানুষটাই আজ স্বপ্ন বুনতে চেয়ে বাঁচছে , লড়ছে। জয়ী হয়ে গেছে আমার চোখে।

আমি সামান্য গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করেই চাকরির জন্য খাটছি। তিন বছর ধরে লড়াই করেই চলেছি। মাঝে মাঝে হেরে যাই। ইচ্ছা হয় সব ছেড়ে হার মেনে নিতে। মনে হয় আর কিছুই হবে না, হয়তো পারব না। আমাদের কাছে এই মানুষগুলোই বেঁচে থাকার রসদ।

ভালোবাসা নিও, দাদা। এগিয়ে চলো। যে দেশে বেকারত্ব চরম সমস্যা। মানুষ সহজেই হেরে যেতে চায়,  সেখানে এই লড়াইগুলোর নাম অনুপ্রেরণা।

****************************

।। তোমার দুর্গা আমার দুর্গা ।।

আক্রাম সেখ

তুমি আজ হয়েছো ধনী

নিজ কর্ম-ভাগ্যফলে বা জনধন লুটে,

তাই আজ মা দুর্গার নানা প্রতিরূপ

তোমার ঘরেই ফুটে।

তুমি আজ অতি ধনী

তাই মা দুর্গার প্রতিমায়

খরচ কর কয়েক কোটি টাকা,

আর আমার অবস্থা আজ এমন জরাজীর্ণ যে,

আমার জলজ্যান্ত দুর্গা মায়ের শরীর

পুরনো পোশাকেও যায় না ঢাকা।

তোমার দুর্গা থাকে আজ

নানা অলীক সুখে,

আমার দুর্গার হাজারো কান্না

আর ভাঙ্গা স্বপ্ন বুকে।

তোমার দুর্গার প্রতিমার প্যান্ডেলে

থাকে নানা আচ্ছাদন

যাতে কোনও কিছু না ওড়ে,

আর আমার মা দুর্গা থাকে যেখানে

সেই পর্ণকুটিরে, আজও জল পড়ে।

ঘুরে বেড়াও মন্ডপে মন্ডপে

করার জন্য মা দুর্গার প্রতিমার দর্শন,

আর সুযোগ পেলেই কর তোমরা

জীবন্ত দুর্গাকেই ধর্ষণ!

আশা করি আবার হবে

মা দুর্গার পার্থিব আগমন,

করবে নানা এই বৈষম্য দূর..

করবে সমস্ত অসুর নিধন।

****************************

।। ঘেঁটে ঘ ।।

পার্থসারথি গুহ

নে মনে যতই ভাবি নিয়ম মেনে চলব, জীবনপথে কপিবুক খেলব

‌কিছুতেই হয়না সেটা, ঘেঁটে যায় সব প্ল্যান-প্রোগ্রাম, ধরো ভাবলাম যাব আজ ডিটেকটিভ ছবি দেখতে, তালগোল পাকিয়ে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখব আচমকাই মুভি গেছে পালটে, দেখতে হলে দেখতে হবে ভক্তিরসে ভরপুর সিনেমা, অগত্যা কি আর করা, তেতো গেলার মতো ঘন্টা দুয়েক কাটালাম সেই ভক্তের ভগবান দেখে,

‌ পুজো মার্কেটিংয়েও একই দশা, জিন্স টি শার্ট কিনতে গিয়ে জুটল ভাগ্যে আদ্যিকালের ব্যাগি জিন্স, কাটতে গেলে যা হবে দফারফা, আসল কথা ভাগ্যটাই যে পচা, ওই যে কথায় বলে না ম্যান প্রোপোজেস আর গড ডিসপোজেস

‌এই সারবাক্যেই আজ আমার জীবনের এক্সপ্রেস ট্রেন মালগাড়ির গতিতে থমকে দিয়েছে যাবতীয় স্বপ্নের আনাগোনা

‌রাজধানী পৌঁছানোর সময়ে তাই তো ঠায় দাঁড়িয়ে মুঘলসরাইতে।

****************************

।। জিহ্বা পুড়ে গেলে কী করবেন? ।।

 

তাড়াহুড়ো করে চা-কফি খেলে জিহ্বা পুড়ে যায়। তারপর শুরু হয় জ্বালাপোড়া। এর ফলে খাবার খাওয়ার সময় অসপবিধে হয়। এরকম হলে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি অবলম্বন করুন।

1. কফি-চা খাওয়ার সময় জিহ্বা পুড়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে ঠাণ্ডা জলে কুলকুচি করুন। আরাম পাবেন।

2. জিভের পোড়া অংশে সরাসরি বরফের টুকরো লাগান। পাশাপাশি মুখের মধ্যে ঠাণ্ডা জল ধরে রাখুন কিছুক্ষণ। বার কয়েক করলেই পোড়াভাব কমে যাবে।

3. পোড়া স্থানে মধু লাগাতে পারেন। মধুর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও প্রদাহরোধী উপাদান। এতে জ্বালাপোড়াভাব ও প্রদাহ কমবে। পাশাপাশি এটি পরবর্তী সময়ে মুখে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করবে।

4. অ্যালোভেরা যেকোনও প্রকার ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। পুড়ে যাওয়া জিহ্বা বা তালুর ক্ষতস্থানে লাগান। এতে করে জিহ্বার ভেতরে একটি ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব আনবে। অ্যালোভেরা জেল মুখের মধ্যে 25 মিনিট রেখে দিতে হবে। দিনে কয়েকবার এটি করা যেতে পারে।

5. জিহ্বা পুড়ে গেলে মুখ দিয়ে শ্বাস নিন। এতে জিহ্বা ঠান্ডা হবে।

6. যথাসম্ভব ঠাণ্ডা জিনিস খাবেন, জিহ্বা পুড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দই খুব উপকারী। এটি জিহ্বাকে দ্রুত ঠান্ডা করে ।

7. ফাইবার বা আঁশ জাতীয় খাবার খাওয়া উচিৎ।  এটি পোড়ার ওপর পাতলা প্রলেপ তৈরি করে যা থেকে মুখের জ্বালা রোধ হয়। তবে এতেও যদি ব্যথা না কমে তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কোনওভাবেই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো অয়েনমেন্ট ব্যবহার করা যাবে না।

****************************

।। ইটালিয়ান স্ক্র্যাম্বল্ড এগ ।।

কালের জলখাবার নিয়ে রোজদিনই সমস্যায় পড়তে হয়।এক মেনু রোজ রোজ চলবে না। এদিকে নতুন মেনুর খোঁজ পেতে গিয়ে নাকাল হন গৃহবধূরা। ব্যস্ততার মাঝে অনেকেই জলখাবার বানানোর সময় পান না। সকালে কিছু না খেলে শরীর খারাপ হবে। তাই কম সময়েই বানাতে হবে নতুন জলখাবার। এরকম একটি রেসিপি হল ইটালিয়ান স্ক্র্যাম্বল্ড এগ।

উপকরণ: ডিম 4টি, দুধ 2 টেবিল চামচ, নুন স্বাদ মত, পেঁয়াজ কুচি হাফ চা চামচ, কাঁচা লঙ্কা কুচি হাফ চা চামচ, তেল 1 টেবিল চামচ, মাখন 1 টেবিল চামচ, পনির গ্রেট করা 2 টেবিল চামচ, গোল মরিচ গুঁড়ো হাফ চা চামচ, গাজর সিদ্ধ করা 3 টেবিল চামচ, টোমেটো একটি অথবা দুটি।

প্রণলী :  ডিম, দুধ, নুন ও গোলমরিচ এক সাথে বিট করুন বিটার দিয়ে। এরপর ভেজে নিতে হবে কুচনো পেঁয়াজ, লঙ্কা ও গাজর। এই সময় গ্যাসের আঁচ থাকবে মাঝারি। এরপর ভাজা পেঁয়াজ, লঙ্কা, গাজরের সঙ্গে দিয়ে দিন ডিমটি। কিছুক্ষণ নাড়াচাড়ার পর গ্রেট করা পনির দিয়ে 30 মিনিট ভাজতে হবে। নামানোর আগে মাখন ও টমেটো কুচি ছড়িয়ে দিন। সকালে টোস্টের সঙ্গে পরিবেশন করুন ইটালিয়ান স্ক্র্যাম্বল্ড এগ।

****************************