রবিবারের বাবুইবাসা : 14.10.2018

।। দুর্গা পুজো শুরু নিয়ে নানা মুনির নানা মত।।

বাঙালীর প্রিয় উৎসব দুর্গা পুজো। সারা বছর ধরে চলে তারই অপেক্ষা। পুজো মানে মিলনকেন্দ্র। কিন্তু, বাঙালির এই শ্রেষ্ঠ অনুষ্ঠান কবে থেকে শুরু হয়েছে আর কেনই বা শুরু হয়েছে,  তার পৌরাণিক উৎস কী রইলো সেই কাহিনি।

অকালবোধন  

শাস্ত্রমতে শরৎকাল দেবদেবীদের নিদ্রা বা বিশ্রামের সময়। তাই এই সময়ে দেবপুজো উপযুক্ত নয়। কিন্তু, এই সময়েই দেবীর পূজা করতে হয়েছিল। কালিকা পুরাণ ও বৃহৎধর্ম পুরাণ অনুসারে জানা যায়, রাম-রাবণের যুদ্ধের জন্য ব্রহ্মাকে দেবী দুর্গার পুজো করতে হয়। আবার কৃত্তিবাসী রামায়ণে উল্লেখ রয়েছে, অযোধ্যার রাজ রামে নিজে দেবীর পুজো করছেন।

রাবণের লঙ্কাপুরী ও স্বয়ং রাবণ নিজে দেবী ভদ্রকালী দ্বারা রক্ষিত ছিলেন। তাছাড়া রাবণ যুদ্ধের আগে দেবীর উপাসনা করে দেবীর থেকে এই বর প্রাপ্ত হন যে দেবী যুদ্ধের সময়ে তাঁর রথের সম্মুখে থাকবেন। অর্থাৎ রাবণকে পরাজিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যায়। তাই রামকেও দেবীর আরাধনা করতে বলা হয়। রাম পুজো করলেও দেবীর দর্শন পেলেন না। তাই বিভীষণের পরামর্শে তিনি 108 টি পদ্ম দিয়ে দেবীর পুজো করবেন বলে সঙ্কল্প নেন। তাঁর নির্দেশে হনুমান যান দেবীদহে 108 নীলপদ্ম আনতে। ফুল আনার পর রাম পুজো করতে করতে দেখেন যে 1 টি পদ্ম নেই। আসলে দেবী নিজেই রামের পরীক্ষা নেবার জন্য একটি ফুল লুকিয়ে রাখেন। তখন তিনি তাঁর পদ্মসদৃশ চোখ দেবীকে অর্পণ করবেন বলে স্থির করেন। যখনই তিনি এই কাজ করতে যান তখনই দেবী আবির্ভূত হন ও রামকে যুদ্ধ জয়ের আশীর্বাদ দিয়ে তাঁর অস্ত্রে প্রবেশ করেন। অবশেষে রাম যুদ্ধে জয়ীও হন। এই হল শরৎকালে দেবীর অকালবোধনের কাহিনি। তবে বাল্মিকী রামায়ণে রামের দুর্গা পুজোর এই কাহিনি নেই।

রাজা সুরথের কাহিনি

রাজা সুরথের কাহিনির উল্লেখ রয়েছে শ্রী শ্রী চন্ডীতে। রাজা সুরথ যুদ্ধে পরাজিত হলে তাঁর মন্ত্রী ও কিছু সভাসদ বিশ্বাসঘাতকতা করে তাঁর রাজত্ব ও সেনাবাহিনী সব নিয়ে নেন। তখন তিনি রাজ্য থেকে চলে এসে বনে বনে ঘুরে বেড়ান। তখন তাঁর মেধা নামে এক মুনির সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। মেধা মুনি রাজাকে তার আশ্রমে নিয়ে যান। এরপর রাজার সঙ্গে একদিন দেখা হয় সমাধি নামে এক বৈশ্যর। তাঁর থেকে সব কিছু কেড়ে নিয়ে তাঁর স্ত্রী ও পুত্ররা তাকে বিতাড়িত করেন। সুরথ ও সমাধি দুজনেই মেধা মুনির কাছে তাঁদের মনঃকষ্টের কারন জানতে চাইলে তিনি দেবী মহামায়ার কথা বলেন ও তাদের দেবীর পুজা করতে বলেন।

তখন দুজনেই দেবী দুর্গার আরাধনা করেন ও দেবী সুরথকে তাঁর রাজ্য এবং সমাধিকে বোধি দান করেন।
এই হল দুর্গা পূজা শুরুর মূল দুই কাহিনি। তবে অন্যান্য দেবদেবীরাও নানা সময়ে দেবীর পূজা করেন, তাঁর বিবরণ পাই ব্রহ্মবৈবর্ত্য পুরাণে। সেখান থেকে জানতে পারি যে প্রথম নাকি দুর্গার পূজা করেন কৃষ্ণ। দ্বিতীয়বার পুজো করেন ব্রহ্মা মধু ও কৈটভ নিধনের সময়। তৃতীয়বার দেবীর পুজো করেন শিব ত্রিপুর নামে অসুরের সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে। আর চতুর্থবার দেবী পুজো করেন ইন্দ্র দুর্বাশা মুনির অভিশাপে লক্ষ্মীকে হারিয়ে। তবে যেহেতু পুরাণ কাহিনী তাই এই নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে।
এইভাবেই মর্ত্যধামে দেবী দুর্গার পুজো প্রচলিত হয়।

+++++++++++++++++++++

।। নরহরির ঢাক-নামচা ‌।।

পার্থসারথি গুহ ‌

খোঁজ খোঁজ খোঁজ। চারিদিকে একেবারে যেন হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। তা কাকেই বা এমন গরু খোঁজা খুঁজতে ব্যস্ত সবাই? শেষপর্যন্ত জানা গেল, যার জন্য এত তোলপাড় চারদিকে সেই বাবাজীবন গিয়েছিলেন রেড়ির তেল আনতে। বলাবাহুল্য, পুজোর উপাচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তেলের আমদানি না হলে তো মা দুর্গার সেবায় চরম খামতি থেকে যাবে। শাস্ত্রের বিধান বলে কথা। আসলে খুঁজতে থাকা পাড়ার ছোকরা ব্রিগেডের সঙ্গে রাস্তার মাঝপথে যে দেখা হয়ে গেল তার। হাতে ধরা রঙের বড়সড় ডাব্বায় মজুত রেড়ির তেল। প্রথমদিকে জগা, ভজন, বিশুরা বেজায় খাপ্পা হয়ে উঠলেও পরে তাদের রাগ পড়তেও দেরি হল না। সত্যি তো কোথাও তো পাওয়া যাচ্ছিল না এই বিশেষ তেলটি। মুশকিল আসান হয়ে সেই দুষ্প্রাপ্য বস্তুটি যিনি হাজির করেছেন তাকে বকাবকি করার বদলে তারিফে তারিফে ভরিয়ে দিতে লাগল ছোকরার দল। জগা বলে উঠল, ছোট থেকে দেখে আসছি মাইরি, হরিদা পুজোটা প্রায় একার হাতে সামলায়। ঠাকুরমশাই তো খালি মন্ত্র পড়েই খালাশ। ভজন আবার এককাঠি ওপরে উঠে বলল, দুরদুর, আমার হাতে যদি ক্ষমতা থাকত আমি হরিদার গায়ে নামাবলীর জার্সিটা চাপিয়ে দিতাম। আরে মনে ভক্তি থাকলে ব্রাহ্মণ হতে হয় না। ভজনের কথায় সায় দিয়ে বিশু বলে উঠল, ওই যে বলে না মন চাঙ্গা থাকলে সব হয়। পুজোয় হরিদার মনে যে আন্তরিকতা থাকে তার ছিটেফোঁটাও যদি অন্যদের মধ্যে থাকত। ওদের এত কথার মাঝে লজ্জায় পড়ে গিয়ে হরি বলে উঠল, দাদাবাবুরা তোমরা ওরম কথা বলো নি গো, পাপ লাগবে তো। যার যেটা কাজ, সেটা করাই তো উচিত। যদিও পুজোর কাজে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ে সে যে অনেকসময়ই দেখা যায় বিশু বা ভজনই তার ঢাকটা নিয়ে ভরপুর বাজিয়ে চলেছে। হ্যাঁ, মূলত ঢাকি হলেও পুজোর কাজে যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে, সে ব্যাপারে বছরের পর বছর আয়োজক আর ঠাকুরমশাইয়ের সবেধন নীলমণি হয়ে উঠেছে হরি। সদ্য গোঁফ ওঠা বয়স থেকে আজ প্রায় প্রৌঢ়ত্বের দোরগোড়ায় চলে এসেছে। মাঝে অনেক ঝড়ঝাপটা বয়ে গিয়েছে তার ওপর দিয়ে। মেজ ছেলেটা বছর দুয়েক আগে ভয়ানক জ্বরে ভুগে মারা গিয়েছে। কলকাতার হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো বাঁচানো যেত। কিন্তু বন্যার খেসারত দিতে গিয়ে সেই খরচটুকু করার জোও ছিল না তার। চোখের সামনে দেখেছে কিভাবে ছেলেটা কাতরাচ্ছে। কিছু করে উঠতে পারেনি। বড় ছেলে অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছে সোনার দোকানের কাজে। এতটাই স্বার্থপর যে বাবা-মাকে দেখার প্রয়োজনটুকু বোধ করে নি। বউ বাচ্ছাকেও নিয়ে গেছে সেই চুলোয়। ছোট ছেলেটা বরং বাপের খুব ন্যাওটা। তাছাড়া পড়াশুনাতেও খারাপ নয়। এত প্রতিকূলতার মধ্যেও মাধ্যমিক পাশ করেছে। এখন চাষবাসের কাজেও হরির সঙ্গে হাত লাগায়। তার জীবনের একমাত্র স্বান্তনা ‌ মেয়েকে পাত্রস্থ করতে পারা। হ্যাঁ, লোকে বলে সুপাত্রের হাতেই পড়েছে মিনতি। ‌ এই অধমের বাপ-মা দেওয়া নাম হল নরহরি গুছাইত। কিন্তু, কলকাতার বাবুদের কাছে সে আর নর নয়, হয়ে উঠেছে হরি। ভাবতে গিয়ে নিজেরও কেমন যেন ভালোই লাগে। তার মধ্যে যে মানুষটা ছিল সে কলকাতার বাবুদের কল্যাণে ঈশ্বরত্ব লাভ করেছে। আদতে ঢাকি হলেও পুজোর সময়টা নরহরির মূল ভূমিকা হয়ে ওঠে ঠাকুরমশাইয়ের প্রধান সহকারীর। বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামে। পুজোর এই সময়টা অবশ্য নরহরির ঠিকানা বরাবরের মতো দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়া স্টেশন সংলগ্ন পল্লিমঙ্গল সমিতি ক্লাব। এই ক্লাব প্রাঙ্গণে প্রতি বছরের মতো ধূমধাম সহকারে দুর্গা পুজোর আয়োজন করা হয়েছে এবারেও। যথারীতি জোগার-জান্তি বা আয়োজনে কোথাও কোনও ত্রুটি নেই। তাও ঠাকুরমশাইয়ের পান থেকে চুন খসতে দিচ্ছে না নরহরি। গ্রামের জীবনযাপন অনেকটা তাসের ঘরের মতো। যেই বা মনে হয় সবকিছু গুছিয়ে আনতে পেরেছি তখনই সব এলেমেলো হয়ে যায়। ফি বছর হয় বন্যা, নয় নদী ভাঙন নরহরির জীবনটাকে তছনছ করে দিয়ে যায়। সামান্য যে সঞ্চয়, ভাঁড়ে যে কয়েকটা টাকা-পয়সা জমায় তাও এক নিমেষে পগার পার হয়ে যায়। তাও বছরের এই সময়টা কলকাতা যাওয়ার জন্য যাকে বলে একেবারে ক্ষেপে ওঠে নরহরি। নিজেকে কলকাতার বাবুদের সমকক্ষ মনে হতে থাকে এই চার-পাঁচটা দিন। শত বাধাবিপত্তি দূরে সরিয়ে এই সময়টা সে ছুটে আসে কলকাতায়। ৪-৫ টা দিন ক্লাবঘরই হয়ে ওঠে তার ঠিকানা। সাকুল্যে যে খুব বেশি কিছু জোটে এখান থেকে তা নয়। আজকের বাজারে যা নগণ্যই। কিন্তু এই যে কটাদিন বাবুদের সঙ্গে সঙ্গে থাকা, মা-ঠাকুরণদের তার পরিবার নিয়ে বারবার খোঁজখবর নেওয়া, ছেলেছোকড়াদের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠা তার দাম? বিশেষ করে ওই পুচকিগুলো খেলার ফাঁকে ফাঁকে তার কাছে এসে যখন বলে ওঠে ও ঢাকিকাকু ও ঢাকিকাকু, সেই শব্দ যেন মধুর মতো ঝরে পড়তে থাকে নরহরির কর্ণযুগলে।

++++++++++++++++++

।। বীর? ভোগ্যা বসুন্ধরা ।।

চণ্ডীচরণ দাস

 

পাঁঠা তো জানে না

কেন বেলপাতা

কেন বা সিঁদুর দান।

কেন বা যত্নে আদর করিয়া

করায় তাহারে স্নান।

খড়্গ জানে না কেন উত্থান

কেন করে বলিদান।

হাঁড়িকাঠ কভু জানিতে চাহে না

কেন এ রক্ত স্নান।

শোন্ দুর্বল এটাই নিয়ম

সবল তোমার যম।

মুরগী, ছাগল, ভেড়া ও গবাদি

বলি হবে হরদম।

বড় মাছ সব গিলে গিলে খায়

দুর্বল ছোটো মাছে।

বনে খোলা বাঘ, সিংহ থাকিলে

কে যায় তাদের কাছে ?

খাদক যখন মাংসাসী প্রাণী

প্রাণী হত্যার পাপ।

কখনো কি লাগে তাহাদের গায়ে,

নাই তাই পরিতাপ।

মাছকে কখনো প্রাণীই ভাবে না

পোকা মাকড় তো ছার।

নির্মম ভাবে বলি দেয় তারা

বাঁচবার অধিকার।

বুলেট কেবল প্রাণ নিতে জানে

বলে না কখনও কথা।

ট্রিগারে কাহার আঙুল ছুঁয়েছে

খোঁজা তাই মূর্খতা।

++++++++++++++++++

।। রেসিপি – চিংড়ির বিরিয়ানি ।।

চিকেন বিরিয়ানি, মটন বিরিয়ানি তো খেয়েছেন এবারে খেয়ে দেখুন চিংড়ির বিরিয়ানি। কীভাবে বানাবেন দেখুন রেসিপি।

উপকরণ :  চাল 2 কাপ, খোসা ছাড়ানো চিংড়ি 500 গ্রাম, টমেটো কুচি এক কাপ, আদা বাটা 1 চামচ, রসুন বাটা 1 চামচ, পেঁয়াজ কুচি 1 কাপ, লঙ্কা গুঁড়ো 1 চামচ, জয়ত্রী গুঁড়ো আধ চামচ, এলাচ 4 থেকে 5 টি, দারুচিনি 2 টি, লবঙ্গ 5 টি, তেল পরিমাণ মত।

প্রণালি : প্রথমে চাল ধুয়ে জল ঝড়িয়ে নিতে হবে। এরপর ভেজে নিতে হবে দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, পেঁয়াজ কুচি। এরপর এতে আদা বাটা, রসুন বাটা, লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে নাড়াচাড়া করতে থাকুন। টমেটো ভালভাবে না মেশা পর্যন্ত ভাল করে কষাতে থাকুন। পরবর্তী পর্যায়ে চিংড়ি, নুন দিয়ে দিন। চিংড়ি মাছগুলি সেদ্ধ হয়ে এলে তুলে নিন। কিছুক্ষণ পরে চাল ও চিংড়ি মিশিয়ে নাড়তে থাকুন। তারপর নামিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন চিংড়ির বিরিয়ানি।

++++++++++++++++++

।। পুজোর ফ্যাশন ।।

প্রতীক্ষার আবসান ঘটিয়ে দরজায় কড়া নাড়়ছে শারোদৎসব। চার পাঁচদিনের ফ্যাশন নিয়ে চিন্তিত সকলে। পুজোর কটাদিন চাই স্পেশাল লুক। দেখে নেওয়া যাক এবার পুজো ফ্যাশনের লেটেস্ট ট্রেন্ড।

নি লেংথ ড্রেস

  এবার পুজোয় কিন্তু সবথেকে উপরে থাকবে নি লেংথ বা মিড লেংথ ড্রেস অথবা স্কার্ট। নি লেংথ ফ্লেয়ারি কটন স্কার্টের সঙ্গে কটন স্লিভলেস টপ, নি লেংথ চাপা স্কার্টের সঙ্গে স্মার্ট টপ বা নি লেংথ ড্রেস তিন ধরনের পোশকই এই বছর ফ্যাশন ট্রেন্ডে। শুধু ঠিকঠাক জুতা ও মানানসই অ্যাক্সেসরিজের ছোঁয়ায় সম্পূর্ণ হবে সাজ।

জুতো

হিলের থেকে এবারে কিন্তু ফ্যাশনে বেশি ট্রেন্ড করছে ফ্ল্যাট জুতো। লং কুর্তি, পালাজো বা নি লেংথ ক্যাজুয়াল স্কার্ট টপ, সবকিছুর সঙ্গেই ফ্ল্যাট জুতোই এবার পুজোর ট্রেন্ড। তবে নি লেংথ স্কার্ট বা ড্রেস যদি ফর্মাল কাটের হয় তবে ফ্ল্যাটের বদলে পরতে পারেন হাই হিল। আর এবারে জুতোর ফ্যাশনে থাকবে হরেক রং। লাল, হলুদ, সবুজ, নীল যে কোনও রঙের জুতো শুধু কনট্রাস্ট করে নিতে হবে পোশাকের সঙ্গে।

চুল

খোলা চুল কিন্তু এবারে একেবারেই ফ্যাশন নয়। মাঝখানে সিঁথি করে বা উল্টে টাইট খোঁপা, অথবা জেল দিয়ে টেনে বাঁধা পনিটেল এবারের নতুন ট্রেন্ড। নিং লেংথ ফর্মাল ড্রেস বা স্কার্টের সঙ্গে টাইট বান বা পনিটেল অসাধারণ দেখতে লাগে। পালাজোর সঙ্গে ভাল লাগবে বান। লং কুর্তির সঙ্গে চুল বেঁধে রাখুন পনিটেলে।

মেক আপ- এবারের পুজোর ফ্যাশনের মেক আপ ট্রেন্ডে সবথেকে উপরে রয়েছে লাল লিপস্টিক। সঙ্গে আই মেক আপ অবশ্যই ন্যুড হবে। চুল টাইট করে বেঁধে ঠোঁটে লাগিয়ে নিন লাল লিপস্টিক। চোখের মেক আপে থাক শুধু মাসকারা। ভুরু আইব্রাও পেন্সিল দিয়ে গাঢ় করে দিন, কিন্তু আঁকবেন না। একটু গাঢ় অগোছালো ভরুই এখন ফ্যাশন। রাতে পার্টিতে যেতে হলে মুখে বেস মেক আপের ওপর লাগিয়ে নিয়ে হালকা শিমারের ছোঁওয়া যাতে গ্লসি ভাব আসে। লাল লিপস্টিক যদি না লাগাতে চান তবে লাগিয়ে নিন গাঢ় ওয়াইন কালারের লিপস্টিক। অবশ্যই ম্যাট। ওয়াইন লিপস্টিকের সঙ্গে কিন্তু চোখে গাঢ় কোহলও ভাল লাগবে। তবে লাল লিপস্টিক লাগালে কিন্তু কাজল ব্যবহার করবেন না।

অ্যাক্সেসরিজ

 

এবারের পুজোর ফ্যাশন কিন্তু সিঙ্গল অ্যাক্সেসরিজ। যদি ফর্মাল নি লেংথ ড্রেস বা স্কার্ট পরে তবে একটা মানানসই বেল্ট বা কবজিতে শুধু একটা বড় ডায়ালের ঘড়িই যথেষ্ট। যদি ড্রেসবা স্কার্ট ক্যাজুয়াল হয় তবে গলায় পরতে পারেন মাননসই ট্রেন্ডি নেকপিস। লং কুর্তির সঙ্গে সবথেকে ভাল লাগবে হাতে যদি একটা বড় আংটি পরে নেন শুধু। তবে বেল্ট, ঘড়ি, আংটি বা নেকপিস যাই পরুন না কেন শুধু সেটাই পরবেন। একটি মাত্র অ্যাক্সেসরি পরাই এখন ফ্যাশন। দুল বা চুড়ি এবারে একটু ব্যাকফুটে।

++++++++++++++++++