রবিবারের বাবুইবাসা : 21.10.2018

।। পড়ুন, বিজয়া দশমীর তাৎপর্য ।।

 

শ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের দশমী তিথিতে কৈলাসে পাড়ি দেন মা দুর্গা। সেই কারণেই মার কৈলাস যাত্রা বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। তবে, বিজয়াকে দশমী বলার পেছনে নানা পৌরাণিক ব্যাখ্যা রয়েছে।

বিজয়া দশমী মানে পুজোর শেষ। পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, এদিন পিতৃলোক থেকে স্বামীর গৃহ কৈলাসে পাড়ি দেন মা দুর্গা। সঙ্গে থাকে তাঁর চার ছেলেমেয়ে। রীতি মেনে, দশমীর দিনই দেবীর বিসর্জন হয়। পুরাণের মহিষাসুর বধ সংক্রান্ত ব্যাখ্যআয় বলা হয়েছে মহিষাসুরের সঙ্গে 9 দিন 9 রাত্রি যুদ্ধ করেছিলেন দশভুজা। এরপর দশম দিনে মহিষাসুরকে পরাস্ত করে শুভ শক্তির সূচনা করেন দেবী।

শ্রী শ্রী চণ্ডীর কাহিনী অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের কৃষ্ণা চতুর্দশীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন দেবী। শুক্লা দশমীতে বধ করেছিলেন মহিষাসুরকে। বিজয়া দশমীর পরেই দেশ জুড়ে পালিত হয় দশেরা। শব্দটির উৎপত্তি সংস্কৃত শব্দ দশহর থেকে, যা দশানন রাবণের মৃত্যুকে সূচিত করে। আবার রামায়ণে উল্লেখ রয়েছে, আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমী তিথিতেই দশাননকে বধ করেছিলেন রাম। কালিদাসের রঘুবংশ, তুলসীদাসের রামচরিতমানস কিংবা কেশবদাসের রামচন্দ্রিকায়  এই সূত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বলা হয়েছে, রাবণ-বধের পরে পরে আশ্বিন মাসের 30 তম দিনে অযোধ্যা প্রত্যাবর্তন করেছিলেন রাম-লক্ষ্মণ ও সীতা। সকলের এই প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্যেই পালিত হয় দশেরা ও দীপাবলী।

মহাভারতে বলা হয়েছে, 12 বছর বনবাসের পর আশ্বিন মাসের শুক্লা দশমীতেই পাণ্ডলরা শমীবৃক্ষে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রগুলিকে আবার ফিরে পান। পাশাপাশি সকলে ছদ্মবেশ থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের আসল পরিচয় ঘোষণা করেন।

###################

।। আত্মকথা, ফৌজিজীবন 1 ।।

হুমায়ুণ রানা

ব্রুশলির যদি সাইকেল টা চুরি না যেত, কে বলতে পারতো—সে কিংবদন্তী ক‍্যারাটে মাষ্টার না হয়ে টিকিট ব্ল‍্যাকার হতোনা?।আমার পিছনে চন্দনদা না পড়লে, আমিও ফৌজী হতাম কিনা কে জানতো?

আমি তখন সবে দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র।আমাদের পাড়ার দাদা চন্দনদা চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র।ও আমাকে রাগানোর জন‍্য বা আদর করতে গিয়েই হোক, জামার একটা বোতাম ছিঁড়ে দিয়েছিল। আর যাবে কোথায়! চন্দনদাকে আধলা ইট হাতে নিয়ে, সারাটা পাড়া ছুটিয়েছিলাম। বিস্মৃতির অতল গহ্বরে তলিয়ে যাওয়া ঘটনাটি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে, হেসে লুটোপুটি খায় আমার স্ত্রী–পুত্র।আমিও মনে, মনে হাসি। কি দস‍্যুর রাগ না ছিল, ঐটুকু বয়সে? তা নয়, আমার শৈশবকাল থেকে প্রখর আত্মসম্মান বোধ ছিল। যার জন‍্য এত সিরিয়াস হয়ে উঠেছিলাম, শৈশব থেকেই।পরবর্তীকালে আরও দুষ্ট সহপাঠীদের চক্করে পড়ে বাধ‍্য হয়েছিলাম শরীর চর্চা করতে। ঠন,বৈঠক,লম্প–ঝম্প,লাঠিখেলা,সাঁতার, ঘোড়ায় চড়া,ক‍্যারাটে, বক্সিং, কুস্তি কোনওটাই বাদ দিইনি শিখতে।পড়াশোনার সঙ্গে,সঙ্গে খেলাধুলা, মারপিট, সাহিত্য চর্চা সবকিছুই আমার জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।ব্রুসলিকে গুরুজ্ঞানে পুজো করতাম, মনে মনে।লোহার কড়াইয়ে বালি গরম করে, ইয়ালি বলে হুংকার দিয়ে দুটো হাত ঐ গরম বালিতে ঢুকিয়ে দিতাম। ঘুঁষি মেরে ইট ভাঙ্গতাম। বুকের ছাতি মোদির চেয়ে বড়ই ছিল তখন। আমি প্রত‍্যেককে চ‍্যালেন্জ দিতে শুরু করি সেসময়।গায়ে অসুরের শক্তি।অন‍্যায়ের প্রতিবাদ করতাম সেজন‍্য গ্রামের সমাজবিরোধী রা আমার শত্রু হয়ে গিয়েছিল। আমিও তাদের চ‍্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলাম। এইভাবে কলেজের দিনগুলোতে কঠিন চ‍্যালেন্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আমি ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলাম।এস এফ আই–এর হয়ে কৃষ্ননাথকলেজে ইলেকশানে অংশ নিয়েছিলাম।সেসময় অনেক নেতাদের সঙ্গে পরিচয় ছিল।তাঁরা কেউ,কেউ মন্ত্রী হয়েছিলেন পরবর্তী সময়ে।

একদিন ফুটবল খেলতে গিয়ে, ডানপায়ের বুড়ো আঙ্গুলের নখে মারাত্মকরকমের চোট লেগেছিল। বাড়িতে এসে ব‍্যান্ডেজ বেঁধে বসেছিলাম। অপ্রত‍্যাশিতভাবে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এলো। ওপাড়ার এক বন্ধু পরেশরায়চৌধুরী রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো সাইকেল চেপে।বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে, আমার ঘরে ঢুকলো। রাস্তার,’পরেই আমার ঘর।আমি ওকে তোয়ালে দিলাম, মাথা মুছতে।বাড়িতে চায়ের জন‍্য বললাম।গরম চা খেতে, খেতে পরেশ বললো:—রাণা আর্মিতে কালকে লাইন আছে যাবি?

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি কি কাগজপত্র লাগবে?”পরেশ জানালো,দুকপি ফটো।প্রধানের প্রশংসা পত্র।স্কুল পাশ সার্টিফিকেট ইত‍্যাদি।আমার মনটা খুশীতে নেচে উঠলো।আমার ও মনের মধ‍্যে বাসনা ছিল, আর্মিতে জয়েন করবো। সেখানে খেলাধূলার উত্তম চর্চা আছে এবং খেলোয়াড়দের জন‍্য বিশেষ সুযোগ সুবিধা আছে। সুতরাং, একটি সুযোগ এসে গেল।পরেশ আমার কাছে সবদিকে ই কমা।ওর না আছে শরীর, না আছে শক্তি। ও যখন আর্মিতে লাইন দিতে যাবার সাহস করে,আমি কেন পারবোনা। আবে ও শ‍্যামা, যারা লাগাতো নিশানা!!

সেই রাত্রেই ছুটলাম, পাশের গ্রাম গোকর্ণে। প্রধানের বাড়ি। প্রধান বাড়ি ছিলেন না। ওঁর ছেলে অসিত আমার বন্ধু। ওকে বুঝিয়ে বলতে, একটি ফাঁকা সাটিফিকেট হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো:— যা দরকার লিখে নিও।”আমি লাফাতে,লাফাতে বাড়ি ফিরে এলাম।কি খুশী চোখে মুখে!যেন ব‍্যাঘ্র শিকার করিয়াছি!!!

পরেরদিন। আমরা দুজনে গেলাম আর্মিতে লাইন দিতে। বিশাল জনতার ভিড়।পাঁচ হাজারের অধিক হবে। মেজর হুকুম সিং গোঁফ পাকিয়ে হুমকি–ধমকি দিচ্ছেন—“এই লেড়কা লাইন সিধা করো”…”আরে ভাগ হিঁয়াসে শালে হাইটমে নেহি হোগা ফৌজমে আয়া ড্রামা দিখানে।”…কাউকে বুকে এমন ঘুঁষি মারছে যে কি বলবো—অনেকেই নিজের হাইটের উপর কন্ফিডেন্স ছিলোনা।ভয়ে,ভয়ে হাইট মাপা যন্ত্রের নিচে গিয়ে দাঁড়াচ্ছিল।অনেকে ঘুঁষি খাওয়ার ভয়ে লাইন ছেড়ে পালিয়ে গেল।ঠিকসেইসময়,কর্নেল বাহাদুর সিং এলেন রিক্রুটিং অফিসে। উনি আমাদের 9th Bengal BN NCC–কমান্ডিং অফিসার। বাহাদুর সিং বললেন”—হমারা যো যো NCC লেড়কা হ‍্যায়, সামনে আও।”আমরা কুড়িজন NCCর ছেলে ছিলাম। আমাদের আগে লাইন হল। মাপজোক হল। মেডিকেল হল। তারপর দৌড়ঝাঁপ। তখন আমি টের পেলাম, পায়ের ব‍্যাথাটি।আমি কোনও কিছুতে হারতে চাইনে। বুড়ো আঙ্গুলটা একটু উঁচু রেখে, খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েই ছুটলাম এবং সবকিছুতেই পাশ হয়ে গেলাম। তারপর শুরু হল পরীক্ষা। তাতেও দুইজনেই পাশ হয়ে গেলাম। বিকেলের মধ‍্যে সব সিলেক্ট হয়ে গেলাম। মেজর হুকুম সিং, আমাদের নাম পড়ে শোনালেন। তারপর আমার হাতে পার্টিওয়ারেন্ট ধরিয়ে দিয়ে বললেন,”আপলোগোকা পোস্টিং, ভোপালমে।জাইয়ে,আচ্ছাসে ট্রেণিং কিজিয়ে”। সবার সঙ্গে হ‍্যান্ডশেক করে, কুড়িটাকার নোট সবাইকে ধরিয়ে দিলেন।আমরা রওনা হয়ে গেলাম। আমি সবাইকে উপদেশ দিলাম, পরের দিন রওনা দেব। তোমরা সবাই বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে সকাল ছ’টার মধ‍্যে হাজির হবে। সুতরাং, আমরা সেদিন নিজের নিজের বাড়ি চলে গেলাম।আমার চাকরির খবর শুনে, মা কেঁদে বুক ভাসালেন। বাবা বকলেন। আমি কিন্তু নাছোড়বান্দা—-হম ফৌজী বনেঙ্গে। তারপর রাণা বন গয়ে আর্মিম‍্যান।পরেরদিন সবাই মিলে ভূপালের উদ্দেশ্যের ওনা হয়ে গেলাম।

###################

।। মায়ের ঠাঁই ।।

আক্রাম সেখ

র্তমানে যুগপ্রেক্ষিত অনুযায়ী বয়স প্রায় তিন কুড়ি পার ‘সরলা দেবীর ঠাঁই’ হয়েছে বৃদ্ধাশ্রমে। ওনার ছেলে ‘সুরেশ কুমার’ যার বয়স আজ প্রায় চল্লিশের কাছাকাছি সে আজ একজন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মচারী। এলাকায় বেশ নামডাক ওনার। চেহারাও বেশ গম্ভীর। সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিভিন্ন মানবিক চিন্তাধারার প্রকাশ ঘটান।তাই স্বভাবতই বিভিন্ন ধরনের মানবিক পোস্টগুলোও চটপট শেয়ার করে ফেলেন। নিজ এলাকায় নামডাক থাকার সুবাদে তিনিই স্থানীয় দুর্গাপুজো কমিটির প্রধান উপদেষ্টা। তাই প্রতিবারই বেশ জাঁকজমক ভাবেই পুজোটা করান।কিন্তু এবারের পুজোটা আরও ব্যাপকভাবে করতে হবে। তাছাড়া বাড়ির পুজোটাও বেশ জাঁকজমক ভাবেই করেন।কিন্তু পুজোতে নিজের মাকে অন্য জায়গায় রেখে দুর্গা মায়ের পুজো করবেন? এতে তো লোকে পিঠ পিছে সমালোচনা করবে। তাই তিনি স্থির করলেন মাকে বাড়ি নিয়ে আসবেন। তাই মহালয়ার একদিন পূর্বেই মাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে এলেন। নাতি-নাতনিদের কাছে পেয়ে সরলাদেবীও খুশি হয়ে উঠলেন। শুরু হল দুর্গাপুজো। রীতিমত প্রত্যেকদিনই সুরেশবাবু ভক্তিস্বরে মায়ের প্রনাম নিয়েই মন্দিরে যান। যদি বাড়িতে থাকা মায়ের প্রণাম না নিয়ে মন্ডপে যান তাহলে যদি মা দুর্গা রাগ করেন! কিন্তু সুরেশবাবু তো জ্ঞানী লোক তিনি মাকে অসন্তুষ্ট করতে পারবেন ই না। পুজো চলতে থাকল। পাড়া বেশ জমজমাট। সুরেশবাবুর বন্ধু- সহকর্মীসহ অনেক আত্মীয় উনার বাড়িতে এলেন। সকলে সরলাদেবীর কাছে প্রণামও নিলেন। সুরেশবাবুর মা বলে কথা। বৃদ্ধমায়ের দেখাশোনা নিজেই করেন বলে সুরেশবাবুও পরিজনদের কাছে বাহবাও পেলেন। এই কয়েকটা দিন নাতি- নাতনিদের সাথে বেশ ভালোই কাটছিল সরলাদেবীর। অবশেষে এল বিজয়া দশমী।মন্ডপে সিঁদুর খেলাও চলল জমজমাট। এরপর এলো বিসর্জনের পালা।বিসর্জন পর্ব সেরে এসেই সুরেশবাবু মাকে বললেন, “তোমার জিনিসপত্র গুছিয়ে নাও, কাল সকালে তোমায় রাখতে যেতে হবে আবার।”একথা শুনে সরলাদেবী বললেন,”আর কয়েকটা দিন থাকি বাবু।অনেকদিন পর বাড়ি এসেছি।নাতি- নাতনিদের সাথে আর কয়েকটা দিন কাটায়।” ঠাম্মার যাওয়ার কথা শুনে সুরেশবাবুর আট বছরের ছেলেও বলল,”বাবা বাবা! ঠাম্মা আমাদের সঙ্গেই থাক না।তুমি কেন বারবার অন্য কোথাও রেখে আসো? এসব কথা শুনে সুরেশবাবুর স্ত্রী কেমন যেন ইতঃস্ততবোধ করছিলেন।তা দেখেই সুরেশবাবু বললেন। তুমি থাকলে এরা পড়াশোনা করবে না।তাছাড়া তুমি বেশি বকবক করো। যা তোমার বৌমা সহ্য করতে পারবে না। আর কালই আমাকেও চলে যেতে হবে।তাই তোমাকে আশ্রমে রেখে আমি চলে যাব।এসব কথা শুনে সরলাদেবী মিনতি স্বরে বললেন, ” আর কটা দিন থাকি বাবু!” মায়ের কথা শুনে সুরেশবাবু একটু রেগে গিয়ে জোর গলায় বলে উঠল,” কথা বোঝো না নাকি! আর এজন্যই তো তোমাকে নিয়ে আসতেও ইচ্ছা হয়না। ছেলের উচ্চঃস্বরের কথা শুনে সরলাদেবী নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। আর চোখের কোণ হতে অশ্রু ঝরতে থাকল। সুরেশবাবু সেখান থেকে চলে গেলেন। পরের দিন সকালে গাড়িতে ব্যাগপত্র সব রেডি হয়ে গেছে। সুরেশবাবু গাড়িতে বসে আছেন। সরলাদেবী বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে ফাঁকা প্যান্ডেলের দিকে গেলেন। প্যান্ডেলে যেতেই সরলাদেবীর চোখ অশ্রুতে ভরে উঠল। এমন অবস্থায় সুরেশবাবুর জোর গলায় আওয়াজ এল,” মা ও মা,.. আরে কোথায় যে থেকে যাও! আজ আবার প্যান্ডেলে কি যে করছে! এসব কথা শুনে সরলাদেবী চোখের জল মুছতে মুছতে ফাঁকা মন্ডপের দিকে তাকিয়ে বললেন, “মা.. তুমি আজ চলে না গিয়ে যদি সারাবছর থাকতে তাহলে হয়ত আজ আমার ঠাঁই বৃদ্ধাশ্রম হত না।” এরপর সরলাদেবী চোখের জল সম্পূর্ণ মুছে গাড়িতে গিয়ে বসলেন। গাড়ি চলতে থাকল আর পিছনে পড়ে রইল শুধু ফাঁকা মন্ডপ।

###################

 

।। শুভ বিজয়া ।।

পার্থসারথি গুহ

 

পুজো শেষে এবার বিজয়ার পালা

পাত পেড়ে হরেক মিষ্টান্নের ডানাপালা মেলা

দুর্গাপুজোর রেষ খানিকটা ফিরবে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর রাতে, নারকেল নাড়ু আর খিচুরি ভোগের সঙ্গে, চলতে থাকবে কোলাকুলি আর বড়দের প্রণাম পর্ব, সেই কালীপুজো পর্যন্ত এই আমেজ থাকবে, বলাবাহুল্যই শব্দের বেঁধে দেওয়া ডেসিমেল হার মানবে শ্লগ ওভারে, বাজি পটকার ধুন্ধুমার টেনে নিয়ে যাবে সেই প্রিয় শীতের কক্ষপথে

সোনা রোদ্দুর মেখে সওয়ার হবে বাংলা উৎসবের রথে।

###################

।। ভোর ।।

শ্যামসুন্দর গোস্বামী

 

ভোরের আলো তখনও ফুটতে বাকি

শেষরাতে শুতে যাবার আগে

বিছানার চাদর পরিষ্কার করল

ক্যাসিওপিয়া । রাতের আকাশে সেই বেশিক্ষণ

জেগেছিল গতকাল । শেষরাতে ধুলিঝড়

এ শহরে । আর তুমি বাহিরে এলে ,

তুমি বাইরে আসতেই

তোমার পিছু নিল ভোর ।

ঝড়ে তোমার চুল ঊড়ছিল

ঝড় মুখে নিয়েই

বাবুই পাখির বাসা ঠিক করতে

গেলে তুমি ।

তারপর রাতের আকাশে তুমি আলপনা দিলে

ওমনি ঝড় গেল থেমে

তারারাই তোমাকে জোগাড় করে দিল রঙ ।

বাবুই ছানারা দেখল

ওদেরই মায়ের মতো তুমি,

তোমার আলপনা আঙুলে

 শিল্পের জাদু !

তারপর ঘুম পেল তোমার

ফিরে গেলে ঘরে…

ফের রাত্রি এল

রাতের আকাশে তখন শুধুই শরত আলপনা ।

ঘুমের ভেতর তুমি

বাবুই পাখি হলে

ক্যাসিওপিয়ার আলোয় বাসা বানালে ।

রাতের আকাশ ছেড়ে

তুমি শিউলি হয়ে এলে ,

তখনই ভোর ।

লোকে তোমাকে উমা বলে ডাকল ।

ফুল কুড়িয়ে কেউ পুশপাঞ্জলি

কেউ ঘরের মেয়ে বলে সৌরভ ছড়াল

এভাবেই তারা থেকে শিউলি

দুর্গা থেকে উমা

আমি তোমাকে প্রেমিকা বলেই জানি ।

###################

।। ওজন কমান ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ।।

ঘুমের সময়ে শরীরের মেটাবলিজম রেট সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই সময়টা ওজন কমানোর জন্য ভালো বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক ভাবে ঘুমতে যাওয়ার অভ্যাস শরীরের মেদ কমাতে খুব সাহায্য করে। নির্দিষ্ট একটা বায়োলজিক্যাল ক্লক মেনে চললে শরীরের মেটাবলিজম রেট নিয়ন্ত্রণে থাকে। রাতে অন্তত 7-8 ঘণ্টা টানা ঘুমনো প্রয়োজন।

ঘুমতে যাওয়ার আগে হালকা গরম জলে স্নান করে নিন। মাথা বাদ দিলেও শরীরটুকু ভেজান। পাখা চালিয়েই ঘুমন। ঘুমের মাঝে নিজেকে গরম রাখতে শরীর নিজেই বেশি ক্যালোরি খরচ করে। এতে মেদ কমে সহজে। তবে সর্দি-কাশির অসুখ থাকলে বিষয়টি এড়িয়ে চলুন।

ঘুমের সময় মেদ কমাতে চাইলে ঘুমনোর আগে হালকা কিছু খান। হতে পারে তা প্রোটিন শেক বা এমন কোনও পানীয় যা শরীরকে পুষ্টি দেওয়ার সঙ্গে হালকা রাখে।

ঘুমের আগে অনেকেই ঘর অন্ধকার করেন, কিন্তু জ্বালিয়ে রাখেন নাইট ল্যাম্প। চিকিৎসকের পরামর্শ, নাইট ল্যাম্পও নিভিয়ে দিন। সম্পূর্ণ অন্ধকারে ঘুমোলে শরীরে ক্যালোরি বার্ন বেশি হয়।

মোবাইল, টিভি ও ল্যাপটপের স্ক্রিন থেকে আসা নীল আলো শরীরে মোলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। মেলাটোনিন ক্যালোরি বার্ন করার অন্যতম প্রধান উপাদান। এই মেলাটোনিনের পর্যাপ্ত জোগান না থাকলে মেদ কমবে না। তাই ঘুমনোর আগে মোবাইল-ল্যাপটপ-ভিডিও গেম থেকে দূরে থাকুন।

কেউ কেউ ভারি বা আঁটসাঁট পোশাকে ঘুমাতে যান। মেদ ঝরাতে শরীরকে হালকা রাখুন। চেষ্টা করুন নরম ও হালকা পোশাকে ঘুমাতে।

###################

।। ভর্তার চার পদ ।।

প্রতিদিন আমরা খাবারের সময় নানা স্বাদের তরকারি খেয়ে থাকি। খাবারের আয়োজনে যদি ঝাল বেশি দিয়ে ভর্তা জাতীয় খাবার থাকে তবে রসনাবিলাসটা যেন পরিপূর্ণ হয়। এবারের রেসিপিতে 4 রকমের ভিন্ন স্বাদের ভর্তা রইলো।

টমেটোর ভ র্তা 

উপকরণ : টমেটো 4টি, পেঁয়াজ কুচি 1 টি, জল 2 কাপ, কাঁচা লঙ্কা কুচি 2-3 টি, নুন সামান্য।

প্রণালি : প্রথমে টমেটোগুলিকে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর সেদ্ধ করে নিতে হবে। সেদ্ধ হলে টমেটোগুলির খোসা ছাড়িয়ে নিন। এবার অন্য একটি পাত্রে টমেটো, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ কুচি, লবণ একত্রে মেখে নিলেই তৈরি টমেটোর ভর্তা।

আলু – বরবটির ভ র্তা 

উপকরণ : আলু আধ কেজি,  বরবটি 250 গ্রাম, শুকনো লঙ্কা 3-4 টি, সয়াবিন তেল সামান্য, পেঁয়াজ কুচি 2 টি,  লবণ পরিমাণমতো, জল 3-4 কাপ।

প্রণালি : প্রথমে আলুগুলিকে ভালো করে ধুয়ে সিদ্ধ করে নিন। এরপর শুকনা লঙ্কা, বরবটি, সামান্য জল,  নুন ও তেল দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। এবার পেঁয়াজ কুচি, শুকনা লঙ্কা, নুন, খোসা ছাড়ানো আলু, বরবটিসহ একটি পাত্রে ভালো করে মেখে ভর্তা তৈরি করুন।

শিমের ভর্তা 

উপকরণ : শিম আধ কেজি,  লবণ আধা চা চামচ,  শুকনো মরিচ 2-3 টি, সরিষার তেল আধা চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি 1 টি, পানি পরিমাণমতো,  তেল সামান্য।

প্রণালি : প্রথমে শিম ধুয়ে দুই পাশ থেকে কেটে পরিমাণমতো জস দিয়ে সেদ্ধ করে নিন। এবার ভেজে নিন শুকনো লহ্কা। এবার একটি পাত্রে সিদ্ধ শিম, ভাজা মরিচ, পেঁয়াজ কুচি, লবণ, সরিষার তেল ভালোভাবে মেখে ভর্তা বানিয়ে নিন।

বেগুন ভর্তা

উপকরণ :বেগুন 2 টি, সয়াবিন তেল সামান্য, কাঁচা লঙ্কা কুচি 3-4 টি, নুন প্রয়োজনমতো, পেঁয়াজ কুচি 1 টি।

প্রণালি : প্রথমে বেগুনগুলি ভালো করে ধুয়ে,  তেল মেখে চিড়ে নিন। এবার বেগুনগুলোকে পুড়িয়ে নিন। বেগুন পোড়ানো হলে খোসাটা ছাড়িয়ে নেবেন। এবার অন্য পাত্রে কাঁচা মরিচ কুচি, পেয়াজ কুচি, বেগুন, লবণ একত্রে ভালো করে মেখে পরিবেশন করুন মজাদার বেগুন ভর্তা।

###################