অসমে ফের বাঙালি নিধনযজ্ঞ, তালিবানি কায়দায় 6 বাঙালি গুলিতে ঝাঁঝরা

এসবিবি, গুয়াহাটি : আবার অসম। আবার আক্রান্ত বাঙালি।গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হল পাঁচ বাঙালির দেহ। বৃহস্পতিবার অসমের তিনসুকিয়ায় ‘ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ অসম-ইনডিপেন্ডডেন্ট’ (ULFA-I) নামে জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে 5জন নিহত হয়েছেন। যেভাবে তালিবানিরা গণহত্যা চালায়, ঠিক সেভাবে পিছমোড়া করে বেঁধে 6 জনকে ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে নারকীয় এই ঘটনাটি ঘটেছে তিনসুকিয়া জেলার সাদিয়ায়।

বর্বরোচিত এই গণহত্যার নিন্দা করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। কেন্দ্রীয় স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংও তাঁকে ফোন করে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এই হত্যালীলার নিন্দা করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ঘটনার প্রতিবাদে আজ, শুক্রবার উত্তরবঙ্গ ও কলকাতায় প্রতিবাদ মিছিল করবে তৃণমূল কংগ্রেস।

জানা গিয়েছে, স্থানীয় ছয় তরুণ এলাকার একটি দোকানে বসেছিলেন। সেখানেই হানা দেয় ULFA-I’-এর সশস্ত্র বন্দুকবাজরা। প্রত্যেকেরই মুখ ঢাকা ছিল। 6 জনকে তারা ব্রহ্মপুত্রের ধারে তুলে নিয়ে গিয়ে, সারি দিয়ে বসায়। এরপর চোখের পলকে ওই আলফা জঙ্গিরা গুলিতে ঝাঁঝরা করে 6 জনকে। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই 5 জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি একজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। নিহতরা হলেন, অবিনাশ বিশ্বাস, অনন্ত বিশ্বাস, শ্যামল বিশ্বাস, সুবল দাস ও ধনঞ্জয় নমশূদ্র। নিহত প্রত্যেকেই বাঙালি। এনআরসি নিয়ে বিরোধের জেরেই অসমের এই গণহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনার পর চরম উত্তেজনা থাকায় ঘটনাস্থলে রয়েছে সেনা ও পুলিশের যৌথ বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের নির্দেশ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী কেশব মহান্ত ও তপন গগৈ। আছেন পুলিশ কর্তারাও। উত্তেজনা এলাকায়। চরম ক্ষুব্ধ বাঙালিরা। প্রাশাসন সামাল দিতে নাকাল।