হিন্দি বলয়ে ফল খারাপ হলে মোদির বদলে অন্য মুখ? জল্পনা তীব্র

এসবিবি:   11 ডিসেম্বর পাঁচ রাজ্যের ফল ঘোষণা। এর মধ্যে তেলেঙ্গানা বা মিজোরাম নিয়ে বিজেপির তেমন মাথাব্যথা নেই।কিন্তু হিন্দি বলয়ের প্রধান তিন রাজ্য মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও রাজস্থান বিজেপির জন্য গভীর দুঃসংবাদ বয়ে আনতে পারে বলে প্রায় সবকটি বুথফেরত সমীক্ষার ইঙ্গিত।এর ধাক্কায় নরেন্দ্র মোদির বিকল্প মুখকে সামনে এনে লোকসভা ভোট উৎরানোর অঙ্কও বিজেপির অন্দরে ক্রমশ দানা বাঁধছে।

যদি দেখা যায় মধ্যপ্রদেশ,রাজস্থান আর ছত্তিশগড় তিন রাজ্যেই ভরাডুবি হল বিজেপির,সেক্ষেত্রে মুখ পরিবর্তনের দাবি জোরালো হবেই। এই মুহূর্তে মোদিই যেহেতু কংগ্রেস সহ অবিজেপি দলগুলির সার্বিক আক্রমণের লক্ষ্য এবং মোদিকে কেন্দ্র করেই মানুষের মধ্যে বিজেপি-বিরোধী ক্ষোভ উসকে দেওয়ার লাগাতার প্রচার চলছে, তাই মোদির পরিবর্তে অন্য মুখ এনে ক্ষোভের তীব্রতা এক ধাক্কায় প্রশমিত করা সম্ভব বলে মনে করে আরএসএস ও বিজেপির মধ্যে আদবানি-ঘনিষ্ঠ একটা অংশ। এদের মতে, হঠাৎ করে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু সরে গেলে নতুন ইস্যু খুঁজতে বিরোধী জোটের সময় লাগবে এবং এখনকার আক্রমণের ঝাঁঝও কমবে।একইসঙ্গে বিজেপি বিরোধী তথাকথিত মহাজোটের অনেক অঙ্ক গোলমাল হয়ে যেতে বাধ্য।এই সুযোগে বরং সংগঠন গোছানো ও ক্ষতি মেরামতির কাজটা কিছুটা নিশ্চিন্তে সারতে পারবে বিজেপি।নতুন মুখকে সামনে রেখে বিজেপি-বিরোধী জোটকে কৌশলে ছত্রভঙ্গ করার সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান জোট শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমন্বয় উন্নত করা যাবে বলে মত এই অংশের।এই যুক্তিকে সামনে রেখে দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজনাথ সিং ও নীতীন গডকড়ির মধ্যে কোনও একজনকে মোদির পরিবর্তে গ্রহণযোগ্য বিকল্প মুখ হিসাবে তুলে ধরে লোকসভা ভোটে যাওয়া যায় কিনা তা নিয়ে গোপনে কথাবার্তা চালাচ্ছে আরএসএস ও বিজেপির মোদি- বিরোধী শিবির।প্রকাশ্যে যদিও এই বিকল্পের কথা কেউই মানতে চাইছেন না বা স্বীকার করছেন না।

বস্তুত রাজনাথ ও নীতীন দুজনেই মোদি-বিরোধী হিসাবেই পরিচিত।দুজনেই আগে বিজেপি সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন।দুজনের সঙ্গেই আরএসএসের সম্পর্ক মোদির চেয়ে অনেক মসৃণ।এমনকী বিরোধী দলের নেতারাও প্রায়ই এই দুই বিজেপি মন্ত্রীর প্রশংসা করে থাকেন।অনেক বিরোধী নেতা-নেত্রী তো প্রকাশ্যে এই দুজনের সঙ্গে ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কথা বলে থাকেন।মোদি-বিরোধী শিবিরের অঙ্ক হল, উত্তরপ্রদেশের রাজনাথকে সামনে এনে যেমন হিন্দি বলয়ে বার্তা দেওয়া যাবে, তেমনি মহারাষ্ট্রের নীতীনকে সামনে রাখলে শিবসেনার মত পুরনো শরিককে সহজে বাগ মানানো যাবে।

আপাতত সবটাই নির্ভর করছে 11ডিসেম্বরের ফলের উপর।যদি এবারও বিজেপি অন্তত দুটি রাজ্যে উতরে যায় তাহলে মোদির নামে জয়ধ্বনি করা ছাড়া বিজেপির মোদি-বিরোধী শিবিরের সামনে পথ নেই।রাজস্থানকে বিজেপিও হিসাবে রাখেনি,কিন্তু হিন্দি বলয়ের বাকি দুই রাজ্যে টানা তিনবারের প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা উড়িয়ে বিজেপি জয়ের মুখ দেখলে মোদি-শাহের প্রভাব আরও বাড়বে।যদিও বিজেপির ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের মত,দল ঐক্যবদ্ধ।নেতৃত্বের প্রশ্নে কোনও বিভাজন নেই।সর্বোপরি বিজেপিতে নরেন্দ্র মোদির সমকক্ষ ভোট-ক্যাচার যেমন নেই,তেমনই অমিত শাহর সাংগঠনিক দক্ষতাও প্রশ্নাতীত।