রবিবারের বাবুইবাসা : 09.12.18

।। গান নিয়ে গঞ্জনা ।।

পার্থসারথি গুহ

দি বালিগঞ্জ ব্যায়াম সমিতি ক্লাব প্রাঙ্গণের মাঠে তখন থিকথিক করছে ভিড়। কিছুক্ষণ আগেই শুরু হয়েছে ক্লাবের বাৎসরিক অনুষ্ঠান। ঘটা করে শেষ হয়েছে উদ্বোধন পর্বও । সবাইকে সম্ভাষণ জানিয়ে সবেমাত্র মাইক্রোফোন হাতে সঙ্গীত পরিবেশন করতে যাবেন পাড়ার এক এবং অদ্বিতীয়ম প্রভাত পাকড়াশি। সেসময় আকস্মিক ভাবেই নেমে এল এক বিপর্যয়। ইলেকট্রিক পরিষেবা বিগড়ে যাওয়ায় মাইক্রোফোন নাকি কাজ করবে না। জ্বলবে না আলোও। কেলো করেছে। এখন প্রভাতবাবু গাইবেনটা কিভাবে? যদিও হাল ছাড়ার পাত্র তিনি নন। জীবনে প্রথম মঞ্চে ওঠার অপ্রত্যাশিত সুযোগ এসেছে, তা কি ছাড়া যায় নাকি?  অন্ধকারাচ্ছন্ন মঞ্চ হোক আর আলোকজ্জ্বল স্টেজ। এসব এখন প্রভাতবাবুর কাছে মোটেই কোনও ইস্যু নয়। এসব সাতপাঁচ ভাবার মাঝেই প্রভাতবাবুর সামনে কে যেন একটা মোমবাতি মেলে ধরল। মোমের প্রজ্জ্বলিত শিখায় প্রভাতবাবুর সামনে তখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে গানের খাতাটা। ব্যাস, খালি গলায় গানও ধরে ফেললেন তিনি। বিভোর হয়ে তার জন্য বরাদ্দ গোটা তিনেক গানও গেয়ে ফেললেন। কিন্তু, এত গাইছেন সামান্য একটু হাততালিও নেই। ব্যাপারটা কি, দেখতে হচ্ছে। তার চেয়েও অদ্ভূত, প্রভাতবাবুর গান শেষ হল, আর কারেন্টও চলে এল। জ্বলে উঠল আলো। আরও যেটা বিস্ময়ের তা হল, এতক্ষণ মোমের আলোয় সামনেটা আবছা লাগলেও, কারেন্ট এসে যাওয়ার পর তিনি দেখলেন সামনের দর্শকাসন খাঁ খাঁ করছে।

অর্থাৎ তাঁর এই “অপূর্ব ” গানগুলো শোনার জন্য কোনও শ্রোতাই ছিল না। বিরস বদনে যখন প্রভাতবাবু এত কিছু ভাবছেন, ঠিক তখনই স্টেজের পিছনে অভিজিতদের উল্লাস দেখে মনে হচ্ছিল ওরা যেন বিশ্বজয় করেছে। আসলে চিরশত্রুকে এভাবে ঢিট দিতে পেরে ওরা তখন বেজায় খুশি। আর গত কয়েকদিন ধরে এই পুরো চিত্রনাট্যটাও সাজানো হয়েছিল শুধুমাত্র সবজান্তা প্রভাত পাকড়াশিকে জব্দ করতে। সেই মিশন সফল হওয়ায় পাড়ার এই দামাল ব্রিগেড আনন্দে ডগমগ করছে। প্রভাত পাকড়াশির এই ল্যাজেগোবরে হওয়ার নেপথ্য কাহিনি জানতে হলে অবশ্য ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে যেতে হবে মাত্র কটাদিন আগে।

পাড়ায় সকাল থেকেই কেমন একটা হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। সবার মুখেই কেমন একটা চাঞ্চল্য লক্ষ্য করছে অভিজিত। কি ব্যাপার, রাতারাতি এমন কি ঘটল যে সবার আচরণ এতটাই পালটে গেল। সদা হাস্যময় ঋজু, সেও কিরকম অদ্ভূত ব্যবহার করছে। আবার কথায় কথায় যার মুখে খই ফোটে সেই রাজীবও আজ একদম চুপ মেরে । এমনকি ক্লাবের ইয়ং ব্রিগেড বলে পরিচিত যারা তারাও স্বভাবসিদ্ধ হইচই ছেড়ে মৌনব্রত অবলম্বন করেছে। না, এ ভাবে তো পারা যায় না। দেখতেই হচ্ছে কি ঘটেছে, যার জন্য পুরো পাড়া এমন আজব মুডে চলে গিয়েছে। সর্বক্ষণের সঙ্গী মোবাইল ফোন হঠাৎ করে হ্যাং হয়ে গেলে যে অবস্থা হয় কার্যত সেই অবস্থাই এখন অভিজিতের। ক্রিকেট ক্যাপ্টেন বেশ কিছুক্ষণ যেভাবে পিচ জরিপ করে থাকে সেভাবেই পাড়ার আবহাওয়া মাপার জন্য এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে একটা টহল দিল অভিজিত। না, কেউ তো সেভাবে ঝেড়ে কাশছে না। এতশত ভাবতে ভাবতে অভি চলে এল পাড়ার কফি হাউজ বলে পরিচিত মানিকদার চায়ের দোকানে।

বলাবাহুল্য, সকালের প্রথম লটের ভিড় সামলে তখন সে নিজের টিফিন সেরে নিতে ব্যস্ত। দোকান ফাঁকা দেখে অভিজিত সটান চলে এল একেবারে মানিকদার কাছে। অভি জানত আসল খবরটা মিলবে এখানেই। ঘুগনি-পাউরুটি শেষ করে তখন মানিক চায়ে চুমুক দিতে ব্যস্ত। অভিজিত থাকতে না পেরে জিজ্ঞেস করেই বসল, মানিকদা কি ব্যাপার বলো তো? পুরো পাড়াটা কেমন যেন থ মেরে আছে। সবার মুখ চোখ বলে দিচ্ছে এখানে কিছু একটা ঘটেছে। কিন্তু, সবাই মুখে কেমন যেন কুলুপ মেরে আছে। তুমি নিশ্চয়ই সব জানো, প্লিজ বলো না কি হয়েছে।

‌আসলে মানিকদা জানবে না আর পাড়ায় একটা গাছের পাতাও নড়বে এমনটা হওয়ার নয় কিছুতেই। তা সেই পাড়ার খবরের খনির মুখে এরপর অভিজিত যেটা শুনলো তাতে অবাক হওয়ারই কথা। এই সামান্য জিনিসটার জন্য সিনিয়র থেকে জুনিয়র, বলতে গেলে গোটা পাড়াই এমন পালটি মেরে দিয়েছে। গতকাল রাতে হঠাৎ করেই নাকি ক্লাবের হোতা তপনদা এসে বলেছেন, এবার ক্লাবের যে বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠান হবে তাতে প্রভাত পাকড়াশি নাকি গান গাইবেন। আর এই কথাতে বেজায় চটেছে পুরো ক্লাব থেকে শুরু করে আশেপাশের লোকজন।

আসলে এই প্রভাত পাকড়াশি হলেন যাকে বলে একেবারে মার্কা মারা পাবলিক। অসম্ভব পরশ্রীকাতর। কারও ঘরে কেউ ভালো রেজাল্ট করেছে, ভালো চাকরি পেয়েছে বা দেশ-বিদেশ ঘুরতে গিয়েছে শুনলেই মুখটা গোমড়া হয়ে যায় প্রভাতবাবুর। কিন্তু, কারও বাড়ি কেউ মারা গিয়েছে, কেউ অসুস্থ, কারও চাকরি চলে গিয়েছে এই খবর পেলেই কেমন যেন চনমনে হয়ে ওঠেন তিনি। সবথেকে বড় কথা রাতদিন মানুষের সমালোচনা ছাড়া যিনি থাকতে পারেন না, তিনিই আবার বিনা নিমন্ত্রণে এর তার বাড়ি গিয়ে খেয়ে আসেন। আবার নিমন্ত্রণ করলেও গিফট দেওয়ার বালাই থাকে না তাঁর। এহেন একটা মানুষকে যে পাড়ায় কেউ পছন্দ করবে না, তা খুব স্বাভাবিক।

‌ তা বলে এমনটা নয় যে তাকে একেবারে ফেলে দেওয়া যায়। কারণ, মাঝেমধ্যে অফটাইমে ওর গুলতানি শুনতে মন্দ লাগে না। যে বিষয় নিয়ে আলোচনা হোন না কেন, পাকড়াশিবাবু আগবাড়িয়ে তাতে শামিল হন। আর কপচাতে থাকেন, আরে দাঁড়ান, দাঁড়ান, আপনারা কিচ্ছু জানেন না।  আমার থেকে শুনুন বৃত্তান্ত। হলদিয়া থেকে হনুলুলু সব জায়গা সম্পর্কেই ওনার যেন অগাধ পাণ্ডিত্য। খুব স্বাভাবিকভাবেই ওর এই হামবড়ামির জন্য পাড়ায় একঘরে হতে হয়েছে প্রভাতবাবুকে। তার ওপর পাড়ার ইয়ং ব্রিগেড তো ওকে দুচক্ষে দেখতে পারে না। এরকম একজন ব্রাত্য ব্যক্তিকে  ক্লাবের প্রোগ্রামে গাইতে দেখা যাবে এটা শোনার পর থেকে গোটা পাড়া একেবারে ক্ষেপে লাল। মানিকদার থেকে পাড়ার এই ‘চটকে চ’  হওয়ার কথা শুনে নিজের মধ্যেই কেমন যেন একটা রাগের উদ্রেক হতে লাগল অভিজিতের। যে লোকটা সারা বছর সবার নিন্দা করে বেড়ায়, সে কি না গাইবে ক্লাবের মাঠে। এটা কখনও হতে পারে না কি? তাই তপনদার এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত ঘেঁটে দিতে মনে মনে প্যাঁচপয়জার চালানোর ফাঁকে মানিকদার দোকান থেকে পিঠটান দিল অভি।

****************************

।। মা ও ঈশ্বর ।।

জয়তী রায়

ঠাকুর! আমার ছেলেটাকে ভালো রেখো, ঠাকুর। আজ ওর অফিসে একটা পরীক্ষা আছে। ওকে দেখো তুমি।  আজ সারাদিন জল খাবো না ।  বাড়ি ফিরে সুখবর দিলে তবে তোমার সামনে রাখা বাতাসা জল খাবো। মনে থাকে যেন? বুঝলে কিছু? শুনলে কিছু? “

—-” আর পারিনা বাপু। মানুষের মত আমার তো মৃত্যুতে নিষ্কৃতি নেই!”

ফুলে ভরা ছোট্ট সিংহাসন দুলে উঠে কষ্টে সৃষ্টে কে যেন হামাগুড়ি দিয়ে বার হবার চেষ্টা করছে দেখে আঁতকে উঠে রমলা বললো,

‘ কে কি ওখানে?  সিংহাসনে ফুলের মধ্যে?”

—” ধুত্তেরি নিকুচি করেছে তোমার ফুল! এত ফুল দিয়ে ঢেকে আমার শ্বাস বন্ধ হচ্ছে খবর রাখো তার? এক দুটো ফুল দিলে কি কম ভক্তি দেখানো হয়? ফুল বাঁচে, গাছ বাঁচে, পয়সা বাঁচে। নাও, সরাও দিকিনি বেলপাতা গুলো, বেরুই এট্টু।’

—” এই সরালাম। তুমি কে? ঠাকুর নাকি? আমার গোপাল?”

–”ঠাকুর তো বটি। কিন্তু গোপাল রূপে আসিনি বাপু। বুড়ো আঙলা রূপে এসেছি। রাগ হয়েছে কি না। তাই।’

–” সারাদিন এত ডাকি, এত উপোষ করি, জল খাইনা পযন্ত মাঝে মাঝে, তবে এত রাগ কেন শুনি?

–দাঁড়াও প্রকট হই আগে।’ বলে ফুল টুল ঠেলে বুড়ো আঙলা রূপে ঠাকুর আবির্ভুত হলেন। রূপ দেখে তেমন প্রসন্ন না হলেও , রমলা তাড়াতাড়ি এক প্রণাম ঠুকে বললো,

‘ তা এলেই যদি, তবে ছবির মত অমন সুন্দর রূপে এলেনা কেন গো?”

—” তবে তো শাহরুখের রূপ ধরলে বেশি ভালো হত না কি?  দীপিকা পাড়ুকোন হলেও মন্দ হত না কি বলো?’

–” না না ছি ছি। যা রূপ ধরেছ তাই ভালো। তা কি মনে করে এলে ঠাকুর? একটু বলবে খোলসা করে। ‘

–”আগে ওই জল বাতাসা সরাও। রোজ ওই এক খাবার, তার সঙ্গে ফুলের বিদঘুটে গন্ধ। সরাও সব।’

–” আচ্ছা আচ্ছা। সরিয়ে দিলাম সব। জল বাতাসা র বদলে কি দেব? মোহন ভোগ?’

–”রাশি রাশি ঘি আমারই কপালে? কেন নিজেরা যা খাও, তাই এট্টু করে দেবে। ‘

—’ ওমা । তাই কখনো হয়? ছোঁয়া, পেঁয়াজ রসুন, মাছ ওসব তোমাকে দিতে পারি কখনও?

—”ওগুলো বুঝি ঠাকুর ছাড়া? ওগুলো ঢুকছে যেখানে, সেই শরীরে বুঝি আমি নেই? নিরামিষে আছি, আর আমিষ ঠাকুর ছাড়া? তোদের এই বেকুফি সহ্য করতে করতে হাঁফিয়ে উঠছি।”

–’ঠাকুর। এসেই যখন পড়েছ, আমার কথা এট্টু শুনে তাপ্পর না হয় বকা বকি করো।’ স ভয়ে রমলা বলে।

—”তোমার কথা? তোমার কথা কে শুনবে? আমার কথা শুনতে হবে আজ!’

–”ঠাকুর। আজ আমার ছেলের অফিসে,,”

—’থামো। ‘ গর্জে উঠলেন ঠাকুর — তোমরা এই মায়ের জাত সবচেয়ে জ্বালাও আমাকে। সারাদিন চোখের জল, উপোষ, ধর্ণা– ছেলে মেয়ের জন্য। তোমাদের কি নিজের জন্য কিছু চাইতে ইচ্ছে করে না?’

—’ নিজের জন্য আর কি চাইবো? এখন ওরা সুখী হলেই মায়েদের প্রাণ ঠান্ডা হয়। কবে যে একটু সামলে বসবে!”  কাতর গলায় বলে রমলা।

–” তোমাদের কাছে বাচ্চারা জীবনেও বড় হবে না। উপোষ করে করে পেটে ব্যথা বাঁধিয়েছ, চিন্তায় প্রেসার হাই, ঘুম কমে গেছে, চুল উঠে গেছে–নিজেকে আয়নায় দেখো একটু?”

—”ঠাকুর। এসব কথা থাক। আমার কথা শোনো। আজ ছেলেটার মহা বিপদ হবে যদি কাজ ঠিক করে না হয়।’

—” বাইশ বছর বয়স মোটে। আজ না হলে কাল হবে। ছেলের কথা নয়, তোমার কথা বলো।’

—” আমার কথা? সে আবার কি? সে তো ভাবি নি কখনো?”

—’ আজ তো পাবদার ঝাল বরের পছন্দের, চিকেন কষা ছেলের পছন্দের, আমার জন্য যদিও জল বাতাসা, তা তোমার পছন্দের কাঁকড়া বানাতে পারতে?”

–’কাঁকড়া?’ খুব অবাক স্বরে রমলা বলে–” সে তো সে ই ছোট বেলায় , ওমা! সত্যি তো! ভুলেই গেসলুম একেবারে। “

বালিকার মত হেসে ওঠে সে —

“  রামদিন চাচা কাঁকড়া আনত। কি ভালো লাগত খেতে।’

—” আর সেই লাল করমচা? দুপুরবেলা জিভ দিয়ে টাগরায় আওয়াজ তুলে কদবেল মাখা?’

—’ উরে বাবা। উফফ। সে স্বাদ তো জীবনেও ভুলবো না।’

—’ একবার বাবা মা র সঙ্গে দীঘা গিয়ে কত ঝিনুক কুড়িয়েছিলে? মনে পড়ে?’

—”মনে পড়ছে, মনে পড়ছে। আরো কত কি মনে পড়ছে। জানো ঠাকুর, পুতুলের বিয়েতে ছোট্ট ছোট্ট লুচি বানাতুম। মা কত কি বানিয়ে দিত। খুব মজা হত।”

—” আর সে ই যে সে ? তাকে ভুলে গেলে? যে তোমার চোখে বনলতা সেন খুঁজে পেত?’

—সেদিন কি বৃষ্টি! কি বৃষ্টি!  কত কবিতা পড়লাম দুজনে। গান গাইলো সে। খুব আনন্দ করলাম। চা খেলাম।”

—” একটু চা করেও তো দিতে পারো আমাকে? শীত পড়েছে জব্বর। রোজ তো আদা দিয়ে চা করো দেখি!”

—” ঠাকুর যে এমন সব খায় কে জানে বাপু?”

–” জানো সব। নকুল দানা আর বাতাসা দিয়ে ফাঁকি মারো। যাক গে,শোনো, উপোষ করে, চোখের জল ফেলে আর কিছু বলবে না। মা হলো নিজেই জ্যান্ত ঈশ্বর। তাকে আমরা ভয় খাই, বুঝলে? কেননা, তার প্রার্থনায় ভেজাল নেই, স্বার্থ নেই  –কাজেই এমনি ই শুনবো সে সব। দয়া করে আমাকে ভয় দেখিও না।”

—” ওমা! ছি ছি। অপরাধী করো না গো।  তবে ওই সব নিরামিষ , ওই সব উপোষ তুমি চাওনা?”

—” মাথা খারাপ না কি যে ওসব চাইবো? সব কিছুতেই আমি আছি। নিয়মে বে নিয়ম, শুদ্ধ অ শুদ্ধ ,ব্রাহ্মণ ,চন্ডাল — তবে বেকার নিজের শরীরকে কষ্ট দিওনা বাপু। চললুম। বই টই পড়ো দেখি। যাও নিজের কাজ করো। ভালো থেকো।

আর হ্যাঁ, নিজের জন্য সারাদিনে একটু সময় রেখো | যে সময়টা হবে তোমার, একান্তই তোমার | জীবনের সুন্দর মূহুর্ত্ত গুলো চিন্তা করো, শরীর ও মন বেঁচে থাকার রসদ পাবে |

****************************

।। ইস্তিরি ছাড়াই টানটান জামাকাপড় পড়ুন ।

বসময় জামাকাপড় ইস্ত্রি করার সময় থাকে না। আবার কুঁচকানো, ভাজ পড়া জামাকাপড় পড়েও বাইরে বেরনো যায় না। তাই আপনাদের জন্য রইল এমন কিছু উপায় যাতে ইস্ত্রি ছাড়াই জামাকাপড় থাকবে টানটান।

 

  • তিন ভাগ গরম জলে একভাগ ভিনিগার মিশিয়ে নিন। তারপর তা একটি স্প্রে করার বোতলে ঢেলে নিন। এবার আপনার কুঁচকানো পোশাকের ওপর ভালো করে স্প্রে করুন। অনেকের মনে হতে পারে, পোশাকে ভিনিগারের গন্ধ থাকতে পারে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে এমনটা ঘটবে না। আর ইস্ত্রি ছাড়া জামাকাপড় পড়েই আপনি বাইরে বেরতে পারবেন।
  • প্রত্যেকের বাড়িতেই প্রায় ড্রায়ার মেশিন রয়েছে। বেরনোর সময় জামার ওপরে জলের ছিঁটে দিন। এবার জামার ভেতরে ড্রায়ারটা চালু করে ঢুকিয়ে দিন। দেখবেন আপনার পোশাকের কোথাও আর ভাঁজের দাগ নেই। এছড়াও আরেকটা পদ্ধতি রয়েছে। কয়েক টুকরো বরফ জামার ভেতরে ঢুকিয়ে দিন। তারপর ড্রায়ারটি চালিয়ে রাখুন 5 মিনিট।
  • চেষ্টা করবেন পোশাকগুলিকে হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখতে। এই অবস্থায় জলের ছিঁটে দিন। তারপর ড্রায়ারটা কাপড়ের ওপরে ধরে রাখুন।
  • গরম জলের বাষ্পতেও কুঁচকান কাপড় টানটান হয়ে যায়। তাই এবার থেকে চিন্তা না করে উপরের পদ্ধতিগুলি মেনে চলুন।

****************************

সন্ধের ক্রিস্পি স্ন্যাকস এ থাকুক চিকেন নাগেট

শীতের সন্ধেটা জমে যায় যদি গরম চায়ের সঙ্গে পাওয়া যায় মনের মত স্ন্যাকস।  এরকমই একটি রেসিপি হল চিকেন নাগেট।

উপকরণ : মুরগির ব্রেস্ট পিস 500 গ্রাম, আদা বাটা 1 টেবিল চামচ, রসুন বাটা 1 চা-চামচ, গোলমরিচ গুঁড়ো 1 চা-চামচ, বিট লবণ 1 চিমটি, লবণ পরিমাণমতো, ধনে পাতা, কাঁচামরিচ এবং পুদিনা পাতা বাটা 2 টেবিল চামচ, ডিম 1 টি, বিস্কুটের গুঁড়ো 1 কাপ, মাখন 2 টেবিল চামচ, তেল পরিমাণমতো।

প্রণালী : প্রথমে মাংসের টুকরোগুলিকে ধুয়ে পরিষ্কার করে আদা বাটা, রসুন বাটা, অল্প জল এবং নুন দিয়ে অল্প সেদ্ধ করে নিন। এরপর ব্লেন্ডারে সেদ্ধ মাংস, বিট লবণ, গোলমরিচ গুঁড়ো, ধনে পাতা, পুদিনা পাতা এবং লঙ্কা বাটা দিয়ে হালকা ব্লেন্ড করে নিন। এখন ব্লেন্ড করা মিশ্রণে মাখন মিশিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন আধ ঘণ্টা। ফ্রিজ থেকে বের করে ইচ্ছে অনুযায়ী বিভিন্ন শেপ করে ফেটানো ডিমে ডুবিয়ে বিস্কুটের গুঁড়োয় মাখিয়ে নিয়ে আবার ফ্রিজে রাখুন। পরিবেশনের আগে ডুবো তেলে ভেজে নিন।

****************************