পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ত্রিপুরা সরকারের

এসবিবি, আগরতলা: আদালতের রায়ে বিজেপির রথযাত্রা স্থগিত হয়ে গিয়েছে। বাতিল হয়েছে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শা থেকে ভিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের রথযাত্রায় যোগদান কর্মসূচিও। কিন্তু বিতর্ক থামছে না। ত্রিপুরা সরকার রথযাত্রা উপলক্ষে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবিত কোচবিহার সফরে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলল। ত্রিপুরার মুখ্যসচিব এল কে গুপ্তা রবিবার চিঠি দিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব মলয় দের কাছে উষ্মা প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লবকুমার দেব শেষ পর্যন্ত কোচবিহার সফর বাতিল করেছেন। কিন্তু তাঁর এই প্রস্তাবিত সফর উপলক্ষে নিরাপত্তার নিয়ম মেনে আগরতলা থেকে ডিএসপি (সিকিউরিটি) আগের দিন কোচবিহার পৌঁছলেও, তাঁর সঙ্গে কোনও সহযোগিতা করেনি জেলা পুলিশ প্রশাসন।

আরও পড়ুন- এমপিদের নিয়ে মমতার কাছে চন্দ্রবাবু

চিঠিতে ভবিষ্যতে যাতে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না-হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আর্জি জানিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যসচিব। জেলা প্রশাসনের অসহযোগিতা নিয়ে তদন্ত করে আধিকারিকদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণেরও অনুরোধ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে। এই চিঠি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। মুখ্যসচিব মলয় দে’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে ত্রিপুরার মুখ্যসচিবের চিঠির প্রতিলিপি তাঁর কাছে পাঠানো হলেও কোনও জবাব মেলনি।

আরও পড়ুন – পাঞ্জাবে গিয়ে কী করলেন প্রসূন?

দলের রথযাত্রা উপলক্ষে গত শুক্রবার ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর কোচবিহার আসার কথা ছিল। তিনি জেড প্লাস নিরাপত্তা পান। ত্রিপুরার মুখ্যসচিব চিঠিতে জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর কোচবিহার সফরের কথা 4 ডিসেম্বর প্রশাসন তরফে নিয়মমাফিক সেখানকার পুলিশ সুপার ও পশ্চিমবঙ্গের ডিরেক্টর সিকিউরিটিকে জানানো হয়। অ্যাডভান্স সিকিউরিটি লিয়াজঁ করার জন্য ডিএসপিকে (সিকিউরিটি) পাঠানো হয়। আগাম খবর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সফর শুরুর আগের দিন তিনি কোচবিহার স্টেশনে পৌঁছলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ তাঁকে নিতে আসেননি। থাকার ব্যবস্থাও করা হয়নি। সারা রাত স্টেশনে কাটিয়ে ওই অফিসার প্রাইভেট গাড়ি ভাড়া করে জেলা পুলিশ সুপারের অফিস থেকে পুলিশ লাইন দৌড়াদৌড়ি করে বেড়ান।

আরও পড়ুন- সুপ্রিম কোর্টে নৈশ-সফর মোদির, জল্পনা একাধিক সর্বস্তরে

পুলিশ সুপারের দেখা মেলেনি। বেলায় একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ত্রিপুরা সরকারের নিরাপত্তা অফিসার জানার পরেও কোচবিহার পুলিশ প্রশাসন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিকল্পনার কথা জানাতে রাজি হননি। বলা হয় বিষয়টি এখন আদালতের বিচারাধীন। তাই আদালতের অনুমতি না-পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।