মাত্র এক বছরেই থামিয়ে দিলেন আত্মম্ভরী রথের চাকা, কণাদ দাশগুপ্তর কলম

কণাদ দাশগুপ্ত

কণাদ দাশগুপ্ত

সেমিফাইনাল শেষ। লড়াই এখনও জারি আছে।

একদিন যারা তাঁর বাবা রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘বোফর্সের ঘুষ’ খাওয়ার অভিযোগ এনেছিলো, সম্ভবত এক এক করে তাদের কফিনবন্দি করার শপথ নিয়েই দলের সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব নিয়েছিলেন পুত্র রাহুল গান্ধী, আজ থেকে ঠিক এক বছর আগে, 2017 সালের 11 ডিসেম্বর। এবং মাত্র এক বছরেই থামিয়ে দিলেন আত্মম্ভর রথের চাকা।

11 ডিসেম্বর। এক বছর আগে এই দিনেই কংগ্রেসের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন রাহুল গান্ধী।
ঠিক এক বছর পর ওই একই তারিখ, 11 ডিসেম্বরে, সিংহের ডেরায় ঢুকে অক্লেশে সিংহ-শিকার করলেন  রাহুল গান্ধী।

কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর, টানা এক বছর সমানে দলের কাজে ঘুরেছেন গোটা দেশ। দায়িত্ব গ্রহনের পর একাধিক নির্বাচন – উপ নির্বাচন তিনি ফেস করেছেন।

কর্নাটক নির্বাচন- পরবর্তী পরিস্থিতিতে JDS-কে সমর্থন করে তিনি প্রমান করেছেন, জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে তিনি দীর্ঘদিন থাকতে এসেছেন। প্রায় পাঁচ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা কংগ্রেস কর্মীদের তলানিতে ঠেকে যাওয়া মনোবল ফিরিয়ে আনতে চেষ্টার কসুর করেননি। দরকার ছিলো নরেন্দ্র মোদিকে একটা ধাক্কা দেওয়া। লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই সুযোগ পেয়ে গেলেন পাঁচ রাজ্যের ভোটে। সুযোগ পেয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। হাফ-চান্সকে ফুল চান্স বানাতে সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দলকে সুসংহত করে অভিমুখ ঠিক করে দিয়েছিলেন, ‘বিজেপি-হঠাও’। রাহুলের মূল লক্ষ্যই ছিল রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়৷ কারন তিনি বুঝে ফেলেছিলেন, তেলেঙ্গানা বা মিজোরামে সময় নষ্ট করে লাভ নেই। বিজেপিকে ধাক্কা দিতে হলে বাকি তিন রাজ্যে কিছু করে দেখাতে হবে। বাকিটা ইতিহাস।

রাহুলের এক বছরের নেতৃত্বে জাতীয় কংগ্রেসের ব্যর্থতার পাশাপাশি সাফল্যও এসেছে। সেই সাফল্যকে হাতিয়ার করে গোটা দেশ ঘুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্যর্থতা, জনস্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেছেন। দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। গোটা দেশকে চমকে দেওয়া স্লোগান, ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’, বাজারে এনেছেন।’  আর তারপর এলো 11 ডিসেম্বর’2018। জাতীয় রাজনীতির দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া কংগ্রেসকে উপহার দিলেন পাঁচ রাজ্যের দু’টি, রাজস্থান এবং ছত্তিশগড়। এক সুতো দূরত্বে দাঁড়িয়ে আছেন মধ্য প্রদেশে।

ভাগ্যিস, তিনি পাপ্পু। তাই অহংকারি, আমি-সর্বস্ব প্রধানমন্ত্রীর গদিতে পাঁচ বছর কাটানোর সুযোগ পেলেন মোদিজি। তিনি ‘পাপ্পু’ না হলে ঢের আগেই ‘পদ্ম’দীঘি শুকিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল।

ইংরাজিতে একটা কথা আছে, Slow but steady wins the race. দ্রুতগামী চৌকিদারের থেকে শ্লথগতির পাপ্পুকেই তো ভালোবাসা উপহার দিলো দেশবাসী। এখন অবশ্য অনেক “নেপোই দই মারা”র চেষ্টায় ঝাঁপিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব এটাই, আগামীদিনে এই রাহুল গান্ধীই ‘গেরুয়া-মুক্ত ভারত’-এর প্রতীক হবেন।