তাহলে বিজেপি’র ব্যাটন কি এবার শ্রীরামচন্দ্রের হাতে ?

এসবিবি : সেমিফাইনালের ফলাফল বুঝিয়ে দিয়েছে, দেশে ‘মোদি-হাওয়া’ বলে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এই পড়ন্ত ইমেজ নিয়ে মোদি ভোট চাইতে নামলে হিতে-বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা। ওদিকে অমিত শাহ দলের তৈরি করা নেতা, পাবলিক ইমেজ কোনওকালেই ছিল না। দলের পদাধিকারীরাই কথা বলতে ভয় পান। আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট না থাকলে রাজ্য সভাপতিরা তো দূরের কথা, শীর্ষ নেতারাও দেখা করতে পারেন না।

নখদন্তহীন ‘মার্গদর্শক মণ্ডলীতে’ আগেই পাঠানো হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক শিক্ষাগুরু লালকৃষ্ণ আদবানিকে৷ মোদি- শাহ জুটি দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারক কমিটি সংসদীয় বোর্ড থেকেও ছেঁটে ফেলেছেন প্রথম NDA সরকারের উপ প্রধানমন্ত্রীকে৷ আর এক নেতা মুরলী মনোহর যোশিকে বাদ দেওয়া হয়েছে ‘অসুস্থ’ বলে। জীবিত অবস্থাতেই ছেঁটে দেওয়া হয়েছিলো অটল বিহারী বাজপেয়ীকেও৷

রাজনাথ সিং, সুষমা স্বরাজদের সঙ্গে মোদিদের ‘সুসম্পর্ক’ নেই। যোগী আদিত্যনাথ ‘পরামর্শ’ দিতে গিয়ে নিজেই মুখ থুবড়ে পড়েছেন ছত্তিশগড়ে।

আরও পড়ুন : মোদির কাছ থেকেই আমি শিক্ষা নিয়েছি, অকপট রাহুল

তাহলে 2019-এর ফাইনালে ‘টিম-বিজেপি’-র ক্যাপ্টেন কে?
মুখে বিজেপি বলবেই, কেন, মোদি-শাহই তো নেতা। তাদের হাত ধরেই তো দল 2019-এর ভোট-বৈতরণী পার হবে। বাবু যা বলবেন, পারিষদরা তার দশগুন বেশি চেঁচাবেন ‘মোদি-শাহ’ বলে। কিন্তু আর কেউ না বুঝুক, নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহ আজ বুঝতে পারছেন, অঙ্কটা কঠিন। তাঁদের নামে ভোটের জল গরম হচ্ছে না আর। 2014-সালে ক্ষমতায় আসার পর যে ক’টি নির্বাচন-উপ নির্বাচন ফেস করেছেন, তার হিসাব কষলে, নেতিবাচক তথ্যই বেরিয়ে আসছে। সুতরাং, ঝুঁকি না নিয়ে, নেতৃত্বের ব্যাটন-বদল নিশ্চিত।

আরও পড়ুন : সোপিয়ানে 4 পুলিশকর্মীকে গুলি করে খুন

তাই 2019-এর ভোটের আগেই মোদি-শাহের হাতে থাকা বিজেপি- ব্যাটন শ্রীরামচন্দ্রের হাতে ট্রান্সফার করতে চাইছে বিজেপি। পাঁচ রাজ্যে জোর ধাক্কার পর আপাতত বিজেপির ভরসা শ্রীরামচন্দ্র এবং মন্দির। দলের কোনও নেতা ফ্যাক্টর নন, স্রেফ
‘রাম’নামেই দল বাঁচবে। বিজেপি’র শীর্ষস্তরের এই মুহূর্তের উপলব্ধি, “এখন অযোধ্যায় রামমন্দির তৈরির দাবিতে ফিরতে হবেই”। তবে শিক্ষিত হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক যাতে বিরূপ না হয়, সেজন্য এই ‘রামনাম’ জপতে হবে ‘হুইসপারিং-ক্যাম্পেন’ করে। রামচন্দ্র, রামমন্দির বা রামনাম নিয়ে প্রচার হবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে।
রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় বিজেপিকে ডুবিয়েছে। এই ফল যথেষ্টভাবেই প্রভাব ফেলবে চার-পাঁচ মাস পরের লোকসভা ভোটে। রাহুল গান্ধীর দুরন্ত সাফল্য জাতীয় রাজনীতিতে বড় পট-পরিবর্তন করবেই। বিজেপি’র বক্তব্য, “মাথায় রাখতে হবে, রামমন্দির আন্দোলন তথা রথযাত্রাই বিজেপিকে গোটা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিল। এবারও হাঁটতে হবে সে পথেই।