কংগ্রেস বাড়লে তৃণমূলের লাভ না ক্ষতি?

এসবিবি: “সেমিফাইনালে” বিজেপি ধাক্কা খাওয়ায় সবাই কড়া বিবৃতি দিয়ে খুশির ভাব দেখাচ্ছেন। কিন্তু আপাতদৃষ্টির মোদিবিরোধী দলগুলির মধ্যে চোরাস্রোত স্পষ্ট। তৃণমূল বা টিআরএস তাদের প্রতিক্রিয়ায় মানুষকে অভিনন্দন জানালেও কংগ্রেসকে কোনো কৃতিত্ব দিতে চায় নি।

প্রশ্ন হল, কংগ্রেস বা রাহুল গান্ধী ঘুরে দাঁড়ালে তৃণমূলের লাভ না ক্ষতি?

বিশ্লেষণ 1) ক্ষতি। কারণ কংগ্রেস বিরোধীদের নেতৃত্ব দেবে। তৃতীয় বিকল্পের জায়গা কমবে।

2) ক্ষতি। কারণ তৃতীয় বিকল্পের জায়গা কমলে তাদের থেকে প্রধানমন্ত্রিত্বের সুযোগ কমবে। বড়জোর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক পেতে পারে। যা নতুন নয়। আগেও ছিল।

3) ক্ষতি। কারণ রাহুল চাপে থাকলে দিল্লিতে অনেকটা বাড়তি গুরুত্ব নিয়ে খেলার জায়গা পেতেন মমতা।

4) ক্ষতি। কারণ অন্য রাজ্যের ঘাটতি মেটাতে মরিয়া বিজেপি বাংলায় আসন বাড়াতে সর্বশক্তিতে চাপ দিতে পারে।

5) ক্ষতি। কারণ দুর্বলতম হলেও রাজ্য কংগ্রেস কিছুটা অক্সিজেন পেতে পারে। কিছু সংখ্যালঘু ভোট কংগ্রেসের দিকে (বা কং- বাম জোট যদি হয়) গেলে সমস্যা। রাহুল তৃণমূলকে 6টি আসন ছাড়ার চাপ বাড়াতেও পারেন। আবার তৃণমূল জোট না করলে রাহুল বামেদের সঙ্গে রফায় যাবেন। বিজেপি যদি চাঙ্গা না থাকে, তাহলে এই জোট মাথাব্যথার কারণ হবে। প্রতিষ্ঠানবিরোধী ভোট ও সংখ্যালঘু ভোটের একটা অংশ মিললে তৃণমূলের সামনে বড় লড়াই। বিজেপি চাঙ্গা থাকলে ভোট কাটাকাটি হবে।

6) এই অবস্থায় 19 জানুয়ারির ব্রিগেডের জনসমুদ্রে জাতীয় স্তরের নেতাদের হাজির করে তৃণমূল ও মমতার গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হবে। যদি রাহুল নিজে এসে এই মঞ্চকে মান্যতা দেন, তাহলে মমতার সুবিধে। রাজ্য কংগ্রেসও চাপে থাকবে। অন্যথায় চোরাস্রোত থেকে যাবে।

7) একটা সুবিধার কথা শোনা যাচ্ছে। তুমুল চাপে থাকা মোদি, অমিতরা এখন মমতাকে আর খোঁচাতে যাবেন না। ফলে তদন্ত ও কেন্দ্রীয় সংস্থার প্রশ্নে তৃণমূলের উদ্বেগ কমতে পারে। বিজেপি তৃণমূলকে বলবে, রাহুল প্রধানমন্ত্রী হলে তোমাদের কী? একটি মহল এই জটিল অঙ্কের হিসেব করছে। তাই বলে অবশ্য প্রকাশ্যে বিজেপি-তৃণমূল সমঝোতার প্রশ্ন নেই। কড়া বিজেপিবিরোধিতা করে তৃণমূল সংখ্যালঘু ভোটটা ধরে রাখুক, চাইবে বিজেপিই।

8) লাভের অঙ্ক। কংগ্রেস যতই কটা রাজ্যে লাভ করুক, দিল্লি এখনও বহু দূর। আর এককভাবে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতার সম্ভাবনা নেই। তখন একাধিক দল নেতা হিসেবে অকংগ্রেসি কাউকে চাইলে বা নির্বাচনোত্তর তৃতীয় ফ্রন্ট হলে অ্যাডভান্টেজ মমতা।