রবিবারের বাবুইবাসা : 23.12.18

।। রায়বেশে ও ব্রতচারী ।।

সুনন্দ সান্যাল

দিল্লির মসনদে তখন সম্রাট আকবর। সেইসময় বাংলার রাঢ়ভূমির এক স্বাধীনচেতা, শক্তিশালী সামন্ত রাজা ফতে হাড়ি এবং শেরপুর এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, যোদ্ধা, সুলতানী শাসনের শেষ প্রতিনিধি ওসমান খান আকবরের শাসন বা দিল্লীর শাসন একদমই মানতেন না। দূত মারফৎ বারংবার এই দুইজন আকবরকে অপমান বার্তা পাঠাতেন। এই দুজনের কাছে ছিল বিশাল সৈন্যবাহিনী, বিশেষ উল্লেখ্য হস্তীবাহিনী। ভারতবর্ষের ইতিহাসে আজও স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে ফতে হাড়ির হস্তীবাহিনীর কথা।

1600 খৃষ্টাব্দে আকবর তাঁর সেনাপতি মান সিংহকে অনুরোধ করেন বাংলার রাঢ়ভূমিতে যাত্রা করার জন্য, এবং এটা নিশ্চিত করার জন্য যে বাংলায় মুঘল শাসন কায়েম হয়েছে। সেনাপতি মান সিংহের সঙ্গে আসেন যোদ্ধা সবিতা রায় দীক্ষিত। সবিতা রায় দীক্ষিত ছিলেন মুঘল সেনাদের বল্লম প্রশিক্ষক। সবিতা রায় দীক্ষিতের অধীনে ছিল দুর্ধর্ষ 786 জনের ভীল সৈন্যদল অর্থাৎ ভল্ল বা বল্লমধারী যোদ্ধা।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মান সিংহ আক্রমণ করেন বীর যোদ্ধা ওসমান খানকে, ভয়ানক যুদ্ধ শেষে ওসমান খান হার স্বীকার করেন, অপরদিকে সবিতা রায় দীক্ষিত সামন্তরাজা ফতে হাড়িকে নিহত করেন।

পুরস্কারস্বরূপ, আকবর রাঢ়ভূমির শাসন ক্ষমতা সবিতা রায় দীক্ষিতের হাতে তুলে দেন, সবিতা রায় দীক্ষিত নিজের পছন্দমত একটি দূর্গ তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। সবিতা রায় দীক্ষিতের সাথে আগত 786 জনের ভল্ল সৈন্যদলও থেকে যান বাংলায়। এরা মূলত রাজস্হানের বাসিন্দা ছিলেন। যুদ্ধবিদ্যা, বল্লম চালনা ছাড়া আর কোনো কাজই জানতেন না এই গোষ্ঠী। সময়ের সাথে সাথে এরা লেঠেল, পাইক-বরকন্দাজের জীবিকা গ্রহণ করেন। আবার অনেকে লুঠতরাজ চালাতেন ডাকাতরূপে, এদেরকে “রাজস্হানী ডাকাত” নামে সম্বোধন করা হত।

এই গোষ্ঠীর মূল বৈশিষ্ট্য ছিলো কপাল থেকে মাথার পিছনের অংশ রঙিন কাপড় দিয়ে ঢাকা এবং ডানপায়ে ঘুঙুর। অবসরে থাকাকালীন এরা সারাদিন শরীরচর্চা, অস্ত্রচালনা করার পর রাতের সময় দিনের ক্লান্তি দূর করার জন্য এরা গান ও নাচ করতো। বাদ্যযন্ত্র হিসাবে ব্যবহার করা হতো ঘন্টা, ঢোল ও করতালি, পায়ের নূপুর হাতে বাজানোও হতো। সবিতা রায় দীক্ষিত এই নৃত্যশৈলীর কৌশল তাঁর ভল্ল সেনাদের নিজেই শেখাতেন।এই নৃত্যশৈলীর নামকরণ করা হয় রায়বেশে বা রায়বেঁশে। রায়বেশে নাচের মূল বৈশিষ্ট্য হলো শারীরিক কসরতমূলক অঙ্গভঙ্গি, অস্ত্রচালনার বিভিন্ন ভঙ্গি, একে অপরের কাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে ভারসাম্য প্রদর্শন।

এরা জমিদার বাড়ির বিবাহ অনুষ্ঠানে একদিকে নৃত্য প্রদর্শন করতেন, অপরদিকে পালকির আগে ও পিছনে নিরাপত্তারক্ষীরও কাজ করতেন। এক একজন ভল্লসেনা একসঙ্গে প্রায় 10-15 জন মানুষকে মারার ক্ষমতা রাখতেন। ব্রিটিশ শাসনকালে এই রায়বেশে গোষ্ঠীকে ব্রিটিশ সরকার বাতিল ঘোষণা করে কারণ ভগীরথ ও হুজির নামে দুই বল্লমধারী একসঙ্গে 35 জন ব্রিটিশ সেনাকে মেরে ফেলে। পরে সরকারী কর্মচারী, লোক সাহিত্য গবেষক ও লেখক গুরুসদয় দত্ত মহাশয় বীরভূমের জেলাশাসক পদে বহাল হওয়ার পর এই গোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন ও রাইবেশে নৃত্যকে এক অন্য পর্যায়ে নিয়ে যান, গুরুসদয় দত্ত এই নৃত্যশৈলীর সহায়তায় স্বদেশ প্রেম ও সমাজসেবাকে একত্রিত করে গঠন করেন এক নতুন নৃত্যশৈলী যার নাম ব্রতচারী।

“শুধুই ধ্বংসাত্মক বা অস্ত্র চালানোর ভঙ্গি নয়, এই নৃত্যশৈলীতে আনতে হবে সমাজগঠনমূলক পদক্ষেপ” – গুরুসদয় দত্ত

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রায়বেশে নৃত্য শৈলী দেখে প্রথমে ভীত হয়ে পড়েন, পরে একটি মজার ছড়া লিখেছিলেন
“রায়বেশে নাচ নাচের ঝোঁকে মাথায় মারলে গাঁট্টা,
শ্বশুর কাঁদে মেয়ের শোকে বর হেসে কয় ঠাট্টা।”

“চল কোদাল চালাই, ভুলে মানের বালাই,
ঝেড়ে অলস মেজাজ, হবে শরীর ঝালাই।
যত ব্যাধির বালাই, বলবে পালাই পালাই,
পেটে ক্ষিদের জ্বালায়, খাবো ক্ষীর আর মালাই।” – ব্রতচারীর গান।

##########################

“ইয়েটা সামলে”

সুদীপ ভট্টাচার্য

এই শীতে মদের দোকানে লাইন দিয়েছেন বল্টুদা। নিন্মচাপের বৃষ্টি,তাই ছাতা মাথায়।পাড়ায় ফিরতেই পাশের বাড়ির গোবিন্দ কাকু বললেন….”বল্টু, তোমার ছাতাখানাকে যেন মদের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম।” বল্টু দা লজ্জা পেলেন,বললে “ছাতাটা আমার এক বন্ধু নিয়ে গেছে কিছুক্ষন আগে,ওকেই দেখেছেন বোধহয়।” গোবিন্দ কাকু হতাশ হলেন মনে মনে। মনখারাপের সুরে বললেন,—“যাঃ ভাবলাম তুমি বড় হয়েছো,একসঙ্গে বসে মাল খাওয়া যেতেই পারে,তাই বেশ কিছু ফিস ফ্রাই,চিকেন কাবাব নিয়ে এসেছিলাম সঙ্গে খাবার জন্যে,তা তুমি যখন খাওই না,চলি তাহলে।” বল্টু দার মুখ হাঁ,কি বলবেন বুঝে ওঠার আগেই গোবিন্দ কাকু বিদায় নিলেন।

##########################

।। বড়দিনের হোম মেড রেসিপি – স্পঞ্জ কেক ।।

সামনেই বড়দিন। যীশু খৃষ্টের জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে কেক না খেলে চলে? নামি দামী দাকোন থেকে কেক কিনে খেয়েছেন। এবার চেখে দেখুন ঘরে বানানো কেকের স্বাদ। অনেকেই ভাবছেন, বাড়িতে তো মাইক্রোওয়েভ ওভেন নেই  কেক কী করে বানাবো? মাইক্রোওয়েভ সবার বাড়িতে থাকে না একথা ঠিক। কিন্তু প্রেসার কুকার তো আছে। তাতেই হবে সুস্বাদু স্পঞ্জ কেক।

উপকরণ : ময়দা 150 গ্রাম, চিনি 150 গ্রাম, ডিম 3 টি, সাদা তেল পরিমাণ মত, বেকিং সোডা হাফ চামচ, বেকিং পাউডার হাফ চামচ, ভ্যানিলা এসেন্স কয়েক ফোঁটা, নুন সামান্য। এছাড়াও কেক বানাতে লাগবে একটি প্রেসার কুকার, এক টুকরো কাগজ।

প্রণালী : প্রথমে মিক্সিতে চিনি গুঁড়ো করে নিন। তারপর ফেটিয়ে নিন 3 টে ডিম। ডিম যত ভালোভাবে ফেটাবেন কেক ততো নরম হবে। এবার ফেটানো ডিমের সাথে মিশিয়ে নিন বেকিং সোডা, বেকিং পাউডার, চিনির পাউডার ও ভ্যানিলা এসেন্স। এই সমস্ত উপকরণ আবার ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণের সঙ্গে যোগ করুন ময়দা আর তেল। মিশ্রণটি এবার ভালো করে ফেটিয়ে নিন।

পরবর্তী পর্যায়ে প্রেসার কুকারের মাপে গোল করে কাগজ কেটে নিন। কাগজের দুদিকে তেল দিয়ে প্রেসার কুকারের মধ্যে লাগিয়ে নিন। এতে কেক তলায় লেগে যাবে না।  কাগজের ওপর কেকের মিশ্রণ দিয়ে কুকারের মুখ বন্ধ কর দিতে হবে। সেই সঙ্গে সিটিটা খুলে নিতে হবে। কারণ কেক বানানোর সময় বাষ্প বেরোতে না পারলে কেক জমাট বাঁধবে না।

আধঘন্টা পরে কুকারের মুখ ফুলে পরিবেশন করুন স্পঞ্জ কেক।

##########################