কবি সুবোধের জুতো পালিশ, কুণাল ঘোষের কলম

কুণাল ঘোষ

কবি সুবোধ সরকারের একটি ছবি নিয়ে বিতর্ক চলছে। তিনি পালিশওয়ালার সামনে পা তুলে জুতো পালিশ করাচ্ছেন। বেশ কিছু বিরূপ ও কটূ মন্তব্যও দেখছি।

আমি এই প্রশ্নে সুবোধবাবুর বিন্দুমাত্র অন্যায় দেখতে পাচ্ছি না। এই ছবির সঙ্গে কবি বা অকবি ; শোষক বা শোষিত; সংবেদনশীল বা সংবেদনহীন, এসবের কোনো সম্পর্ক নেই।

যিনি জুতো পালিশ করছেন, এটা তাঁর পেশা। অত্যন্ত জরুরি পেশা। এখানে পা তুলে দাঁড়ালে অপমান হতে পারে না।

আরও পড়ুন : গিনেস বুকের নয়া রেকর্ড গুজরাতের কেশবতীর

তাহলে যাঁরা বিপ্লব করছেন, তাঁরা পায়ে চোট পেলে অর্থোপেডিক ডাক্তারবাবুর দিকে পা তুলে দেখাবেন না তো!
কিংবা জুতোর দোকানে ঢুকলে কাউকে মাপ দেখে জুতো আনতে দেন না তো!!!

আমি নিজে হয়ত বাড়িতেই জুতো ব্রাশ করে নিই। কিন্তু রাস্তায় হঠাৎ কাদা লেগে দরকার পড়লে কী করব? পালিশওয়ালাই ভরসা। জুতোসুদ্ধ পা না তুলো রাস্তায় এক পায়ে দাঁড়াবো? নাকি জুতো ছাড়া পা রাস্তায় রেখে?
যত সব উদ্ভট কথা।

আরও পড়ুন : আজব এক শহর, নেই কোনও গাড়ি অথচ প্রত্যেক পরিবার চলাচল করে বিমানে

এখানে সুবোধবাবু পালিশওয়ালাকে এতটুকু অপমান করছেন না। দৈনন্দিন জীবনের একটি কাজ একজন পেশাদারকে দিয়ে পারিশ্রমিকসহ করাচ্ছেন।
দোষ কোথায়?

এক ব্যক্তি শুনলাম খুবই খারাপ মন্তব্য লিখেছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সহসভাপতি মণিশঙ্কর, যে কিনা সুবোধবাবুর কবিতার বিষয়ে গবেষণা করেছে, সে এই কুৎসাকারীর বিরুদ্ধে পুলিশে নালিশ করেছে। এতটা দরকার ছিল কি? সোশ্যাল মিডিয়ায় তো কত লোকে কত কী বলে। তবে মণি ছেলে ভালো। সে তার কর্তব্য করেছে। আর কিছু লোক সোশ্যাল মিডিয়ার সুযোগে অসংযত রুচিহীন কথাও বলেন। সেটাও বরদাস্ত করা যায় না।

আরও পড়ুন : আজ সংসদে তিন তালাক বিল, প্রবল উত্তেজনার আশঙ্কা

সমস্যা অন্য জায়গায়।
যে বামপন্থী বা সরকারবিরোধীরা কটাক্ষ করছেন, 2011র পরিবর্তনের আগে সুবোধবাবু এটা করলে তাঁরা দোষ পেতেন না। কারণ সুবোধ তখন সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামসহ সব ইস্যুতেই বামফ্রন্টের পাশে, অষ্টম বামফ্রন্ট সরকার গঠনের প্রচারে ব্যস্ত; তৃণমূলের কট্টর সমালোচক ও বিরোধী। রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজও তিনি দেখতে পাননি। সিটি কলেজে ব্রাত্য বসুর সমস্যার কথাটা আর তুলছি না।

আরও পড়ুন : লন্ডনের কর্পোরেট-কর্ত্রী প্রদেশ কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়ার দায়িত্বে

মমতাদি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর গুণগুলি আবিষ্কার করেন কবি এবং সরকারপন্থী হয়ে ওঠেন।

হ্যাঁ, সরকারপন্থী। 2011র আগের মত। সরকারে কে, সেটা বড় কথা নয়। আমি সরকারপন্থী। সরকারের গুণ দেখি।

ফলে, সুবোধবাবু আপাতত মমতাদির শিবিরে বলেই তাঁকে বাড়তি আক্রমণ সহ্য করতে হচ্ছে।

সাধারণ একটা জুতো পালিশের ছবির জন্য এই সমালোচনা তাঁর প্রাপ্য নয়। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।

কখন কীভাবে জুতো পালিশ করতে হয়, কে কখন কার জুতো পালিশ করে, দয়া করে কবি সুবোধ সরকারকে কেউ শেখাবেন না। তিনি খুব ভালো করে জানেন।

যাঁরা কটূক্তি করছেন, আমি তাঁদের বিরোধিতা করছি।