বিদ্রোহ, আধার, পরকীয়া-বছরভর শিরোনামে শীর্ষ আদালত

এসবিবি : রাজনৈতিক দুনিয়ায় চমকদার খবর তো হবেই। সেটাই স্বাভাবিক। তবে 2018 সালে রাজনীতির ওসব
থোড়-বড়ি-খাড়া খবরকে নিশ্চিতভাবেই কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে আদালত, বিশেষত সুপ্রিম কোর্ট। সেভাবে দেখলে, বলতেই হবে 2018-র খবরের বাজারে কার্যত ডার্বি-ম্যাচ হয়েছে রাজনীতি বনাম আদালত।

আরও পড়ুন- জানুয়ারিতে মোদির ব্রিগেড ! কলকাতায় বাতিল বিজেপির আইন অমান্য

ভারতীয় বিচারব্যবস্থার জন্য 2018 সেরা বছর । প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের ইমপিচমেন্ট যদি প্রথম হয়, তাহলে একের পর এক অন্যান্য ঐতিহাসিক রায় সংবাদের শিরোনামেই রেখেছে শীর্ষ আদালতকে।

চার বিচারপতির বিদ্রোহ

খেয়াল রাখতে হবে,গত 12 জানুয়ারি, সুপ্রিম কোর্টের চার সিনিয়র বিচারপতির তথাকথিত বিদ্রোহ এবং সাংবাদিক বৈঠকের মতো বেনজির খবরের মধ্য দিয়েই 2018-তে আদালত শিরোনামে আসা শুরু করেছিলো।
বিচারপতি বিদ্রোহ! এক দিকে প্রধান বিচারপতি। তাঁর বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের চার প্রবীণ বিচারপতি, বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ, বিচারপতি জাস্তি চেলমেশ্বর, বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ও বিচারপতি মদন বি লোকুর।

আরও পড়ুন-বাগদান হয়েছিলো চার বছর আগেই, জানালেন দীপিকা

স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে অভূতপূর্ব ঘটনা। সুপ্রিম কোর্টের চার বিচারপতি সাংবাদিক সম্মেলন করে সেদিন অভিযোগ তুলেছিলেন, প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর অধীনে শীর্ষ আদালতের কাজকর্ম প্রথা মেনে চলছে না। কোন মামলার শুনানি কোন বেঞ্চে হবে, তা ঠিক করার ক্ষেত্রে অন্যায্য সিদ্ধান্ত হচ্ছে। কয়েক জন বাছাই করা বিচারপতির বেঞ্চেই পাঠানো হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ মামলা, বিশেষত সরকার ও শাসক দলের নেতারা যাতে অভিযুক্ত। বিচারপতি চেলমেশ্বর মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না-থাকলে গণতন্ত্র বাঁচবে না। নিরপেক্ষতাই বিচার ব্যবস্থায় জরুরি।’’ অভিযোগ স্পষ্ট, বর্তমান প্রধান বিচারপতির জমানায় সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতা থাকছে না।

আরও পড়ুন-অভিনেতা কাদের খান সংকটজনক, আরোগ্য কামনায় টুইট বিগ বি-র

ওদিকে, অবসরগ্রহণের আগে পর্যন্ত একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র। এরপর সুপ্রিম কোর্টের নয়া প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন রঞ্জন গগৈ।

ভারতীয় দন্ডবিধির 377 ধারা

যে রায়ের দিকে এবছর সবচেয়ে বেশি নজর ছিল তা হল ভারতীয় দন্ডবিধির 377 ধারা। 377 ধারা অনুযায়ী সমকামিতা বা দুটি সমকামী মানুষের মধ্যে যৌন- সম্পর্ক আইনসম্মত ছিল না। এ ধরনের ‘অপরাধে’ 10 বছরের কারাদন্ডও হতে পারত । গত 6 সেপ্টেম্বর এই ধারাকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে সমকামিতাকে আইনি স্বীকৃতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

চালু হওয়ার মুহূর্ত থেকেই একাধিক বিতর্ক ও সমস্যায় জর্জরিত ছিলো ‘আধার কার্ড’। কেন্দ্র জানিয়েছিলো, যে কোনও পরিষেবার ক্ষেত্রে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক । এর পরই এই ইস্যুতে একাধিক মামলা হয় শীর্ষ আদালতে। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, আধার কার্ড একটি বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে গৃহীত হলেও সব পরিষেবার ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলক নয় ।

আরও পড়ুনবারাবনির দুই গ্রামের সংঘর্ষ, ভাঙচুর আইসিডিএস সেন্টারে

সমকামিতার পাশাপাশি আরও যে রায়ের জন্য তুমুল আলোড়ন হয়েছে ভারতীয় দন্ডবিধির 497 ধারা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে । গত 27 সেপ্টেম্বর ভারতীয় দণ্ডবিধির 497 ধারাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বের বেঞ্চ। ‘পরকীয়া’ বিচ্ছেদের একটি কারণ হতে পারে, কিন্তু কখনওই ফৌজদারি অপরাধ হতে পারে না, রায়ে এমনই জানায় শীর্ষ আদালত। এই মামলাতেই সুপ্রিম কোর্ট নারী-পুরুষের সমান অধিকারের পক্ষে রায় দিয়ে জানায়, নারী কখনও পুরুষের সম্পত্তি হতে পারে না ।

কেরলের শবরীমালা মন্দিরে 10 থেকে 50 বছর বয়সী মহিলাদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধেও রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই রায়ের বিরোধিতায় আজও কেরলে বিজেপি সরব। শীর্ষ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে,
ধর্ম ও ভক্তি একান্তই ব্যক্তিগত বিষয়, সেখানে নারী-পুরুষের সমানাধিকার রয়েছে। এই রায় দেন প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের বেঞ্চ । যদিও বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার ডিভিশন বেঞ্চ মন্দিরের ফরমানের পক্ষে রায় দিয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের কার্যপদ্ধতির লাইভ স্ট্রিমিং করতে সম্মতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

শবরীমালা মন্দিরে 10 থেকে 50 বছর বয়সী মহিলাদের প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রায়  সুপ্রিম কোর্ট

এছাড়াও
• তিন তালাক মামলা,
• ভীম কোরাগাঁও মামলা,
• রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলা,
•অপরাধের সঙ্গে যুক্ত রাজনীতিক মামলা,
• SC/ST সম্প্রদায়ভুক্ত সরকারি কর্মচারিদের পদোন্নতি মামলা ইত্যাদিও যথেষ্টই সাড়া ফেলেছে।