রবিবারের বাবুইবাসা : 30.12.18

।। ক্যাকটাস ।।

নবনীতা সই

মা চলে যাওয়ার পর তিথি পুরো একা হয়ে গিয়েছে৷ ঠাকুমা সবসময় কাছে কাছে থাকলেও তিথির  ভালো লাগেনা কিছু৷

বাবা আজকাল অনেক দেরি করে বাড়ি আসে৷ পাশের ফ্ল্যাটে তিথির ছোটো কাকা, কাকিমা আর কাকার মেয়ে বুল্টি থাকে ৷ তিথি রোজ বারান্দায় মায়ের লাগানো গাছ গুলোতে জল দেয়৷

গাছ গুলো মা নিজের হাতে পুতে ছিলেন৷ টবে টবে সেই গাছ গুলোতে মায়ের স্পর্শ পায় তিথি৷ দুটো ক্যাকটাস আছে৷  বাকি গাছ গুলোকে তিথি আদর করে৷

বাবা-মা কে খুব ভালোবাসতো৷ তখন কত আনন্দে ছিলো তিথি৷ বাবা কত আদর করতো তিথিকে৷  মা কে বাবা  খুব খুব ভালোবাসতো তবুও কেন যে মা মরে গেলো৷

সবাই বলে মা ছেলে হতে গিয়ে মারা গেছেন৷

ঠাকুমা খুব খুশি হয়েছিলো ভাই হওয়াতে , কিন্তু তিথি হয়নি ৷ ঠাকুমা তিথির ছোট্ট ভাইটাকো সবসময় আগলে রাখে৷ আয়া রাখা আছে তবুও সবসময় কাছে রাখে৷ তিথির প্রথম প্রথম খুব রাগ হয়েছিলো এই বাচ্চাটার জন্য আজ মা নেই কিন্তু ঠাকুমা রাগ করেন ভাই কে বকা দিলে৷ আর বাচ্ছাটা তো কিছুই বোঝেনা তিথিকে দেখলেই হাসে৷ তাই তিথি এখন ভাই কে আদর করে৷

সবসময়  ঠাকুমা ভাই কে ধরতে দেয়না তিথিকে৷ তিথি দুর থেকে দ্যাখে৷

তিথির দাদাই আর বাবা দোকানে গেলে ঠাকুমা ভাইকে স্নান করায়৷ খাওয়ায়৷ আগে তিথির মা তিথিকে খাইয়ে দিতো আজকাল সে নিজে খায়৷ বুলামাসি খাওয়াতে আসলে সে খায়না৷ ভালো লাগেনা৷ মুখে ঠুসে ঠুসে দেয় আর গল্প বলেনা৷ সবসময় ব্যস্ত ৷ আর মা বলতো হাত ধুয়ে খেতে হয় , বুলা মাসি তো হাত ধোয়না৷

আয়া আছে রান্নার লোক আছে কিন্তু মা নেই৷ তিথির মনে হয় বাড়িতে কেউ নেই ৷ তিথি রোজ স্কুলে যায় কিন্ত পড়তেও ইচ্ছা করেনা তিথির ৷ চুপ করে বসে থাকে৷ সবাই কে নিতে মা আসে তাকে নিতে বুলা মাসি আসে৷

সবাই তো ভালোবাসে, বুলাদি খেতে দেয় তবুও তিথির কেন একা একা লাগে? মায়ের জন্য তিথির মন খারাপ লাগে৷ বন্ধুরা বলে বাবা সৎমা আনবে, যিনি মারবে খুব৷ তিথির ভয় লাগে খুব৷ বাবা কেমন হয়ে গেছে৷ কতদেরী করে বাড়িতে আসে৷ আর সবচেয়ে কষ্টের কথাটা তিথি কাকে বলবে? ঠাকুমাকে? ঠাকুমা তো ভাই কে নিয়েই ব্যস্ত ৷ আর যদি বিশ্বাস না করে? আগে তো এমন ছিলোনা৷কাকা তো কত ভালোবাসতো ৷ আজ আমাকে পেলেই খালি গায়ে হাত দেয়৷ আদর করে৷আর ঠাকুমাও যখনই মন্দিরে যাবে, ভাই কে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবে আমাকে কাকুর বাড়িতে রেখে যাবে৷ একটুকু ভালো লাগেনা আমার এত জোরে জোরে আদর৷

আজ তো পিসি বাড়ি যাবে ঠাকুমা ৷ আজ তিথি  কি করবে? বুলা মাসি তো খালি পড়ে পড়ে টিভি দ্যাখে৷ আর নয়ত নীচে চলে যায়৷ আজ তিথির খুব ভয় লাগছে৷

বুল্টি তো ছোটো হাঁটতে পারেনা৷ কাকি বুল্টিকে সামলায়৷ সারাক্ষণ দুষ্টমি করে বুল্টি৷ আচ্ছা বুল্টি বড় হলেও কি কাকা ওভাবে ওকে আদর করবে? তিথি তাহলে বুল্টি কে বলে দেবে কাকার কাছে যেতে না৷

সন্ধ্যেবেলা ঠাকুমা নেই ভাই কে নিয়ে পিসি বাড়ি গেছে৷ সেখান থেকে ডাক্তার দেখিয়ে কাল আসবে৷ বাবা কখন বাড়ি আসবে কে জানে? তিথি কাকির কোল ঘেঁষে বসে থাকতে চায় কিন্তু বুল্টি যে কাকিকে খু্ব জ্বালাতন করে৷

কাকি কাকাকে বলে তিথিকে তাদের ঘরে নিয়ে বসতে৷ তিথি ছুটে চলে আসে আর খাটের তলায় লুকিয়ে পড়ে৷ কাকা ঘরে এসেই জবা মাসিকে দোকানে পাঠায় তারপর তিথি তিথি বলে ডাক দেয়৷ তিথি চুপ করে ভয়ে কাঁপতে থাকে৷

হঠাৎ আলো চলে যায়৷ তিথির খুব ভয় করে সে শুধু মা কে ডাকতে থাকে ৷

শো শো করে হাওয়া বইছে৷ তিথির খাটের কোনায় গিয়ে বসে থাকে৷ দরজা জানালায় কি শব্দ ৷ তিথি ভয়ে কাঠ হয়ে বসে থাকে৷

আলোটা জ্বলছে না কেন? আর মেয়েটা গেলো কোথায়?  জানালা দিয়ে তো আলো দেখা যাচ্ছে ৷

শনশন করে হাওয়ায় যেন কান বন্ধ হয়ে যাবে৷ হট করে ভয় পায় অমিত ৷ সারাঘরে যেন তান্ডব হচ্ছে ৷ অমিত পালাতে গেলে দরজা দ্যাখে বন্ধ হয়ে আছে৷

তিথি? তিথি? হঠাৎ ব্যলকনির দরজাটা জোরসে খুলে যায়৷ হাওয়া বইছে জোরে৷ সারাদিন তো আবহাওয়া ভালো ছিলো৷ সারাঘরটা ঠান্ডা হয়ে গেছে৷ অমিত কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় কিছু৷

হঠাৎ কাকুর চিৎকার তিথির কানে আসে৷ তিথির আর কিছু মনে নেই ৷ পরে নিজেকে হাসপাতালে পায় তিথি৷ বাবা বসে আছে পাশে৷ তিথি বাবাকে দেখে ডুকরে ওঠে ৷ বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় তিথিকে বলে, আমাকে ক্ষমা করে দে তিথি৷ আমি অনেক ভুল করেছি আর ভুল হবেনা৷ অনেক অপরাধ করেছি৷

বাবা ভাই কই ? ঠাকুমা কই ?

সবাই বাড়িতে৷

আমার কি হয়েছিলো?

তিথির বাবা সুমিত কি করে তার চার বছরের মেয়েকে বলবে তার ভাই কে তিথির মা কিভাবে শাস্তি দিয়েছে৷

সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলো৷ দরজা বন্ধ দেখে সবার আগে বুলা মাসি চিৎকার করে উঠেছিলো৷ পরে সুমিত বাড়ি আসলে দেখে দরজার সামনে লোকের ভিড়৷ অমিত উপুড় হয়ে পড়ে আছে৷ সারামুখে ক্যাকটাসের কাঁটা৷ চোখমুখে আতঙ্ক ভরা৷ সবাই মিলে ভেবেই পায়নি ব্যলকনির ক্যাকটাস গাছের কাঁটা কিভাবে অমিতের মুখে লাগলো?

সুমিত ঘরে ঢুকেই আগে বলে তিথি কই ? তখন খোঁজ পড়ে তিথির৷ তিথিকে পাওয়া যায় খাটের তলায়৷ সেই থেকে আজ সাতদিন তিথি হাসপাতালে ৷ অমিত কেও হাসপাতালে আনা হয়৷ প্রাণে বেঁচে গেছে কিন্তু সারামুখে কাঁটার ফোটার জন্য চোখদুটো নষ্ট হয়ে গেছে৷ পুলিশ কে বলা হয়েছে মদ খেয়ে ক্যাকটাস গাছের উপর পড়ে গেছে অমিত৷

কিন্তু সুমিত জানে মায়া করেছে এসব৷ আর কেনো সেটা আন্দাজ করেছে তিথির অবচেতন সময়ে বিড়বিড় করে নালিশ করাতে৷ আজ আর ক্ষোভ নেই সুমিতের , তার আশেপাশেই মায়া আছে৷ তার বড় কাছাকাছি ৷ ছুটি ছেলে মেয়ের মধ্যে৷ সুমিত একা নেই ৷

************************************

।। কল গার্ল ।।

দীপক দাস

দিনকাল এখন পাল্টে গেছে,  আগের মতো আর রাতের অন্ধকারে নোংরা গলি ধরে মুখ লুকিয়ে ঢুকতে হয় না শ্যামলি কিংবা বিজলির আষ্টে সুবাসযুক্ত ঘরে। কল-গার্লদের ফোন করলেই তোমার কাছে,  তোমার রুমে পৌঁছে যাচ্ছে যৌনসুখ নিয়ে। সত্যিই দেশ আজ ধাপে ধাপে পা ফেলে উন্নতির শিখরে উঠছে।

রাখালবাবু যে ফ্ল্যাটটায় থাকেন,  সেই মালায় তার চেনা জানা কেউ নেই। 60 বছরের এই বৃদ্ধ বয়সে একলা একলা জীবন কাটানো খুবই বিরক্তিকর। 10 বছর হল স্ত্রী গত হয়েছেন। সন্তানের মুখ দেখার সৌভাগ্য পাননি তাঁরা। দোষটা অবশ্য রাখালবাবুরই ছিল। তাই বাকি জীবনটা নিঃসঙ্গতার সঙ্গে কাটাতে হবে আর কি!

ফেসবুক ঘাটতে ঘাটতে একটা মেয়ের প্রোফাইলে চোখ আটকে গেল রাখালবাবুর। নাম “সুখের ঠিকানা”,  নীচে লেখা তার ফোন নাম্বার। মাথায় কী চাপল বুড়ো বয়সে রাখালবাবুর?  নাম্বার মিলিয়ে ফোন করে জানতে পারলেন মেয়েটার বাড়ি বেশি দূরে নয়,  20 মিনিটের রাস্তা। কী ভাবছেন? রাখালবাবু নিশ্চয়ই ফোন করবে, তাই না? আরে হ্যাঁ, যা ভাবছেন তাই,  নিজের ঠিকানা দিয়ে আসতে বললেন মেয়েটাকে। কী জঘন্য লোক বলুন রাখালবাবু! ছি, ভাবা যায়?

মিনিট 30 পরে কলিং বেলটা আওয়াজ দিয়ে উঠল। নিশ্চয়ই “সুখের ঠিকানা”, দরজাটা খুলতেই দেখা গেল বছর 23 -এর একটি মেয়ে দাড়িয়ে। পরনে সাধারণ পোশাক,  কেউ দেখলে আন্দাজ করতে পারবে না মেয়েটি একজন কল-গার্ল। ঘরের ভিতরে আসতে বলে দরজাটা বন্ধ করে দিলেন রাখালবাবু। তারপর মেয়েটাকে বললেন “তুমি যদি এখানে আজ রাতটা কাটিয়ে যাও,  তাহলে কত দিতে হবে?”

“আগ্গে, এক রাতের জন্য দুই হাজার টাকা।”

“আচ্ছা ঠিক আছে।”

পরদিন সকালে রাখালবাবুর ঘুম থেকে ওঠার আগেই মেয়েটি চলে গিয়েছিল নিজের বাড়িতে। রাখালবাবুর দেওয়া দুই হাজার টাকা টেবিলের ওপর রাখা ছিল,  সাথে সুন্দর হাতের লেখায় একটা চিঠি। তাতে লেখা…

“প্রণাম বাবা,

রোজ দিনকার মতো গতকালকেও কল পেয়ে ছুটে এসেছিলাম আপনার ফ্ল্যাটে। আর আসবই বা না কেন?  ছুটে আসাই তো আমাদের কাজ – টাকা নিয়ে শরীর দেওয়া।

তবে এই প্রথম এমনটা ঘটল আমার সাথে,  কারো বাড়িতে গিয়ে তার মেয়ে হয়ে একটা রাত কাটানো,সত্যি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম আমি। আমাকে “মা” বলে ডেকে,  আমার হাতে রান্না করিয়ে,  এক টেবিলে বসে খাওয়ার যে অনুভূতিগুলো উপহার দিলেন, সারাজীবন ভুলতে পারবো না। আর কিছু লেখার মতো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না,  এইটুকুই বলতে চাই… ভগবান মানুষের মধ্যেই থাকেন, চলি”।

************************************

।। অভিমানী সন্দেশ ।।

সংঘমিত্রা সাক্সেনা

ঙ্কের খাতাথেকে শুরু করে বাঙালির শেষপাতে যদি রসগোল্লা থাকে, তবে সন্দেশ কিন্তুতার পাশেই সহধর্মীনির মতো অবস্থানকরে। কখনও ছানা কখনও বা পনীর আর শীতকাল পরলেই নলেনগুড়ের যুগলবন্দিতেই লুকিয়ে আছে সন্দেশের জন্ম রহস্য। পাকের ফারাকে সন্দেশ আবার দুই ভাগেবিভক্তস। এক,নড়মপাক ও দ্বিতীয় কড়াপাক।

কড়া পাকের ইতিহাস জানতে আমাদের ঢুকতে হবে উত্তর কলকাতায়। এক্ষেত্রে কলকাতার ময়রাদের মধ্যে যার নাম সবার আগে মনে পড়ে তিনি হলেন ভীমচন্দ্র নাগ। ইনি ময়রা প্রানচন্দ্রনাগের পুত্র ছিলেন। 1826 সালের হুগলির জনাইয়ের বাসিন্দা প্রানচন্দ্র বড়বাজারে একটি ছোট্ট দোকান কেনেন এবং পরবর্তীকালে তার ছেলে ভীমনাগ এই সন্দেশ শিল্পকে নিয়ে যান অন্য উচ্চতায়। শোনা যায় বাংলার বাঘ আশুতোষ থেকে শুরু করে রাজারামমোহন রায়সহ রানি রাসমনির বাড়ির অন্যতম অতিঅবিশ্যিক ব্যাঞ্জন ছিল সন্দেশ।

এবারে আসি নরম পাকে। গৌরবঙ্গে নরম পাকের পথচলা ‘মাখাসন্দেশের’ হাতধরে। সেইসময় এখানে প্রচুর পরিমাণে দুধ উৎপাদন হতো আর সেই দুধের তৈরি ছানার সঙ্গে চিনির মিশ্রনে নরম পাকের উৎপত্তি। সন্দেশের গল্প হবে অথচ দ্বারিক ঘোষ থাকবেন না তা হয়না। কারণ নরম পাকের পেরাসন্দেশ ওনারই দান বলা যেতে পারে।

সন্দেশের অভিযান কিন্তু নেহাত কম নয়, 1960 সালে সেপ্রথম পারি দেয় সোভিয়েত রাশিয়ারমন্ত্রীসভায় যেখানে তাকে “বাঙালির বিস্ময়” বলে আক্ষা দেওয়া হয়. ফরাসী পরিব্রাজক ফ্রানসিয়াস বার্নিয়ার তার লেখায় সন্দেশের গুণগানে পঞ্চমুখ হয়েছেন।  সময় বদলেছে আরতার সঙ্গে বদলেছেসন্দেশের সংজ্ঞা। বাজারে এখন সাবেকি সন্দেশের ওপরচেপেছে আধুনিকতার মোড়ক অর্থাৎ জেলি এবং চকলেটের নতুন প্রলেপ। এক কথায় চাকচিক্যময় এইজগতে সন্দেশের স্বাদ নিতে যুগ-যুগ ধরে বাঙালি হয়েই ফিরেআসার ইচ্ছে মনে এবং প্রাণে আজও বিদ্যমান ।

এতো কেবলই আমার ইচ্ছে, সন্দেশের আকাঙ্খার কথা ভেবেছেন কখনও?  বাংলায় জন্ম,  বাংলায়কর্ম শুধু তাই নয়, বাংলার ইতিহাসকে মুখোজ্জ্বল করে রাখতে সন্দেশের ভূমিকা প্রশংসনীয় কিন্তু তাসত্ত্বেও সে জাতীয়তার উপাধি থেকে বঞ্চিত।  তার আক্ষেপ সে তার ঘরথেকেই উপেক্ষিত। অথচ সেও কিন্তু সর্বগুণসম্পন্ন জাতীয় তকমার জন্য। যাইহোক সংস্কৃতির ইতিকথা সবসময় মিষ্টিমুখেই শেষ করা বাঞ্চনীয়, যার অন্যথা আজও হবেনা। তবে সন্দেশের অভিমানঅনস্বীকার্য নয়। তাই আবেদন রইলো মিষ্টি সন্দেশের মিষ্টি আবেদনকে গুরুত্ব দেওয়ার। এতে আশাকরি আমাদের সংস্কৃতি নতুন পালকে সেজে উঠবে।

************************************

।। শীতে ফ্যাশানেবেল থাকার কয়েকটি সহজ টিপস ।।


বাব্বা, যা কনকনে ঠান্ডা। এক্কেবারে কাজে মন বশে না। আর শীতমানেই তো ছুটি ছুটি ভাব। শীতের আমেজে মিঠে-কড়া রোদ্দুরে পার্ক কিংবা যেকোনো জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার মোক্ষম সময়। আর যারা একটু সাজতে গুজতে পছন্দ করেন তাঁদের জন্য শীতের মতো সময় হয় না। তবে শীতকালে বাইরে বেরোতে হলে শীতের পোশাটিও স্টাইলিশ হওয়া দরকার। শীতের স্টাইল মানেই জ্যাকেট,টুপি এটুকুই যথেষ্ট। অবশ্যই সেটি যেন মানানসই হয়। তাই শীতে নিজেকে ফ্যাশানেবল রাখতে এই কেয়েকটি টিপস মাথায় রাখুন-
. একটু রঙিন টুপি ও স্কার্ফ সঙ্গে রাখবেন। যাতে স্কার্ফ দিয়ে বিভিন্ন রকমের স্টাইল করে গলায় জড়িয়ে নিতে পারেন।
. লেগিংস-এর সঙ্গে বুট পড়ুন। এর মতো বিকল্প কম্বিনেশন আর হয় না।
. বাইরে বেরোনোর আগে অবশ্যই মুখে সানস্ক্রিন লাগান। কারণ, শীতের রোদ আরামদায়ক বলে তা ক্ষতিকর নয় এমনটা কিন্তু ভাবাটাও ভুল। তাই সানগ্লাস ও সানস্ক্রিন দুটোই সঙ্গ রাখা আবশ্যক।
. লিপস্টিকের তালিকায় লাল রংটিকেই রাখুন। যেহেতু লাল রংটা সমস্ত রকমের পোশাকের সঙ্গই যায়। আর চোখে কাজল লাগাতে যেন একেবারই ভুলে যাবেন না।

************************************

।। মিষ্টি মুখের রেসিপি – কদম রসগোল্লা ।।

 

শীত মানেই উত্সবের মরশুম। আর সেই উত্সবে মিষ্টি থাকবেনা তাই কখনও হয়? মিষ্টি প্রেমীদের জন্য রইলো একটি নতুন রেসিপি কদম রসগোল্লা।

উপকরণ – ছানা 1 কাপ, সুজি, ময়দা, গুঁড়ো দুধ, চিনি 1 চামচ। এছাড়াও লাগবে কমলা রং।

এবার জেনে নিন সিরা তৈরির উপকরণ গুলি কি কি,

1 কাপ চিনি, 3 কাপ জল, 2 টি এলাচ।

প্রণালী – প্রথমে ছানা মেখে নিতে হবে। তারপর তাতে ময়দা, সুজি, চিনি ও গুঁড়া দুধ মিশিয়ে নিতে হবে। এবার মিশ্রণটিকে খুব ভালো করে চটকে মেখে নিতে হবে  12 থেকে 15 মিনিট।

পরবর্তী পর্যায়ে ছানার তিন ভাগের দুই ভাগ আলাদা করে রেখে হাতে একটু ঘি মাখিয়ে বড় বড় বল তৈরি করে নিন। বাকি তিন ভাগের এক ভাগে কমলা রং দিয়ে মেখে ছোট ছোট বল তৈরি করুন। এবার বড় বলের ভিতর ছোট বল দিয়ে রসগোল্লা তৈরি করুন। বলগুলোতে যেন ফাটল না থাকে। মোট সাত থেকে আটটি রসগোল্লা হবে।

তৃতীয় ধাপে প্যানে চিনি, এলাচ ও পানি দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। সিরা ফুটে উঠলে রসগোল্লাগুলো ফুটন্ত সিরায় দিয়ে 15 মিনিট ঢাকনা দিয়ে ফুটিয়ে নিন। সিরা কমে আসলে দেড় কাপ ফুটন্ত জল ঢেলে আরও 15 মিনিট ফোটান। তারপর চুলা থেকে নামিয়ে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা সিরায় রেখে দিতে হবে। এবার কদম রসগোল্লাগুলো কেটে পরিবেশন করুন।

************************************