ফিনিক্স পাখির মতোই বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্থান শেখ হাসিনার, কণাদ দাশগুপ্তের কলম

কণাদ দাশগুপ্ত

ওপার বাংলায় এখনও তিনি বিকল্পহীন। ওপার বাংলা আজও ভরসা রাখছে বঙ্গবন্ধুর প্রতি। ওপার বাংলা আরও একবার মেনে নিলো, যোগ্য হাতেই রয়েছে দেশের শাসনভার।

আরও পড়ুন –ব্রেকফাস্ট নিউজ

জাতীয় সংসদের নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছেন ‘এটা কোনও ভোটই হয়নি’। এই অভিযোগ সর্বাংশে অসত্য, এমন হয়তো নয়। হয়তো কিছু ক্ষেত্রে বিরোধীদের ভোট-লুঠের অভিযোগের ভিত্তি আছে। হয়তো, বিরোধীদের কিছু আসন বাড়লেও বাড়তে পারতো। কিন্তু তাতে প্রধানমন্ত্রী হতে বিন্দুমাত্রও সমস্যা হত না তাঁর। বাস্তব এটাই, ওদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাঁর হাতেই শাসিত হতে চাইছেন। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাই ‘সব গাছ ছাড়িয়ে’ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ। একাদশ সংসদ নির্বাচনের জয়লাভের মধ্য দিয়ে চতুর্থবারের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন তিনি।সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে নতুন বছরের শুরুতে অর্থাৎ আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি বাংলাদেশের চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন ভারত-বন্ধু শেখ হাসিনা।

রূপকথার সেই ফিনিক্স পাখির মতোই বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার উত্থান। আগুনে পোড়া ছাই থেকে উঠে এসে হাসিনা আজ নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের।এই প্রত্যাবর্তনের পিছনে, তাঁর বেঁচে থাকার পিছনে ভারতের প্রাক্তণ প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা ছিলো অসামান্য। হাসিনা একদিনের জন্য সেসব ইতিহাস ভোলেননি। বারবার প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন সেকথা।

আরও পড়ুন –এখন আনন্দ-মিছিল নয়, দেশ গঠনের সময় : শেখ হাসিনা
এই দেশের মাটিতেই পথভ্রষ্ট হওয়া একদল ফৌজির হাতে একদিন তাঁর বাবা-মা, ভাইসহ পুরো পরিবার খুন হয়েছিলেন। হাসিনা নির্বাসনে ছিলেন ছয় বছর। শেখ হাসিনারও তো এতদিন বেঁচে থাকার কথা ছিলো না। আততায়ীর হামলার শিকার হয়েছেন মোট 19 বার। 2004 সালের 21 আগস্টের গ্রেনেড হামলা থেকেও দৈবক্রমে রক্ষা পান তিনি। সেটাই তাঁর নতুন জীবন। সব বাধা উপেক্ষা করে, নিজের জীবনবাজি রেখে দেশে ফেরেন 1981 সালে।
তার এই ফিরে আসাটাই গণতন্ত্রের মুক্তি, দেশের উন্নয়ন ও প্রগতির নবস্বপ্ন। নিজের নীতি ও আদর্শকে সমুন্নত রাখার যাত্রাশুরুর মুহূর্ত। শেখ হাসিনা মাথা নত করেননি দেশি-বিদেশি অজস্র চক্রান্তের কাছে। উল্টে সাহসিকতা, মানবিকতা ও নেতৃত্বগুণে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পেয়েছেন শতাধিক স্বীকৃতি। দেশের গন্ডি পেরিয়ে শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়া তথা গোটা বিশ্বে এক ডাকে পরিচিত গণতন্ত্রপ্রেমী এক নেত্রী।

ডান দিক থেকে প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, পুত্রবধূ ক্রিস্টিনা ওভারমায়ার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন পুতুল ও জামাতা খন্দকার মাশরুর হোসেন।

বাংলাদেশের মানুষকে ভালবেসে ঘোষণা করেছেন, 2041 সালের মধ্যে উন্নত, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাওয়ার প্রত্যয় নিয়েই তিনি পথ চলছেন। গত দুই মেয়াদে টানা 19 বছরের শাসনকালে আর্থিকভাবে অনেটাই পিছিয়ে থাকা
বাংলাদেশকে এক ‘মধ্যম-আয়ের দেশ’ হিসাবে তুলে এনে তিনি বাস্তবায়িত করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন। অনেক দেরিতে হলেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে করেছেন কলঙ্কমুক্ত।

আরও পড়ুন –আজ রাজ্যসভায় তিন তালাক বিল, হুইপ জারি কং-বিজেপির
চতুর্থবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার আগে শেখ হাসিনা সরকারের প্রধান হিসাবে তিনবার পূর্ণ মেয়াদে দেশ পরিচালনা করেছেন। 1996 সালের 12 জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রথমবার সরকার গঠন করেন তিনি। এরপর 2001 সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামি লিগ সরকার গঠন করতে না পারলেও ভোট বৃদ্ধি পায় আওয়ামি লিগের। সে বার সরকার গঠন করে বিএনপি- জামায়াত নেতৃত্বাধীন চারদলের জোট। মানুষের রায় মেনে নিয়ে
বিরোধীনেতা হিসেবে সংসদে বসেন শেখ হাসিনা। আর তারপর নবম সংসদ নির্বাচন থেকে এই একাদশ সংসদ পর্যন্ত টানা তিনবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামি লিগ শাসন ক্ষমতায়। 2008 সালের 29 ডিসেম্বরের নবম সংসদ নির্বাচনে 300 আসনের মধ্যে 264তে জিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট ক্ষমতা দখল করে। এরপরই বাংলাদেশে ‘দিন বদলের শুরু’ হয়। 2014-র নির্বাচনে পর অনেকেই ভেবেছিলেন, পূর্ণ মেয়াদ সরকার চালাতে পারবেন না শেখ হাসিনা। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চাপের মুখে মধ্যবর্তী নির্বাচন করতে বাধ্য হবেন । কিন্তু সবার ধারনা ভুল প্রমাণ করে বিএনপি-জামায়াতের সেই “জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন”-এর মোকাবিলা করে পূর্ণ মেয়াদ সরকার পরিচালনা করেছেন শেখ হাসিনা।


রবিবার, 30 ডিসেম্বর সারাদেশে একাদশ নির্বাচনের ভোটগ্রহন হয়েছে। এই নির্বাচনেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামি লিগ জোট বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। 72 বছরের শেখ হাসিনার আজও প্রাণবন্ত। বাংলাদেশ থেকে গরিবি-কে বিদায় করে বাবা শেখ মুজিবর রহমানের স্বপ্নপূরণের জন্যই তার ছুটে চলা। দীর্ঘ তিন যুগ ধরে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ক্ষমতায় আনলেন চারবার। তাঁর নেতৃত্বেই আওয়ামি লিগ এখন অতীতের যে কোনও সময়ের তুলনায় বহুগুন বেশি শক্তিশালী।

আরও পড়ুন –বিপুল ভোটে জয়ী আওয়ামি লিগের প্রার্থী ক্রিকেট তারকা মাশরাফি মোর্তাজা

সফল রাষ্ট্রনায়কের হাজারো ব্যস্ততার মাঝেই শেখ হাসিনা একজন সফল মা, দিদিমা, ঠাকুমা। একজন পরিপূর্ণ বঙ্গনারী। তাঁর প্রয়াত স্বামী ড. এম ওয়াজেদ ছিলেন একজন বিশ্বখ্যাত পরমাণুবিজ্ঞানী।
ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মায়ের আদর্শে পথ চলেন। প্রতিদিনের নির্দিষ্ট এক সময়ে নাতি-নাতনিদের সঙ্গে একান্তে সময় কাটান শেখ হাসিনা।
এমন চরিত্রের হাতে নিজেদের জীবন এবং যাপন তুলে দিতে সে কারনেই বোধহয় বিন্দুমাত্র দ্বিধা দেখান না বাংলাদেশের মানুষ।