অপ্রয়োজনীয় (2)

অলখ নিরঞ্জন

একটা ঝুমকো জবা দেখেছিলাম অনেকদিন পরে গাছটাকে খুশি করে দিয়ে কাল ফুটে ছিল।
বিকেলে অফিস থেকে ফিরে রোজকার অভ্যেসে বাগানে যেতেই দেখি ঝুমকো চামর ঝুলিয়ে সে ফুটে আছে।
গোধূলি আলোর রং গাছটাকে ঘিরে উচ্ছ্বাসে মেতেছে
তবু তার কোনো খেয়াল নেই তাতে, অল্প হাওয়ায় দুলে দুলে বিকেলটা নিজের মতো মাতিয়ে রেখেছে।
নীচে গোলাপের দল পশরা সাজিয়েছে, তার সাথে
খানিকটা দূরে নয়নতারার মাতামাতি
হাসনুহানারা বাগানের চারপাশে
প্রত্যেকে হাজার চোখকে ডেকে
কী যে দেখাতে চাইছে কে জানে
আমার ঝুমকো জবা স্পষ্ট মনে আছে
সেজে ছিল নিজেই নিজের মতো করে
কোনো ফুলদানি, বা এমনকী পূজার পুষ্পপাত্র কোনো
তাকে নিয়ে আদেখলাপনা কখনো করবে না সে জানে,
ফুটেছিল নিজেই নিজের মতো করে
এখন অফিস যাবার আগে
তার কাছ থেকে সাহস নেবার দরকারে এসে দেখি
নিজেকে সে সরিয়ে নিয়েছে
মাঝরাতে কোনো হাসনুহানার জোরালো ঝাপটা কী তাকে
অপ্রয়োজনীয় ভাবতে বাধ্য করেছে কি না জানি না।
ঝাঁকড়া জবা গাছটার নীচে সে দেখছি বেশ কিছুটা শুকনো হয়ে শুয়ে আছে।
বৃতি তার রয়ে গেছে ঝলমলে সকালের রোদে গাছটার কাছে।
কোন প্রয়োজনে এইসব অনভ্যস্ত ক্ষরণ
হয়তো ঘুমিয়ে থাকা হাসনুহানা বা গোলাপ বা নয়নতারারা জানে।