বাংলার রঞ্জি-স্বপ্ন ভাঙতেই বিস্ফোরণ মনোজের

এসবিবি, স্পোর্টস:   ঠাণ্ডা লড়াইটা শুরু হয়েছিল মরশুম শুরু হতেই। অধিনায়কত্ব নিয়ে তখনও গরম গরম বিবৃতি দিয়ে সিএবি কর্তাদের একহাত নিয়েছিলেন মনোজ তিওয়ারি। এবার পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে ড্র করে বাংলার রঞ্জিযাত্রার সমাপ্তি ঘটতেই রীতিমতো ফ্রন্টফুটে ‘স্ট্রেট ড্রাইভ’ শুরু করলেন বাংলা অধিনায়ক।

আরও পড়ুন- রাজ্যের সব উপাচার্য, অধ্যক্ষদের সঙ্গে এই প্রথম বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী, আগ্রহ তুঙ্গে

সল্টলেকের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বাংলা-পাঞ্জাব ম্যাচ ড্র হওয়ার পরেই আগুনের আঁচ পাওয়া যাচ্ছিল। এমনিতেই মেন্টর অরুণলাল বিষোদ্গার করেছেন বাংলা দলকে নিয়ে। সাফ বলে দিয়েছেন, শেষ আটে পৌঁছনোর যোগ্যতাই নেই এই দলটার। কোচ সাইরাজ বাহুতুলে ‘স্পিকটি নট’। বাংলা-সাইরাজ সম্পর্ক এই মরশুমই হয়তো শেষ। সিএবি বিশেষ আগ্রহী নয় ওঁর সঙ্গে চুক্তি ‘রিনিউ’ করতে। আর অধিনায়ক মনোজ ? মরশুমের শুরুতে আগুনের যে ফুলকি ছোটানো শুরু করেছিলেন, এবার তা দাবানলের রূপ নিল।

আরও পড়ুন- তৃণমূলের কোন কোন এমপি এখন নজরদারিতে?

বাংলা অধিনায়ক একের পর এক তির ছুঁড়ে দিলেন সিএবি কর্তাদের দিকে। সঙ্গে নাম না করে সাপোর্ট স্টাফ জয়দীপ মুখোপাধ্যায়কেও একহাত নিয়েছেন মনোজ তিওয়ারি।

মনোজের অভিযোগের তালিকা –

1-) আমরা সবাই মিলে করজোড়ে এই ম্যাচে স্পিনিং ট্র্যাক চেয়েছিলাম। কিন্তু কোন অদৃশ্য কারণে তা দেওয়া হল না জানি না। টিম ম্যানেজমেন্ট যা চাইছি, তা দেওয়া না হলে গেম-প্ল্যান কার্যকর করব কী ভাবে ?

2-) রঞ্জি মরশুম শুরুর আগে আমার অধিনায়কত্ব নিয়ে অহেতুক যে বিতর্ক তৈরি করা হয়েছিল, তা কাম্য ছিল না। সর্ষের মধ্যেই যে ভূত লুকিয়ে রয়েছে। দলের মধ্যে থেকে যে এসব করে গেল তাঁকে চিহ্নিত করে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল না ? (অভিযোগের তির জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দিকে)

3-) যে যাই বলুক, আমাদের ক্রিকেটারদের কমিটমেন্টের অভাব ছিল না। কিন্তু প্রয়োজন ছিল মানসিকতায় আরও পরিবর্তন। শুরুর দিকে একজন মনোবিদ থাকলেও কেন প্রয়োজনে তাঁকে আর পাওয়া গেল না জানি না

4-) বারবার বলা সত্ত্বেও একজন ফিল্ডিং কোচ নিযুক্ত করা হল না

5-) দলের ব্যাটসম্যানদের উপর সামান্য ভরসাটুকু ছিল না। মনোজ আর ঈশ্বরণ, এই দু’জন ব্যাটসম্যানকে নিয়ে একটা-দু’তো ম্যাচ চালানো যায়, একটা গোটা টুর্নামেন্ট খেলা যায় না। বাকি যে সমস্ত বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যান দলের সঙ্গে ছিল, তাঁদের অবদান কী ?

6-) আমার থেকে ভাল নিশ্চয়ই ক্রিকেটারদের কেউ চেনে না। আমি যখন অধিনায়ক, তাহলে কেন দল নির্বাচন কিংবা অন্যান্য কাজে আমার ‘ইনভল্ভমেন্ট’ থাকবে না ?

আরও পড়ুন- রাজ্যের লোকায়ুক্ত পদে শপথ নিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়

এ ভাবেই সিএবি কর্তাদের ও দলের সাপোর্ট স্টাফকে অভিযোগে বিদ্ধ করে বিস্ফোরণ ঘটালেন বাংলা অধিনায়ক। প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা যখন বাংলার পারফর্ম্যান্সে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন, তখন মনোজ কিন্তু বড় মিসাইলটা ছুঁড়ে গেলেন সব শেষে। নাম না করে সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিশানা করেই বলে গেলেন, “শুধু আমাকে একা প্রশ্ন করছেন কেন। প্রশ্নটা ওঁদেরও করা উচিত।”

মনোজের কথামতো সেই ‘ওঁদের’ মাথায় যে সৌরভ-ই।