বিতর্ক সৃষ্টিতেও ডাহা ফেল ‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’

এসবিবি : লোকসভা নির্বাচন সামনেই। ভারতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সময়। আর ঠিক এই সময়টাকে প্ল্যাটফর্ম করে একাধিক বিতর্ক উসকে মুক্তি পেল পরিচালক বিজয় রত্নাকর গুট্টের ছবি ‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’।
সিনেমাটি নিজেকে তথাকথিত বোল্ড হিসাবে উপস্থাপন করতে কোনও কার্পণ্য করেনি। সত্যিকারের রাজনীতিবিদ ও আমলাদের নিয়ে এটাই বোধহয় বলিউডের প্রথম ফিকশন সিনেমা। সুতরাং এই সিনেমাটি অবশ্যই সুস্বাদু রাজনৈতিক ড্রামা হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়েছে অসম্ভব স্বাদহীন।

আরও পড়ুন-দিল্লিতে শুক্রবার শুরু হয়েছে বিজেপি’র ন্যাশানাল কাউন্সিলের দু’দিনের বৈঠক

 

মনমোহন সিংহের দু’দফার কার্যকাল দেখানো হয়েছে সিনেমায় এই সিনেমায়। দেখানো হয়েছে, 2004 থেকে 2014 পর্যন্ত ভারত একজন ‘দুর্বল’ প্রধানমন্ত্রী পেয়েছিল যিনি ইউপিএ চেয়ারপার্সন সোনিয় গান্ধীর ইশারায় চলতেন। সোনিয়ার ভূমিকায় রয়েছেন সুশান বার্নেট। সঞ্জয় বারুর লেখা মনমোহন সিংহের সঙ্গে তার কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে সিনেমাটি অনুপ্রাণিত।
গুট্টে দেখাতে চেয়েছেন, শ্রদ্ধেয় অর্থনীতিবিদের একজন অনাগ্রহী রাজনীতিবিদে রূপান্তরের সিনেম্যাটিক পোট্রেট এটা। যিনি অসম্ভব মৃদুভাষী। কিন্তু ভারতের দু’দফার একজন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে এ ধরনের ক্যারিকেচার কী উচিত?

আরও পড়ুন-চুমু নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ‘সিরিয়াল কিসার’ ইমরান হাসমি’র

 

ডক্টর মনমোহন সিংহের আমলে তাঁর মিডিয়া উপদেষ্টা ছিলেন সঞ্জয় বারু । তিনি মনমোহন সিংহের প্রথম কার্যকালে তাঁকে নিউক্লিয়ার ডিল নিয়ে কাজ করতে দেখেছেন। সিনেমটি নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে গিয়ে খবরের ফুটেজ ও দৃশ্য দেখিয়েছেন। বিশেষ করে মনমোহন সিংহের দ্বিতীয়ক কার্যকালের। এসময় 2G, CWG, কয়লা কেলেঙ্কারি এবং আন্না হাজারের দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন-“অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিষ্টার হয়েছে, এবার ডিজাস্ট্রাস প্রাইম মিনিষ্টার হওয়া উচিত” : মমতা

 

অক্ষয় খান্না রয়েছেন সঞ্জয় বারুর ভূমিকায়। রাহুল গান্ধীর ভূমিকায় অর্জুন মাথুরের বিশেষ কোনও ভূমিকা নেই। মাঝেমধ্যে তাঁর উপস্থিতি রয়েছে এই পর্যন্তই। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ভূমিকায় অহনা কুমরাও আরও কম উজ্জ্বল। একমাত্র অক্ষয় ছাড়া চোখে পড়েছে দিব্যা শেঠ শাহকে। তিনি মনমোহন সিংহের স্ত্রী গুরশরণ কৌরের ভূমিকায়।
কপিল সিব্বলের পারফর্ম্যান্স আদতে জিরো লস সাংবাদিক সম্মেলন। ছবিতে, অনুপম খের অনেক পরিশ্রম করেছেন ঠিকই। কিন্তু তাকে সিনেমায় ভালো লাগেনি। এক কথায় বলিউডের দাপুটে অভিনেতা অনুপম খেরকে নিশ্চুপ একটি চরিত্র একেবার বেমানান ঠেকেছে।

আরও পড়ুন-মুক্তির দিনেই শহরে বন্ধ হল ‘দ্য অ্যাক্সিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার’

ছবির সমালোচনা করে বলা যেতে পারে, পোস্টার থেকে ট্রেলার। মুক্তি নিয়েও বিতর্ক। বহু রাজনৈতিক মহলের মতামতও ‘অ্যাক্সিডেন্ট’-এর হাত থেকে রক্ষা করতে পারল না ছবিটিকে।

আরও পড়ুন-বাংলার রঞ্জি-স্বপ্ন ভাঙতেই বিস্ফোরণ মনোজের